Thursday, July 24, 2008

আমরাও পারি: গণহত্যা আর্কাইভের জন্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন

সুবিনয় মুস্তফী এবং নিঝুমের পোস্টের দ্বারা উজ্জীবিত হয়ে আপনাদের কাছে একটি আব্দার নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ গণহত্যা আর্কাইভ একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক সম্মিলিত উদ্যোগ

এই সাইটটিকে আরও তথ্যবহুল করার জন্যে আপনাদের সকলের সাহায্য প্রয়োজন। যে যে ক্ষেত্রে কাজ করা দরকার তা হলো:

× প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ যোগাড় করে লিপিবদ্ধ করা।
× বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সাময়িকীতে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত লেখার স্ক্যান্ড কপি বা (অনলাইনে হলে) লিন্ক যোগ করা।
× আরও ছবি যোগ করা, ফটোগ্রাফারদের পরিচয় সহ। ইতিমধ্যে প্রকাশিত ছবিগুলোর ফটোগ্রাফারদের পরিচয় জেনে তা যোগ করা।
× বিভিন্ন টিভিতে প্রচারিত ডকুমেন্টারির ভিডিও যোগ করা। চলচ্চিত্রের ট্রেইলার যোগ করা।
× বিভিন্ন তথ্যবহুল সাইটের লিন্ক আছে এতে। কিন্তু সাইটের মালিকদের সাথে অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগ করা যায় নি। আমরা চাই যে তাদের অনুমতি নিয়ে ঐসব সাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলোর ব্যাকআপ রাখা যাতে ডোমেইন এক্সপায়ার হয়ে তাদের তথ্য হারিয়ে না যায়। পারলে এই সাইটে তাদের জন্যে হোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা। এ জন্যে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করলে খুব উপকার হয়।
× আমাদের দরকার ইতিহাসবিদ, সমালোচক, যারা এই সাইটের কন্টেন্ট বিশ্লেষন করে ত্রুটিমুক্ত করবে এবং যে সব তথ্য অনুপস্থিত তা যোগ করবে।
× বিতর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও গবেষণা এবং বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে সত্য তথ্য উপস্থাপন।
× এর প্রচারের জন্যে আপনাদের সহায়তা দরকার। পত্রিকায় সংযোগ আছে যাদের তারা এটি নিয়ে আর্টিকেল ছাপাতে পারেন।

আপনারা হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন এই আর্কাইভের কেন দরকার। আমাদের চারপাশে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রচুর ম্যাটেরিয়াল আছে, আছে বই, দলিলপত্র। কিন্তু সেগুলো কি সহজে আপনারা পান যখন আপনার দরকার? অনলাইনে তথ্য থাকার একটি সুবিধা হচ্ছে আপনি মুহূর্তেই কোন তথ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। এই সাইটে আমরা শক্তিশালী সার্চ ফিচার এবং ট্যাগিং যোগ করেছি (এর প্রয়োগ পরবর্তীতে দেখতে পাবেন) যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে আকাঙ্খিত বিষয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে।

এই সাইটটি যেন ভবিষ্যতের গবেষকদের, সত্যান্বেষীদের জন্যে একটি তথ্য ভান্ডার হয়ে উঠতে পারে সেটিই আমাদের লক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত বিতর্ক এত রাজনীতি সম্ভব হয় কারন একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের অভাবে যে কেউ নতুন নতুন তথ্য প্রচার করে সবাইকে বোকা বানাতে পারে। পরবর্তীতে কোন প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেলে ইচ্ছে আছে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহতদের একটি সমৃদ্ধ ডাটাবেজ তৈরি করার।

আপনারা আপনাদের বক্তব্য ও উপদেশ মন্তব্যের স্থানে জানাতে পারেন। অথবা দয়া করে আমাকে ইমেইলে জানাতে পারেন। আমরা একটি গ্রুপমেইলের মাধ্যমে জানব ও আলোচনা করব এ সংক্রান্ত আপনার সাজেশন ও সবাই মিলে কি করে কাজগুলোকে এগিয়ে নেয়া যায় তা।

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ওবামার জনপ্রিয় স্লোগানটি আমি ধার নিচ্ছি এই দৃঢ় আশা প্রকাশ করার জন্যে যে 'আমরাও পারব'। এই বিশ্বাসটিই আসল। আশা করছি আপনাদের সাথে পাব। ধন্যবাদ।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Wednesday, July 23, 2008

ইন্টারনেট কি সুশীলদের দখলে?

বুদাপেস্টে গ্লোবাল ভয়েসেস সামিটের একটি সেশনে তুলে ধরা হয়েছিল যে ব্লগিং কিভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরছে। সেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাইজিং ভয়েসেসের কার্যক্রম যা বিশ্বব্যাপী প্রান্তীক ও দরিদ্র-সুযোগবিহীন সমাজকে ওয়েব ২.০ (ব্লগিং, চিত্র, ভিডিও, পডকাস্ট) ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের সুখ-দু:খের কাহিনী প্রকাশ করার কাজে রত বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষূদ্র অনুদান ও প্রশিক্ষন ইত্যাদি সাহায্য প্রদান করে।

গ্লোবাল ভয়েসেসের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলের (পশ্চিমা দেশগুলো বাদ দিয়ে) ব্লগারদের কন্ঠ ও তাদের মতামত তুলে ধরা যা প্রচলিত প্রচার মাধ্যম ছাড়া আরেকটি পরিপ্রক্ষিত দেবে ঐসব অঞ্চল সম্পর্কে জানার জন্যে। কিন্তু কিছূ দিন পরে দেখা গেল যে উন্নয়নশীল বিশ্বে সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্চমধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাই বেশী ব্লগিং করে। ফলে বিশ্ব যেন তাদের কন্ঠই বেশী শুনতে পায়। বিপুল পরিমাণ যে সুবিধাহীন জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া এইসব কথপোকথন অর্থহীন। সে অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই রাইজিং ভয়েসেস গত এক বছর ধরে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে এর ১৬টি প্রকল্প সফল ভাবে কাজ করছে।

এই প্রকল্পগুলোর এক একটি বিষয় বৈচিত্রে অভূতপূর্ব। নেইবারহুড ডায়রিজ কলকাতার বউবাজার অঞ্চলের (পতিতাপল্লীর) শিশূদের সিটিজেন জার্নালিস্ট হওয়া শেখাচ্ছে। বাংলাদেশের নারী জীবন ঢাকার কর্মজীবি নারীদের কারিগরী প্রশিক্ষনের পাশাপাশি ব্লগিংও শেখাচ্ছে এবং তারা আজ গল্প, কবিতা, রিপোর্টের মাধ্যমে তাদের অব্যক্ত কথাগুলো, তাদের ভাললাগাগুলো প্রকাশ করতে পারছে

এই বাংলাদেশী নারীরা ব্লগে লিখেন। আপনি কি তাদের লেখা পড়েন?

জামাইকার প্রিজন ডায়রিজ জেলের কয়েদিদের ব্লগিংয় শেখাচ্ছে ও তাদের কথা প্রকাশ করতে সাহায্য করছে - কোন পরিস্থিতিতে তারা এখানে আসলো, কেন অপরাধ করল, ভবিষ্যতে কি করবে ইত্যাদি। কেনিয়ার রিপ্যাক্টেড অগাস্তো বোয়ালের ইনভিজিবল থিয়েটার বা থিয়েটার অফ দ্যা অপ্রেসড এর আদলে অংশগ্রহণমূলক ম্যাগনেট থিয়েটার এবং আইসিটি ব্যবহার করে স্থানীয় ক্যাম্পের তরুণ-তরুণীদের বিহেভিয়ার চেন্জ সংক্রান্ত কাজ করছে।

এরকম প্রতিটি প্রকল্পই স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। এই প্রকল্পগুলো নিয়ে বানানো একটি ভিডিও ট্রেইলার দেখুন

সামিটে রাইজিং ভয়েসেসের প্রকল্পগুলো থেকে যে কয়েকজন এসেছিল (বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত নারী জীবনের তসলিমা ভিসা জটিলতার জন্যে আসতে পারে নি) তার মধ্যে একজনের কথাই বলব, ক্রিস্টিনা কিসবার্ট বলিভিয়ার প্রত্যন্ত অন্চলে থাকা একজন আদিবাসী মেয়ে যার নিকটবর্তী এল আল্টো শহরে যেতে ৫ ঘন্টা লাগে। সে তার ব্লগের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের সুখ, দু:খ ও সমস্যার কথা তুলে ধরছে। বলিভিয়ার প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রায় ত্রিশটি আদীবাসী সমাজ নিয়ে গঠিত অথচ সেদেশের প্রচার মাধ্যম তাদের গুরুত্ব দেয়না - কারন প্রচার মাধ্যম তো শিক্ষিত এলিটদের।

এই পরিস্থিতি আমাদের দেশেও বিদ্যমান আমাদের দেশেও অনেক আদিবাসী আছে, আছে অনেক গরীব লোক। তাদের সম্পর্কে আমাদের জানতে হচ্ছে বড়লোকদের, রাজনীতির মুখপাত্র প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে। তাদের বলার কোন প্লাটফর্ম আমরা দিচ্ছি না।

সামহোয়্যার ইন ব্লগে আমি গুটিকয়েক আদিবাসী ব্লগার দেখেছিলাম যাদের একজন মার্মা ভাষায় কবিতা প্রকাশের জন্যে কটুক্তির শিকার হয়েছিল। সেও ব্লগ পলিটিক্সেরই স্বীকার। হ্যা শব্দটি ইদানিং বেশ শোনা যাচ্ছে। আমরা রাস্তার সস্তা পলিটিক্সকেও ব্লগে টেনে আনছি।

যে কোন গণতান্ত্রিক পরিবেশের মূল বিষয়টি যেটি দরকার সেটি হচ্ছে সমাজের প্রতিটি মানুষের বাক স্বাধীনতার অধিকার। যে কোন কিছূতে একমত হবার জন্যে দরকার মুক্ত আলোচনা ও উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহ. দরকার ভিন্নমতকে সম্মান করা। সেটি যত্ক্ষণ না করতে পারছি ততক্ষণ আমরা সুষ্ঠু গণতন্ত্র পাব না।

বাংলাদেশের গরিব লোকেরা ব্লগিং করে মনের ভাব প্রকাশ করবে এমনটি এখনও সায়েন্স ফিকশন শোনালেও নিশ্চয়ই ফকিরের হাতে মোবাইল থাকবে এটি দশ বছর আগে এমনই শোনাত। ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে আমাদের বিপুল সংখক এনজিও ব্যাস্ত ও এ নিয়ে নাম নিজেরাই কামাচ্ছে। তবে যাদের জন্যে এ উদ্যোগ তারা কেমন আছে, তাদের ফিডব্যাক কি এসব কিন্তু গণমাধ্যমে আসে না (আসে হয়ত শেষ পর্যায়ে তারা সর্বসান্ত হলে বা সাফল্যমন্ডিত হলে)। তাদেরওকি মুক্তভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দিতে পারে না এইসব এনজিওগুলো ব্লগিং বা অন্য কোন ভাবে?

কিন্তু এই অপাংতেয়দের দাবিয়ে রাখতে পারলেই তো সুশীল সমাজের লাভ। আমরাতো এমনই দেখে আসছি। এ অবস্থার পরিবর্তন কি হবে?

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Tuesday, July 22, 2008

দানিয়ুবের মুক্তো, ব্লগারদের সম্মিলন এবং ই-বুক

দানিয়ুবের পারে বুদাপেস্ট

বুদাপেস্টে হাজির হয়েছিলাম গ্লোবাল ভয়েসেস সম্মিলনে অংশ নিতে। এয়ারপোর্ট শাটল (মাইক্রোবাস) এ চেপে হোটেলে পৌঁছে মাল পত্র রেখে ভর দুপুরে ঘুরতে বের হলাম। মনে হলো এতো ধুসর গোধুলি, হিমু, সুবিনয়দের দেশ। চারিদিকে লোকেরা স্বল্প বসনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী ক্ষীনকায় সুন্দরী ললনারাই তার মধ্যে বেশ চোখে পরছে। তাপমাত্রা তখন ত্রিশ ডিগ্রি - তাদের জন্যে তালপাকা গরম। সেটিও কারন হতে পারে তাদের এমন খোলামেলা পোশাকের জন্যে। ইউরো কাপের খেলা দেখে ম্যারাথন আড্ডা জমিয়ে দল বেধে রাত বারটার দিকে হোটেল ফিরতে গিয়ে দেখি বুদাপেস্টের রাস্তাঘাট তখনও ভরা হাট। তরুণ-তরুণীরা তখনও পার্টি মেজাজে। ভেনেজুয়েলার ব্লগার হুলিয়ানা রিন্কন মন্তব্য করল আগে জানতাম আমাদের ল্যাটিন সংস্কৃতি বেশ খোলামেলা, তবে এদের কাছে তা নস্যি।

বুদাপেস্টে কারা যায়বুদাপেস্টে কারা যায়

সম্মিলনে অংশ নিতে এসেছিল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গ্লোবাল ভয়েসেসের প্রায় একশ কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী লেখক, অনুবাদক, শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধূরা এবং এদের সবার মধ্যে একটিই মিল আছে সেটি হচ্ছে সবাই ব্লগার। সম্মিলনে আরও এসেছিল বিভিন্ন প্যানেল আলোচক, ইন্টারনেট জগতের পরিচিত কিছু তারকা, সাংবাদিক যারা আরও প্রায় শ খানেক হবে। নানা দেশের লোক মিলে বেশ কলকাকলী মুখর একটি ব্যাপার হলো।

সামিটে অংশগ্রহণকারীসামিটে অংশগ্রহণকারী

সম্মিলনের প্রথম তিনদিনের সূচীপত্রে ইন্টারনেট সিকিউরিটি, ব্লগারদের নিরাপত্তার মত গুরুগম্ভীর ব্যাপার থাকলেও (সে নিয়ে পরে আলাপ করব) পরবর্তী দুই দিন গ্লোবাল ভয়েসেস নিজস্ব মিটিঙে নানানরকম সংস্কৃতি বিনিময় আর অনানুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময় সবাইকে মাতিয়ে রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সম্পাদক নেহা খুবই মজার মেয়ে। সে সবাইকে দিয়ে বলিউডের নাচ নাচিয়ে ছাড়ল এক সেসনে।

গ্লোবাল পানীয়গ্লোবাল পানীয়

আরেকটি পর্ব ছিল পানীয় বিনিময়। বলা হয়েছিল সবাই যার যার দেশ থেকে একটি করে পানীয় নিয়ে আসবে। কেনিয়ার ব্লগার দাউদি ফ্লাইট আগে ছিল তাই চলে গিয়েছিল দুই বোতল হাতে ধরিয়ে এই বলে যে এগুলো কেনিয়ানরা জেলে গেলে খায়। বলাই বাহুল্য সবাই তাদের কড়া জিনিষ নিয়ে এসেছিল এবং সমাপনী পার্টিতে ওগুলো খোলা হলো। লেবাননের মুসা আর রাজানের পাল্লায় পরে ওদের পানীয় কিছুটা গলধ:করন করলাম। পানি দেয়ার সাথে সাথে ওটি কেমন সাদা হয়ে গেল। পান করার পরে বুঝলাম কি জিনিষ। কতক্ষন বসে ছিলাম। গায়ে আরবী লেখা দেখে বুঝতে পারিনি। পরে ভাল করে ছোট অক্ষরের লেবেল পড়ে দেখি আরাক - ৫৩% এলকোহল। এরকম ল্যাটিন আমেরিকা, পূর্ব এশিয়া, ইউরোপীয়ান অনেক নাম না জানা (স্ট্রঙ!) পানীয় ছিল সেখানে।

উপহার বিনিময়ও হলো। বলিভিয়া থেকে এডি আভিলা তৈরি করে এনেছে স্থানীয় আদিবাসীদের তৈরি কাপড় দিয়ে বানানো ল্যাপটপ ব্যাগ। আর পেরু থেকে হুয়ান আরেলানো এনেছে বিশালাকার সামুদ্রিক মাছের আঁশের উপর পেইন্টিং করা চাবির রিং।

দানিয়ুবের পারে বুদাপেস্টদানিয়ুবের পারে বুদাপেস্ট

এবার আসি দানিয়ুবের মুক্তো নামে অভিহিত বুদাপেস্ট শহরের পরিচয় পর্বে। দানিউব যে চারটি দেশের রাজধানী ( ভিয়েনা, ব্রাতিস্লাভা, বুদাপেস্ট আর বেলগ্রেড) দিয়ে গেছে সেগুলোর সংস্কৃতিগত ঐতিহ্য খুবই উল্লেখযোগ্য। দানিয়ুবের এক পাড়ে বুদা ও ওবুদা (ওল্ড বুদা) এবং অপর পারে পেস্ট শহর। এ তিন মিলেই ১৮৭৩ সাল থেকে হাঙেরীর রাজধানী বুদাপেস্ট। এখানে ভাষা নিয়ে পর্যটকদের খুব সমস্যা হয়- ইংরেজী অনেকে জানে না। তবে দেখা গেল জার্মান বললে কিছূটা কাজ হয়। কারন হয়ত হাঙেরী কিছু সময় অস্ট্রিয়ার নিয়ন্ত্রনে ছিল যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অবসান হয়। আরেকটি কারন হতে পারে যে অনেক জার্মান পর্যটক এখানে বেড়াতে আসে।

নতুন বুদাপেস্টনতুন বুদাপেস্ট

লম্বা সামিট শুরু হওয়া পর অবসর সময় কম ছিল বলে সামিটের সেশন ফাঁকি দিয়েও কিছু পর্যটন হলো। তবে অতৃপ্তি থেকেই গেল। আসলে দানিয়ুবের পারে বসে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়া যায়।

ভেনেজুয়েলার আরেক ব্লগার লরা ভিদাল সাহিত্যের ছাত্রী। অরুন্ধতী রায়ের উপর একটি ডিসার্টেশন জমা দিতে হয়েছে বলে সে ভারত উপমহাদেশের উপর বেশ পড়াশোনা করেছে। আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পর্কে সে জানতে খুবই আগ্রহী। কিন্তু (রবীন্দ্রনাথ ছাড়া) সে বাংলা কোন সাহিত্যই পড়ে নি। আমাকে পেয়ে তার প্রশ্নবাণ শুরু হলো। আমি তাকে বাংলাদেশের ব্লগিংয়ের সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে বললাম। সে খুবই অবাক এবং সাথে সাথে আনন্দিতও হলো যে আমাদের অনলাইন রাইটার্স ফোরাম রয়েছে এবং (সচলায়তনে) নিয়মিত সাহিত্যের উপর ইবুক প্রকাশিত হয়। সে আক্ষেপ প্রকাশ করল যে তাদের সাহিত্য সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন ব্লগ থাকলেও এমন উদ্যোগ তাদের বিশাল ব্লগোস্ফিয়ারে কেউ নেয় নি।

সচলায়তনের বছর পূর্তি উপলক্ষে এর পেছনের সৃহৃদদের অভিনন্দন জানিয়ে বলছি যে আপনাদের কষ্ট বৃথা যায় নি। অবশ্যই বলে বেড়ানোর মতো কিছু অর্জন হয়েছে।



প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Friday, June 13, 2008

আজকের কিছু নির্বাচিত লেখার তালিকা

× গুগল অ্যাডসেন্স আর বাংলা সাপোর্ট করছে না
× সামাজিক
× আমার ব্লগ বিতর্ক-১: সম্পাদক মতিউর রহমানের সাম্প্রতিক ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ নয়
× রিকশাচালকদের গানের প্রতিযোগিতা "তিন চাকা"র অডিশন ১৩ই জুন মাদারটেক আব্দুল আজিজ হাইস্কুলে
× অনলাইন বৈঠকঃ প্রবাসে লেখার উপকরণ সংকট
* বাংলাদেশ নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা করছে: বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ২৮

Wednesday, March 12, 2008

গীতিকবিতায় প্রতিবাদ

গীতিকবিতার আভিধানিক অর্থ গীতধর্মী আত্মনিষ্ঠ কবিতা। এই মাধ্যমটি ঐতিহ্যগত ভাবে আমাদের সংস্কৃতিতে বিচরণ করেছে। মহাকাব্য সৃষ্টির পরবর্তী সময় হতেই এটি লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন কাহিনী নিরক্ষর লোকদের মুখে মুখে যুগের পর যুগ উচ্চারিত হয়ে জীবন্ত থাকত।
এমনি ভাবে ইংরেজী সাহিত্যেও রয়েছে ব্যালাডস বা স্প্যানিশ ভাষায় রোমান্সেস।

তবে এসবের অবতারণা জামাইকান গীতিকবিতা বা ডাব পোয়েট্রি সম্পর্কে বলার জন্যেই।

এই নবীন মাধ্যমটির উৎপত্তি ১৯৭০ সালে। এটি আসলে আফ্রিকান বাচিক ঐতিহ্যেরই সম্প্রসারণ এবং রেগ্গি সংস্কৃতির ফিউশন। কবিতা উচ্চারনের সাথে সাথে ড্রাম বা অন্যান্য বাদ্য ব্যবহার করে ছন্দের গতিময়তা রাখা হয়। সঙীতের রিদমকে কবিতার মধ্যে ডাব করা হয় বলেই এর নাম ডাব পোয়েট্রী।

এর সাথে শ্রোতার সম্পর্ক সরাসরি। কারন তারাও গায়ক বা পাঠকের সাথে গলা মেলায় বা প্রশ্নের উত্তর দেয়।

ডাব পোয়েট্রির বৈশিষ্ট হচ্ছে এর বিষয়বস্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক বিচার ব্যবস্থা নিয়ে এবং এটি কোটি কৃষ্ঞ্চাঙের প্রতিবাদের একটি কণ্ঠ হয়ে দাড়িয়েছে। এবং প্রখ্যাত জামাইকান রেগ্গি গায়ক বব মার্লির সঙীতের প্রভাব খুব রয়েছে। বব মার্লির গানের মতই ডাব পোয়েট্রিতে গীত হয় সাদাদের অধীনত্ব, পশ্চিমাদের দমন, বস্তিবাসীদের জীবন, সমতা, ন্যায় বিচার ইত্যাদি সামাজিক বিষয়গুলো।


আজকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি অন্যতম জামাইকান মহিলা গীতিকবি জ্যঁ বিনতা ব্রিজ এর সাথে। ১৯৫৬ সালে জামাইকার একটি গ্রামে জন্ম তার এবং পরবর্তীতে কিংস্টনে জামাইকান স্কুল অফ ড্রামায় পড়েছেন। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি বছরের বেশীরভাগ সময়ই লন্ডনে থাকেন। তিনি একাধারে নাট্যপরিচালক, অভিনেত্রী, শিক্ষক এবং কোরিওগ্রাফার। বর্তমানে স্কিজোফ্রনিয়াতে ভুগলেও তার পারফর্মেনস চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সাক্ষাৎকারে তার পাগলামো নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন।

তার কবিতা তৃতীয় বিশ্বের কথা বলে, নারীর কথা বলে। তার মতে শিল্পীদের বিবেক জাগ্রত করে বাস্তবতাকে তুলে ধরা উচিৎ। ইউরোপ, আমেরিকাকে প্রায়ই অভিযুক্ত করেন আফ্রিকায় অস্ত্র সরবরাহের জন্যে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সামরিক অভ্যুত্থানের জন্যেও তাদেরই দায়ী করেন। তার জনপ্রিয় কবিতাগুলোর একটি: 'Aid' এর কিয়দংশ:

Four hundred years from the plantation whip
To the IMF grip
Aid travels with a bomb
watch out
Aid travels with a bomb
They rob and exploit you of your own
then send it back as a foreign loan
Interest is on it, regulations too
They will also
decide your policy
for you.

ডাব পোয়েট্রীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিপীড়িত অসহায়দের তুলে না ধরে "শত্রুদের" দিকে কথ্য আক্রমণ শানিত করা। এই জন্যেই ডাব পোয়েট্রী এখন প্রতিবাদের ভাষা, কোটি লোককে জাগানোর একটি শিল্প।

ইউটিউবে জঁ বিন্তা ব্রীজের একটি ডাব পোয়েট্রী পারফর্মেন্স:

না দেখা গেলে এখানে ক্লিক করুন

এই পাতায় তার কিছু অডিও রেকর্ডিং রয়েছে।



প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

বাংলা ব্লগ পরিক্রমা -১

বিশেষ একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় গত কয়েক মাস লিখতে পারিনি। তবে দেরীতে হলেও বিবিধ ব্লগের লেখা পড়ার সময় করে নিয়েছি এবং দেখলাম যে অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভাল লেখাগুলো খুঁজে বের করা বেশ সময় ও কষ্টসাধ্য। তাই হঠাৎ করেই মাথায় আইডিয়াটি এল যে একটি ব্লগ পরিক্রমা করলে কেমন হয়! এর সাহায্যে যাদের সময় কম তারা শত শত লেখার ভীড়ে উল্লেখযোগ্য লেখাগুলো পড়ে নিতে পারে।

এখানে আমি শুধু লেখাগুলোর কিয়দংশ তুলে দিচ্ছি, লিন্ক ধরে উল্লেখিত ব্লগ গুলোতে গিয়ে পছন্দ মতন সম্পূর্ণ লেখা পড়ে নিবেন আশা করি।

সাংবাদিক আক্কাস বাংলা ভাষা ও ভাষা বিষয়ক চিন্তাভাবনা তার ব্লগে তুলে ধরেন। তার সাম্প্রতিক লেখা বাংলা "হরফের রেখা আর চতুষ্কোণ" এ বাংলা হরফের অদৃশ্য নকশা সম্পর্কে আলোকপাত করছেন

'আমার কিছু বক্কা' ব্লগের 'দ্যা হিডেন গড' পশ্চিম বঙের বাংলাভাষীদেরকে বাংলা উইকিপিডিয়াতে অংশগ্রহণ করার জন্যে আহ্বান জানিয়েছেন:

"বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকেরা যদি বাংলা উইকিপিডিয়ার উন্নতিতে এগিয়ে আসতে পারেন তাহলে আমরাই বা কেন পিছিয়ে থাকব?"

বাংলাদেশের আইটি জগতের এক তারকা অমি আজাদ তার ব্লগে জানাচ্ছেন যে ওয়েবে নতুন ভোটার তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে:

"একজন ভোটার এখন www.voterlist.gov.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে ঢুকে তাঁকে দেওয়া পিন বা ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর, জন্ন তারিখ এবং ওয়েব পাতায় থাকা নিরীক্ষা সংকেত লিখে তার নিজের ভোটারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখতে পারবেন। আর তথ্য-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই অনুরোধ করতে পারবেন।"

দৃষ্টিপাতের নতুন বাংলা ব্লগ 'না বলা কথা'য় জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক তার সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনার পর ভক্তদের জানান দিচ্ছেন "আমি বেঁচে আছি":

"শত্রুর মুখে দিয়ে ছাই, আমার প্রাণহানির কোনো আশংকাই আপাতত নাই।"

তার সরেস লেখাটি পুরো পড়তে ভুলবেন না।

ভদ্র তার এক আক্ষেপের কথা জানাচ্ছেন। নিশ্চয়ই এই আক্ষেপ আরও অনেক বাংলাভাষীরই:

"অপ্রতিদ্বন্দী দেশ এবার এগিয়ে যাচ্ছ শতবর্ষের দিকে। দেশ পত্রিকাকে আমার অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

আর আমার বিনীত প্রশ্ন - “দেশ পত্রিকা কবে অনলাইন হবে?”

হলের খাওয়া সম্পর্কে আমাদের সবারই বিভিন্ন গল্প জানা আছে। হিডেন হার্ট এর কাছ থেকে শোনেন পান্তার নতুন কাহিনী:

"মাছের সাইজ অনুমান করতে করতে তিন চার চামচ ঠান্ডা ভাত উঠিয়ে ফেলেছি প্লেটে। এর পর প্লেটে হাত দিয়েই দেখি হাত ভেজা ভেজা লাগে!! ভাতের মধ্যে পুরা আঙ্গুলের দুই কর পানি! পানি হয়েছে তাই কি! কোন ব্যপার না। ঠান্ডা ভাতে পানি পড়াতে কেমন পান্তা পান্তা ভাব হয়েছে। সাথে আছে শুকনা মরিচের আলুভর্তা আর ইলিশ(আসলে ইলিশ ফ্লেভারের পুটি)। ভাবলাম- ভালইতো , আজ পান্তা ভাত দিয়েই ইলিশ মাছ খাব!"

পান্তাটি আসলে কিভাবে তৈরি তা জানতে পারবেন পুরো লেখাটি পড়লে।

ইশতিয়াক জিকোর ব্লগ 'জিকোবাজিতে' প্রকাশিত ১১ কিস্তির ইউনিকোড পাঠ অনেকেরই রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।

আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আরও বাংলা ব্লগকে তুলে ধরার আশা রাখি।

(ছবির জন্যে কৃতজ্ঞতা)

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Tuesday, January 08, 2008

বিদেশী খেদাও

মিউনিখের ট্রেন স্টেশনে সংঘটিত সাম্প্রতিক এক ঘটনা জার্মানীতে বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক গ্রীক এবং এক তুর্কী যুবক স্টেশনে এক পেনশন ভোগী বৃদ্ধকে লাথি মেরে আহত করে যা সিসিটিভির ভিডিওতে ধারন করা হয় এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখানো হয়। এই চিত্র সারা ক্রিসমাস জুড়ে টিভি চ্যানেলগুলোতে বার বার প্রচারিত হতে আমি দেখেছি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে কারাগারে থাকা এই বিদেশীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হোক এবং সব বিদেশী অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হোক।

ব্যাপারটি এখানেই শেষ নয়। পশ্চিমের হেসে স্টেটের গভর্নর রোলান্ড কখ সম্প্রতি বলেছেন যে জার্মানীতে বিদেশী অপরাধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে। তার মতে জার্মানীতে বসবাসকারী বিদেশীদের ভদ্র আচরণ করা উচিৎ এবং মারামারির সংস্কৃতি পালন করা উচিৎ নয়। এভাবেই একটি সভ্য দেশের লোকেরা আচরণ করে।

তবে উনি হয়ত ভুলে গিয়েছেন যে গত আগষ্টে জার্মানীর পূবের মুগেলন গ্রামে আট ভারতীয়কে ৫০ জন জার্মানের একদল হাঙামাকারী নির্মমভাবে পিটিয়েছিল। তারা কিন্তু কোন নিও নাৎসী দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, গ্রামের সাধারণ মানুষ ছিল, যারা এই বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছিল।

যারা বিদেশী অপরাধীদের তাড়ানোর ব্যাপারে সোচ্চার তারা কিন্তু কখনও এ ব্যাপারে মুখ খুলবেন না যে ঐ ৫০ জন লোক কিভাবে বিনা বিচারে পার পেয়ে গিয়েছিল। তাদের গ্রেফতার করার পর তাদের নেতা বাদে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয় এক ঘন্টার মধ্যে। এই নেতাকে পরে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৬০০ ইউরো ফাইন করা হয়। যেহেতু সেই নেতা সোশ্যাল সিকিউরিটির ছাতায় আছে সে ঘোষণা করল এই ফাইন দিতে সে অক্ষম এবং ফলে স্টেট এক বছর ধরে তার ফাইন পরিশোধ করবে।

দক্ষিনপন্থী সাইট স্টোর্টেবেকার নেটজ এই আট ভারতীয় দের দেখে নেয়ার ব্যাপারটিকে একটি ছোটখাট বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে মুগেলনের মত গ্রাম মাল্টিকালচারিজম থেকে অনেকাংশে মুক্ত তাই এই উপযুক্ত কাজ করতে পেরেছে (উৎস)

তবে সব চেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে কট্টর দক্ষীণপন্থী রাজনৈতিক দল এনপিডি যাদের মতে "আফ্রিকান, এশিয়ান ও ওরিয়েন্টাল" কেউই কখনো জার্মান হতে পারবে না ঘোষনা দিয়েছে:

উদ্ধৃতি
"জার্মানী জার্মানদেরই থাকা উচিৎ যাতে আমাদের সন্তানদের আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের মত ভাগ্য বরন করা উচিৎ নয় যারা অভিবাসীদের ব্যপক অনুপ্রবেশের ফলে সংখ্যালঘু হয়ে যায়।"

মোটামুটি এই হচ্ছে জার্মানীতে বিদেশীদের প্রতি সাধারণ জনমত। এখন সমস্যা হচ্ছে বিদেশীদের গায়ে তো লেখা থাকে না কে এখানে পর্যটক, বা ক্ষন সময়ের জন্যে এসেছে বা অভিবাসী। ফলে টুরিস্ট এলাকার বাইরে গেলেই আসল পরিস্থিতি বোঝা যায়। যারা পশ্চিমের দিকে থাকেন তাদের খবর জানি না কিন্তু পূবের দিকে অনেক বিদেশী কেই অদৃশ্য বর্ণবাদের ব্যাপারে কথা বলতে দেখা গেছে। আমি নিজেও বার কয়েক খারাপ ব্যবহার পেয়েছি মাল্টিকালচারাল বার্লিনে যার কোন ব্যাখ্যা সহজে পাই নি। তবে অবশ্যই এটি কিছু সংখ্যক লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ - এর সরলীকরন উচিৎ হবে না।

বার্লিনের প্রান্তে অবস্থিত একটি মিউজিয়ামে (House of the Wannsee Conference) গিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিলাম। ইহুদিদের গণ হারে দেশ থেকে উৎখাত করা এবং পরবর্তীতে মারার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ১৯৪১ সালে অনুষ্ঠিত এখানকারই এক কনফারেন্সে

এই মিউজিয়ামে রয়েছে জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের সেই ইতিহাস। নাৎসিজম বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষকে জাতিগত কিছু হায়ারার্কীতে ফেলে দেয়। যার উপরের দিকে রয়েছে জার্মানিক/নর্ডিক এবং আর্যরা (কোন কোন ক্ষেত্র সমার্থক) এবং নীচের দিকে ছিল পরজীবি জাতিরা (Untermenschen)

জার্মানরা খুবই গর্বিত জাতি। তারা তাদের পার্ফেকশন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। এই ধারনাকেই পুঁজি করে কখের মত লোক নতুন করে বিদেশীদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছেন। ইতিহাস থেকে লোকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এটি সবাই বলে। ফলে ভবিষ্যতে নাৎসীজমের পূনরাবির্ভাব (যদিও এটিকে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা আছে) হতেও পারে।

জার্মানীর প্রায় ১৮% জনসংখ্যা বিদেশী (দেড় কোটি) যার অধিকাংশই তুর্কী বংশোদ্ভূত। জার্মান নাগরিক হওয়া খুবই দুরুহ ব্যাপার এবং এজন্য তাদের অনেকেরই ভোটিং রাইট নেই (যদিও স্থায়ী বসবাস যোগ্যতা আছে)। তারা এই দক্ষিনপন্থীদের জাগরণকে কিভাবে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করবেন এটাই দেখার বিষয়।