Sunday, November 30, 2008

বকের ভাস্কর্য ভাঙ্গে যে সব বক ধার্মিক তাদের জন্যে

ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু জঙ্গী মৌলবাদীরা নিপাৎ যাক। আজকে বলাকার ভাস্কর্য ভেঙ্গে তারা প্রমাণ করল তাদের মত মতলববাজ, ধর্মকে ব্যবহার করে নতুন মতবাদ সৃষ্টিকারী, জালেম এই দুনিয়ায় আর নেই। তাদের জন্যে রইল মুসলিম জাহানের বিভিন্ন ভাস্কর্যের নিদর্শন। বুকের পাটা থাকলে ঐগুলি আগে ভেঙ্গে তারপর কথা বলতে আসুক।

জেদ্দায় উটের মুর্তি

সিরিয়ায় মুসলিম বীর সালাদিনের ভাস্কর্য

এখানে দুবাইয়ের মুর্তি:
Click This Link
Click This Link

এখানে কুয়েতের মুর্তি:
Click This Link


বাহরাইনের ঈগলের মুর্তি:

ইন্দোনেশিয়ার হাজারো মুর্তির একটি:
http://www.flickr.com/photos/sebr/2370290682/

পাকিস্তানে মুর্তি:
http://www.flickr.com/photos/asadk/174344040/

ঐসব দেশে যায়েজ হলে আমাদের দেশের কোন বড় ইসলামী চিন্তাবিদরা এ নিয়ে তাদের মুর্খতা দেখাতে আসে?

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Wednesday, November 26, 2008

অথ: ডিম সমাচার

ডিমের উপর ছাপানো কোড
আমার যদিও জার্মান টিভি বেশী দেখা হয় না তবে মাঝে মধ্যে কোন ডকুমেন্টারী হলে বসে চ্যানেল পাল্টানোর অভ্যাস ত্যাগ করে বসে পরি দেখতে। কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সত্যিই দুর্দান্ত হয়।

সেরকমই একটি প্রতিবেদন দেখছিলাম কাল। এদেশে (ইউরোপের অনেক দেশেই) প্রতিটি মুরগীর ডিমে একটি করে কোড সিল মারা থাকে যা থেকে বোঝা যায় কোন দেশ থেকে এটি এসেছে, কোন ফার্ম থেকে এবং এটি কিভাবে উৎপন্ন হয়েছে। চার ধরনের ডিম সাধারণত: বিক্রি হয়, খাঁচায় বদ্ধ মুরগী, আবদ্ধ যায়গায় পালা মুরগী, খোলা উঠোনে চড়া মুরগী এবং অর্গানিক ভাবে পালা মুরগী থেকে উৎপন্ন ডিম। এবং দামের হেরফেরও বেশ - খাঁচায় বদ্ধ মুরগীর ডিমের চেয়ে দ্বিগুণ দাম খোলা উঠোনে চড়ে খাওয়া মুরগীর ডিমের এবং অর্গানিক আরও বেশী। কারন অর্গানিকভাবে উৎপন্ন ডিমের জন্যে নাকি মুরগীকে ইচ্ছামত চড়তে দিয়ে খুশী রাখতে হয় আর অর্গানিক খাবার খাওয়াতে হয়। আজকাল অর্গানিক খাদ্যের প্রতি ইউরোপীয়ান লোকজনের আগ্রহের কারণে এদের বাজার খুবই রমরমা।

প্রতিবেদনে এইসব মুরগীর ডিম আসলেই ঘোষণা অনুযায়ী সঠিকভাবে উৎপন্ন হয় কি না সেটা পরখ করে দেখা হয়েছে। ইন্টারনেট থেকে একটি অর্গানিক মুরগীর ডিমের কোড থেকে তারা ফার্মটির অবস্থান বের করে সেখানে তদন্তে যায়। ফার্মটির ওয়েবসাইটে লেখা আছে প্রতিটি মুরগীর জন্যে ৪বর্গ মিটার জায়গা নিশ্চিত আছে এবং তারা সর্বদাই হাসিখুশী থাকে। অথচ সরেজমিনে দেখা গেল বিস্তীর্ণ ফার্ম এলাকার উঠোনে একটিও মুরগী নেই। বিশাল ফার্মহাউজের মধ্যে এক রুমে গাদাগাদি করে রাখা মুরগী। ফ্যাক্টরির লোকজন অপ্রস্তুত টিভি ক্যামেরা দেখে। তাদের দেখা গেল বিপুল পরিমান ডিম বিপণনের জন্যে মোড়কজাত করতে। দশ মিনিট খোঁজার পর বাইরে গুটি কয়েক মুরগি পাওয়া গেলেও তারা সুখী কিনা বোঝা গেল না। বরং দেখা গেল তাদের কয়েকটি অসুস্থ। ফার্মটির কর্মচারীরা কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করে। পরে এক লিখিত জবাবে ফার্মের মালিক বলে উঠোনে বেড়া দেওয়ার কাজের জন্যে এক সপ্তাহ ধরে মুরগীগুলোকে ফার্মের ভেতরে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদকরা আরেকটি ফার্মে যায়। সেখানেও একই অবস্থা। বাইরে কোন মুরগী নেই। তারা বলে খারাপ আবহাওয়ার জন্যে মুরগীকে ভেতরে রাখা হয়েছে। আসে পাশের লোকদের জিজ্ঞেস করে জানা গেল তারা বাইরে মুরগী চড়তে দেখে না।

ডিমের মোড়কে একটি মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সীল আছে। প্রতিবেদকরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা বলে ঠিক আছে আমরা তদন্ত করে দেখছি কারন মালিক আমাদের জানায়নি যে তাদের ওখানে কোন সমস্যার জন্যে মুরগীকে ভেতরে রাখছে। সরকারের মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে যে এইসব মান নিয়ন্ত্রণ বেসরকারী পর্যায়ে হয়ে থাকে বলে আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তারাও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

কেন যেন বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি দেখলাম পুরো ব্যাপারটিতে। তবে এই প্রতিবেদনটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পেটা আবিস্কার করেছে বার্লিনের এক ফার্মে প্রায় তিন লাখ ডিম এভাবে ভুলভাবে স্ট্যাম্প করে বেশী দামে বিক্রি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সাথে পার্থক্য এখানেই, এখানে এই সব প্রকারকদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের পর হয়ত কঠিন শাস্তি হবে আর আমাদের দেশে এর চেয়েও মারাত্মক প্রতারণার ঘটনার পরেও তারা আইনের ফাঁক ফোকর গলে বাইরে বেরিয়ে আসবে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Wednesday, November 05, 2008

বিডিনিউজ২৪.কম এ ভিডিও প্রকাশ

আজকে বিডিনিউজ২৪.কম সাইটে দুটো ছোট ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ডালেস এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে বিদায় জানানো দেখানো হয়েছে প্রতিটি প্রায় ৮ সেকেন্ড করে (প্রায় ৩ মেগাবাইট আয়তনের) এই দুটি ভিডিওতে। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর স্বল্প ব্যান্ডউইথের কথা চিন্তা করেই হয়ত ভিডিওগুলো ছোট রাখা হয়েছে।

মাল্টিমিডিয়ার এই ব্যবহার অবশ্যই একটি ভাল উদ্যোগ। আশা করব তারা ভবিষ্যতে আরও অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করবে তাদের সংবাদ কাভারেজে।

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Friday, October 31, 2008

বার্লিন: গল্পের শহর, অথবা শহরটা নিজেই গল্প - ২

ফেস্টিভ্যাল অফ লাইটস:

বিশ্বের অনেক স্থানেই আলোক উৎসব পালন করা হয় বিভিন্ন রুপে। ভারতে দিওয়ালী বা নেপালে দীপাবলী ধার্মিক উৎসব হিসেবে অনেকে দেখলেও এটি আসলে এখন সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবেরই অংশ হয়ে গেছে। ইরানের নববর্ষের (নরোজ) সময়ও তারা আলোক উৎসব করে থাকে। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আলোক উৎসবের মধ্যে রয়েছে ইহুদিদের হানুকা উৎসব, ফরাসীদের ফেত দে লুমিয়েখ (যা প্লেগ থেকে বাঁচতে মা মেরীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত) যেগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে উদযাপিত হয়।

জন্ডারমেনমার্কট 
জন্ডারমেনমার্কট

উপরের এই ভুমিকার কারন হচ্ছে আজকে বার্লিনের ফেস্টিভাল অফ লাইটসের কথা বলব। প্রতি বছর তারা অক্টোবরের দ্বিতীয় ভাগে এই আলোকসজ্জার আয়োজন করে। এর ঐতিহাসিক পটভুমি খুঁজে পেলাম না তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি পর্যটন উদ্যোগ। যেমন তাদের এবারের পর্যটন স্লোগান "Be Berlin" এর যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে।

তবে যাই হোক জার্মানরা যা করে তা অনেক পারঙ্গমতার সাথেই করে এবং এই বৈশিষ্টই তাদের এগিয়ে যাবার কারন। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই বাসার কাছাকাছি আকাশে মেঘের গায়ে দুর থেকে সার্চ লাইট পড়তে দেখেছি। ভাবছিলাম এ আবার কি। এই ফেস্টিভ্যালের কথা খেয়াল ছিল না তবে শেষ পর্যন্ত দেখতে যাওয়া হলো এক রাতে।

জিগেসজয়েলে-ভিক্টরি টাওয়ার 
জিগেসজয়েলে-ভিক্টরি টাওয়ার

শহরের সব পর্যটন আকর্ষণগুলো অপূর্ব আলোক সজ্জায় পূর্ন হয়ে গেছে। শহরের প্রধান রাস্তায় ক্রিসমাসের আলোকসজ্জা যেন এখনই শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্রের দিকে গিয়ে সার্চ লাইটের ব্যাপারটি খোলাসা হলো। ইউরোপা সেন্টারের কাছে এক উঁচু বাড়ী থেকে বিশাল সব সার্চ লাইচের আলো চারিদিকে দুরদুরান্তে ও আকাশে ফেলা হচ্ছে। সাথে সবুজ লেজার লাইট ও রয়েছে। আকাশে মেঘ ছিল বলে অপূর্ব দৃশ্য ছিল সেটি। আমার পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরায় এই আলোকসজ্জাগুলোর কিয়দংশও আসে নি।

ফরাসী চার্চ 
ফরাসী চার্চ

সাথে সাথে আরেক মজার ব্যাপার দেখলাম। কাধে ট্রাইপড হাতে অসংখ হবি ফটোগ্রাফাররা ছুটেছে। পরে এক জার্মান ব্লগ থেকে কিছু লিন্ক পেলাম। সেখানে উল্লেখ করা ছিল যে আপনারা এই ফেস্টিভ্যালের ছবিগুলোতে যেমন দেখছেন তেমন সুন্দর আপনি কাছে থেকে কখনই দেখতে পাবেন না। সত্যিই তাই। কারন বার্লিন ডোম ও উন্টার ডেন লিন্ডেন ছিল লোকে লোকারণ্য। ওখান থেকে কোনকিছুই ভালভাবে দেখতে পারিনি যেমন এই ফ্লিকারে আপলোড করা ছবিগুলো দেখাচ্ছে:

ফ্লিকারে বার্লিন ফেস্টিভ্যাল অফ লাইটস

বিশ্বজুড়ে রাতের বেশ কিছূ অসাধারন ছবি

পাতা ঝরার দিন:

শীত চলে আসছে দ্রুত। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পাতা ঝরার খেলা দেখলাম। এ সময়টা সত্যিই খুব অন্যরকম লাগে। ঝিরিঝিরি বাতাস বয়ে যাচ্ছে আর নানা রকম ভাবে ঘুরে ঘুরে পাতাগুলো পড়ে যাচ্ছে গাছ থেকে। সবুজ, হলুদ, বাদামী ইত্যাদি রংয়ের মিশ্রনে অপূর্ব দৃশ্য। সাথে মৃদু পাতা ঝরার শব্দের দ্যোতনা। এমনিতে বোঝা যায়না। কিন্তু হঠাৎ করে খেয়াল করলে মুগ্ধ হয়ে কতক্ষণ দাড়িয়ে শুনি।

ঝরা পাতা 
ঝরা পাতা

আমার মেয়ের কিন্ডারগার্টেনের সামনে অনেকগুলো মেপল গাছ আছে। সেগুলো বিশাল বিশাল পাতা নীচে পড়ে এমন অবস্থা হয় যে রাস্তাঘাট সব ঢেকে যায়। প্রতিদিন তাই দেখি রাস্তার কোনায় পাতাগুলো জড়ো করে রাখা। জার্মানরা খুবই প্রযুক্তিপ্রেমী জাতি। তাই চিরাচরিত ঝাটার বদলে পাতা সরাতে তারা ব্যবহার করে শক্তিশালী ব্লোয়ার। এর পর মাঝে মাঝে বড় ট্রাক এসে সাকশন পাইপের মত আরেকটি ব্লোয়ার দিয়ে রাস্তার কোনা থেকে সেগুলো তুলে নেয়।

পড়ে থাকা আপেল 
পড়ে থাকা আপেল

এই সময়টা হচ্ছে আপেলের। এ মাসের প্রথমে জার্মানীর দক্ষিণে লেক কন্সট্যান্স এলাকায় গিয়েছিলাম এবং ওখানকার আপেল গাছের ছড়াছড়ি দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। রাস্তার ধারে বাড়ীর আঙ্গিনায় আপেল গাছে টসটসে আপেল ঝুলছে, কিছু পড়ে আছে। কিন্তু হয়ত পেড়ে খাবার লোক নেই। আমরা যেখানে থাকি সেই এপার্টমেন্ট কম্প্লেক্সের পেছনে তিনটি বিল্ডিংয়ের জন্যে অনেক গাছ গাছালীতে ঘেরা বাচ্চাদের জন্যে একটি খেলার জায়গা। এই তল্লাটে মনে হয় শিশুদের সংখ্যা কম তাই সেখানে লোকজন দেখা যায়না বললেই চলে। টেবল টেনিসের টেবলটায় ছাতা পড়ে আছে, পাশে শেওলা পড়া চেয়ার। বহুকাল কেউ মাড়ায় না এ পথ। আমার মেয়ে সুইংয়ে চড়বে বলে বায়না ধরে মাঝে মাঝে তাই ইদানীং সেখানে যাওয়া হয়। মাসখানেক আগে আবিস্কার করলাম প্লে গ্রাউন্ডের পাশে একটি গাছে ছোট ছোট এক ধরনের ফল হয়ে রয়েছে। পেড়ে পর্যবেক্ষণ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি নিষেধ করে আবার কোন নিয়ম আছে কিনা ভেবে করা হয়নি। সেদিন দেখি ফলগুলোর অনেকগুলোই পেঁকে বেশ কিছু মাটিতে পড়ে রয়েছে। বুঝলাম এটি ছোট সাইজের এক ধরনের আপেল। বাড়ীতে এনে খেয়ে দেখলাম টক টক কিন্তু খেতে মন্দ নয়। এই বোধহয় ধনী ও গরীব দেশের মধ্যে পার্থক্য। ওখানে লোকে খেতে পায়না। এখানে খাবার পড়ে নষ্ট হয়, খাবার লোক নেই।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Saturday, October 25, 2008

বাংলাদেশের ভোট: পুরস্কারপ্রাপ্ত একটি ইগভার্নেন্স সাইট

বাংলাদেশের একটি এনজিও সুজন (সুশাসনের জন্যে নাগরিক) বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্যে উল্লেখযোগ্য কাজ করে চলেছে।

বেশ কয়েক বছর আগে তারা প্রথমে অনলাইনে তুলে ধরে ২০০০ সালের ভোটার তালিকা, যাতে লোকে সার্চ করে তাদের তথ্য সঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করতে পারে।


সম্প্রতি হয়ে যাওয়া সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংস্থা একটি ব্যতিক্রমী ওয়েবসাইট তৈরি করে যার নাম বাংলাদেশের ভোট। এর উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের প্রার্থী সম্পর্কে সেইসব বিষয় তুলে ধরা যা একজন ভোটারকে তাকে ভোট দেবার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল:

১) প্রার্থীর আয়কর রিটার্নের তথ্য , নির্বাচনের ব্যয়ের উৎস , এফিডেভিট
২) প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের তথ্যাদির তুলনা
৩) একটি দুর্নীতির সংবাদের আর্কাইভ (জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সন্ত্রাস, দুর্নীতি ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যের সংকলন) যাতে সার্চ পদ্ধতি যোগ করা আছে, কোন প্রার্থীর প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা তা বের করার জন্যে।
৪) একটি আলোচনার ফোরাম
৫) বিভিন্ন দলিল

এ ছাড়াও তারা ভোটাররা কিভাবে আদর্শ প্রার্থী নির্বাচন করবে তা নিয়ে একটি শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ করে:



ঝর্ণার গান ব্লগের আফরুজ জানাচ্ছেন যে উল্লিখিত এই Votebd.org সাইটটি সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার মন্থন পুরস্কার পেয়েছে ইগভার্নেন্স ক্যাটেগরীতে।


ছবিতে সামহোয়ারইনের ব্লগার রুবনকে দেখা যাচ্ছে (ছবির উৎস )

এই সাইটটির সাথে যারা জড়িত সবাইকে অভিনন্দন। আশা করব আসন্ন নির্বাচনে এই সাইটটি প্রার্থীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশের ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Wednesday, October 08, 2008

এ যুগের ফতোয়া: বিচারপতি তোমার বিচার করবে কারা?

সৌদি আরবের সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান বিচারপতি সালেহ আল লুহাইদান এক রেডিও অনুষ্ঠানে ফতোয়া দিলেন যেহেতু টিভি চ্যানেলগুলোতে অনৈতিক অনুষ্ঠান দেখানো হয় তাই তাদের মালিকদের মেরে ফেলা জায়েজ আছে। ৭৯ বছরের এই বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ যিনি সৌদি আরবের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠত তার মুখ থেকেই যখন এরকম হুমকি বেরিয়ে আসে তখন অশিক্ষিত মৌলবাদীরা কি করবে তা আল্লাহই মালুম। তিনি অবশ্য রেডিও অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কিছু বলেন নি। নিজে রেডিও অনুষ্ঠানে ছিলেন বলেই কি?

এইখানেই শেষ নয়, সৌদি আরবের আরেক বিশিষ্ট আলেম শেখ মুহাম্মদ আল হাবাদান নতুন এক ফতোয়া দিয়েছেন। কালো নেকাব পরা মেয়েরা যেহেতু চোখে মেকাপ লাগায় তা অনেক পুরুষকে উত্তেজিত করে কুপথে নিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি হুকুম দিয়েছেন এখন থেকে মহিলাদের নেকাবের পাশাপাশি এক চোখ ঢাকা থাকবে।

অবশ্য উনি বলেন নি যে কোন চোখ ঢাকা থাকবে, ডান না বাম। এতে একটি সমস্যা দেখা দেবে। কেউ চোখের পাতা ফেললে যেহেতু অপর চোখটি দেখা যাবে না তাই অনেকে মনে করতে পারে যে সে চোখের বিশেষ ভঙ্গী করে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সেটি আরও কেলেন্কারীর জন্ম দিতে পারে। তাই মনে হয় পরবর্তী ফতোয়া আসবে যে মেয়েরা দুটি চোখই আবৃত থাকবে, কারন কোনক্রমেই মেয়েদের জন্যে পুরুষদের উত্তেজিত হতে দেয়া চলবে না।

বাহরাইনের ব্লগার এস্রা শেখের ফতোয়ার জবাব দিয়েছে :

"আলেমদের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমার একটি প্রস্তাব আছে। আপনারা যদি মহিলাদের চোখ দেখে উত্তেজিত হয়ে পরেন তাহলে আপনারা আপনাদের চোখ দুটি উপড়ে ফেলুন, তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মেয়েরা আপনাদের বিকৃত মানসিকতার জন্যে আর কত মূল্য দেবে?"



প্যালেস্টাইনি ব্লগার হাইতাম সাব্বাহ এক চোখ খোলা বোরখায় মহিলাদের কেমন দেখা যাবে তা চিত্রে প্রকাশ করে বোঝার চেষ্টা করছেন শেখ মুহাম্মদ কি বোঝাতে চাইছেন।

সৌদি আরব একটি পরিপূর্ণ ইসলামী শাষনভিত্তিক দেশ। সে দেশে এরকম নাটক সার্কাস হচ্ছে। অথচ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবে না।

বাংলাদেশে এখন ফতোয়া নিষিদ্ধ করা আছে যদিও অনেকে জানেনা বা মানে না। এখন আপনারাই বলেন আমাদের দেশে কি পরিপূর্ণ ইসলামী শাষনভিত্তিক প্রথা এরপরও লোকজন চাইবে?

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Sunday, September 07, 2008

বার্লিন: গল্পের শহর, অথবা শহরটা নিজেই গল্প

বার্লিন শহরে কিছু যায়গা আছে, যেগুলো অনেকের কাছে এত পরিচিত যে তারা শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে নয় আরও বিশাল পরিসরে উপস্থাপিত। এদের কোনটি ইতিহাসের পর ইতিহাসের সাক্ষী, কোনটি সিনেমার লোকেশন, কোনটি মিউজিয়াম, কোনটি বা ঐতিহ্যগত বা আধুনিক স্থাপনার নিদর্শন হিসেবে লোকের মুখে মুখে ফিরে। এসব জায়গায় শহরটি নিজেই একেকটি গল্প হয়ে যায়। পর্যটকরা এই স্থানগুলিকে জানেন: ব্রান্ডেনবুর্গার গেট, উন্টার ডেন লিন্ডেন, রাইখসটাগ, পটসডামার প্লাৎস, আলেক্জান্ডার প্লাৎস ইত্যাদি। কিন্তু গল্পগুলো পুরোপুরি তাদের জানা নেই। এ শহরের বাসিন্দাদের কাছে এ স্থানগুলোর গল্পগুলো পরিচিত, অথবা নিজেরাই হয়ে যায় গল্পের একেকটি চরিত্র, নতুন নতুন গল্পের জন্ম দেয়।

বেবেলপ্লাৎসের গল্প

ব্রান্ডেনবুর্গ গেট থেকে পূবের দিকে নামকরা রাস্তা 'উন্টার ডেন লিন্ডেন' ধরে ৫০০ মিটারের মত গেলে হামবোল্ডট বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টোদিকে পড়বে বেবেলপ্লাৎস, একটি বিশাল চত্বর। একে ঘিরে রয়েছে পুরনো লাইব্রেরী, একটি ক্যাথেড্রাল ও স্টেট অপেরা যা আসলে একটি প্রাসাদ যা ১৭৪৩ সালে প্রুসিয়ার হোহেনজোলার্ন রাজবংশের রাজা দ্বিতীয় ফ্রেডেরিক কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। এটি ওপার্ন প্লাৎস নামে পরিচিত ছিল এবং ১৯৪৭ সালে সোস্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা অগাস্ট বেবেলের নামে এর বর্তমান নামকরণ করা হয়।

এখানে নামকরা আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন ও অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

বেবেল প্লাৎস 
বেবেল প্লাৎস    ছবি: উইকি পিডিয়ার সৌজন্যে

এখানে প্যানোরামাতে বেবেল প্লাৎসকে দেখতে পাবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বিল্ডিংগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যা দেখছেন তা পরে সংস্কার করা।

বেবেলপ্লাৎসের একটি কলন্কময় ইতিহাস আছে। ১৯৩৩ সালের দশই মে হিটলারের ছাত্র-ছাত্রীদের এসোসিয়েসন (এস এ) এবং নাৎসী ইয়থ গ্রুপের সদস্যরা এখানে প্রপাগান্ডা মন্ত্রী গোবেলস এর উস্কানীতে মূলত ইহুদী লেখক, দার্শনিক, বিজ্ঞানীদের প্রায় ২০,০০০ বই পুরিয়ে দেয়। তাদের ঘোষিত অজার্মান চেতনার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের মূল মন্ত্র ছিল ইহুদী বুদ্ধিজীবিদের হাত থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। কার্ল মার্কস, সিগমন্ড ফ্রয়েড, ম্যাক্সিম গোর্কি, হাইনরিশ হাইনে প্রভৃতি ইহুদী লেখকের বই তার মধ্যে ছিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় জার্মান নাগরিক যেমন থমাস মান, এরিক মারিয়া রেমার্ক এবং বিদেশী (আমেরিকান) লেখক আর্নেষ্ট হেমিংওয়ে এবং হেলেন কেলারের বইও বাদ যায়নি। সেখানে এখন বেদবাক্যের মত হাইনরিশ হাইনের একটি উক্তি (১৮২০ সালে করা) বাঁধানো আছে “তারা যেখানে বই পোড়ায়, শেষে তারা মানুষও পোড়াবে”

হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় 
হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়

রাস্তার অপরপাশে হামবোল্ডট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুরোন বই নিয়ে বসে থাকে লোকে বিক্রি করার জন্যে। এই অঞ্চলে এই বই পোড়ানো বিভিন্ন ভাবে স্মরণ করা হয়।

আধুনিক বই প্রকাশনা 
আধুনিক বই প্রকাশনা

আমার ক্যামেরায় বেবেলপ্লাৎসের সামনে আধুনিক বই প্রকাশনার চিন্তাধারার রুপকার গুটেনবার্গের স্মরণে স্কাল্পচার (২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সময় তোলা)

বই পোড়ানোর ৭৫ বছর পরের বেবেল প্লাৎস: আমার গল্প

বিএমডাব্লিউ কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় বেবেল প্লাটসে উন্মুক্ত ক্লাসিকাল সঙ্গীত পরিবেশিত হবে শুনে ৩০শে আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে সেখানে গিয়ে হাজির হলাম। স্টেজের মাইক্রোফোন ঠিক করা হচ্ছে আর গুটিকয়েক দর্শক দেখে ভাবনায় পরে গেলাম। সামনের এক খাবার দোকানে জিজ্ঞেস করতেই জানলাম ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। সাথে এক সিনিয়র ভাই যিনি আবার পাশ্চাত্য সঙ্গীতে তেমন আগ্রহী নন তবে আমাকে ভালই সঙ্গ দিচ্ছেন। তাকে নিয়ে হাটতে হাটতে 'উন্টার যেন লিন্ডেন' ধরে মিউজিয়াম আইল্যান্ডের পাশ দিয়ে হাকেশার মার্কট চত্বরে চলে গেলাম সময় কাটানোর জন্যে।

লঙ নাইট অফ মিউজিয়ামসের জন্যে মানুষের ঢল 
লং নাইট অফ মিউজিয়ামসের জন্যে মানুষের ঢল

সেদিন আবার লং নাইট অফ মিউজিয়ামস শুরু হয়েছে তাই সেই অঞ্চলে লোকে গিজগিজ করছে। বছরের একটি দিন সন্ধ্যা ছটা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত মিউজিয়াম খোলা থাকে। এক টিকেটে প্রায় ১০০টি যাদুঘর, আর্কাইভ, মেমোরিয়াল, রাজপ্রাসাদ ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান দেখার ব্যবস্থা আছে। আলাদা এক বাসের বহর চালু করা হয়েছে দর্শনার্থীদের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছানোর জন্যে। ৮ ঘন্টায় আর মানুষ কত দেখবে যেখানে একটি যাদুঘরেই ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানো যায়।

আমরা ফিরে এলাম বেবেল প্লাৎসে পৌঁনে সাতটায়। চত্বরে ঢোকার আগে স্টেট অপেরার সামনে ভিড় দেখে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলাম। গাড়ীতে করে কেউ এসেছে এবং তাকে ঘিরে প্লেন ক্লথের সিকিউরিটি দেখে ভাবলাম কোন শিল্পী হয়ত। পরে গাড়ীর নম্বর দেখলাম ০-১ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট এসেছেন। উনি কনসার্ট দেখতে এসেছেন বউ সাথে নিয়ে। সবাইকে হাত নাড়িয়ে অপেরা হাউজে ঢুকে গেলেন। এত কম সিকিউরিটি দেখে বিস্মিত হলাম।

জার্মান প্রেসিডেন্ট এসেছেন অপেরা দেখতে 
জার্মান প্রেসিডেন্ট এসেছেন অপেরা দেখতে

জায়গা পাওয়া নিয়ে যার পরনাই সমস্যা হল। চেয়ারের ব্যবস্থা নেই। সবাই নিজের মত বাসা থেকে টুল নিয়ে এসেছে অথবা চাদর বিছিয়ে বসেছে। কেউ কেউ আরাম করে গ্লাসে শ্যাম্পেন হাতে নিয়ে বসেছে। ক্লাসিকাল সঙ্গীত এখানে খুবই উচ্চ মার্গের একটি ব্যাপার। আমরা কোনার একদিকে একটু দাড়ানোর জায়গা পেলাম। আমার সঙ্গীটি জায়গা না পেয়ে বেশ বিরক্ত তাই ভাবলাম বেশীক্ষণ থাকা যাবে না।

সাতটার সময় বার্লিনের গে মেয়র আর বিএমডাব্লিউর প্রধান অনুষ্ঠান উদ্বোধন করলেন মঞ্চে। তবে মন খারাপ হয়ে গেল যখন ঘোষনা হল যে আজকের পরিবেশনা হবে স্টেট অপেরার ভেতরে (আমন্ত্রিত দর্শকদের সামনে) এবং বিশাল টিভি স্ক্রিনে বেবেল প্লাৎসের দর্শকরা দেখবেন। আগামী কাল হবে বেথোফেনের নাইন্থ সিম্ফোনী সেটা মঞ্চে লাইভ হবে বিনামূল্যের দর্শকদের জন্যে।

মঞ্চ, বিশাল স্ক্রীন ও দর্শক শ্রোতা 
মঞ্চ, বিশাল স্ক্রীন ও দর্শক শ্রোতা

প্রায় ১০০০০ লোক উপভোগ করলেন স্টেট অপেরার নামকরা মিউজিক ডিরেক্টর ডানিয়েল বারেনবইম (একজন ইহুদি) এর পরিচালনায় বেথোফেনের অপেরা ফিডেলিও। পিন পতন নিস্তব্ধতা না হলেও কম লোকেই ফিসফিস করে কথা বলছিল আর সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছিল। আমার অবশ্যি বেশীক্ষণ থাকা হলো না সঙ্গীর কথা ভেবে।

ড্যানিয়েল বারেনবইম 
ড্যানিয়েল বারেনবইম

৭৫ বছর আগে জার্মান জাতীয়তাবাদের যে পন্কিল অধ্যায় এখানে রচিত হয়েছিল তার ফল অনেক আগেই তারা ভোগ করেছে। আজ যেন একটি 'পোয়েটিক জাস্টিস' হলো এক ইহুদী সঙ্গীতজ্ঞ এখানে ১০০০০ জার্মান নাগরিককে বিমোহিত করার মাধ্যমে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন