Friday, September 10, 2010

ফ্রি মানে মাগনা নয় - পর্ব দুই

ফ্রি মানে মাগনা নয় - পর্ব এক

পর্ব: দুই

আগের পর্বে আলাপ করেছিলাম একবিংশ শতাব্দীর ফ্রি বা বিনে পয়সার ডিজিটাল পণ্যের ধারণা সম্পর্কে যা আমাদের ভবিষ্যতকে বদলে দেবে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়ত বলবে যাহ্ এটি কোন ব্যাপার হলো? আমরা তো দেখে আসছি ইয়াহু, জিমেইল ইত্যাদি বিনে পয়সায়ই পাওয়া যায়। আমরা ৫০ টাকায়ই সফ্টওয়ারের সিডি কিনতে পাচ্ছি - এ আবার নতুন কি? মাইক্রসফ্ট অফিস, ফটোশপ, বিজয় ইত্যাদি প্রপাইটরি সফ্টওয়্যার হলে কি হবে - এলিফ্যান্ট রোড থেকে কম্পিউটার কেনার সময়তো এগুলো সাথেই এসেছে। ইন্টারনেট থেকে র‌্যাপিড শেয়ার বা বিট টরেন্ট ব্যবহার করে গান বা মুভি ডাউনলোড করা যায় বিনামূল্যেই। আমার এগুলো সম্পর্কে জেনে কি হবে? - বিনে পয়সায় আর এগুলো পাব না?

ছবি: ফ্রি পিক্সেলসের সৌজন্যে

ফ্রি গেলানোর সংস্কৃতি:

গবেষণায় দেখা গেছে যখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে তখন তারা পণ্যের সুবিধাগুলোর দিকে বেশী মনোযোগী হয়। ইন্টারনেট থেকে আপনার পছন্দের গান বিনামূল্যে ডাউনলোড করা সম্ভব, যদিও আপনাকে এর জন্যে প্রচুর খুঁজতে হবে, র‌্যাপিড শেয়ার থেকে আধঘন্টায় একটি করে ডাউনলোড করতে পারবেন – ইত্যাদি নানা বাধা পেরিয়ে যেই এমপিথ্রি ফরম্যাটের গানটি পেলেন দেখলেন যে সেটার রেকর্ডিং ভাল না (সাউন্ড কম) এবং অ্যালবাম ইনফর্মেশনে ভুল আছে। আপনি যদি চাকুরিবিহীন শিক্ষার্থী হন তাহলে হয়ত আপনার এই এক-দুই ঘন্টার কষ্ট বেশ অ্যডভেঞ্চারের মতই মনে হবে। আপনার কাছে মাগনা পণ্য বেশী আকর্ষণীয় – কারণ আপনার সময় আছে অনেক এবং ক্রয়ক্ষমতা কম। কিন্তু এখন আই টিউন্স থেকে ৯৯ সেন্টে (ধরুন ৭০ টাকা) একটি গান ডাউনলোড করা যায় - কোয়ালিটি ভাল। আপনার যখন ক্রয়ক্ষমতা হবে এবং সময় থাকবে কম, তখন আপনি চিন্তা করবেন এই এক দুই ঘন্টা ব্যয় করলে ন্যূনতম মজুরী কত আপনাকে ছাড় দিতে হতে পারে এবং তার থেকে ৯৯ সেন্ট কম কি না। এবং তখন নিশ্চয়ই আপনি কোয়ালিটির উপর গুরুত্ব দেবেন।

এই ব্যাপারে একটি প্রত্যক্ষ উদাহরণ দেই। ১৯৯২ সালে মাইক্রোসফট চীনের বাজারে প্রবেশ করে এবং পাইরেসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। কিন্তু চাইনিজ সফ্টওয়্যার নকলবাজদের কাছে তাদের সিরিয়াল নম্বর, হলোগ্রাম, ওইএম কপি ইত্যাদি নানা বাধাদানকারী প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। ১৯৯৮ সালে বিল গেটস ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন: "যদিও চীনে প্রতিবছরে ৩০ লাখ পিসি বিক্রি হয়, তারা আমাদের আসল সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে না। অবশ্য তারা একদিন ব্যবহার করবে। তাই তারা এখন চুরি করতে চাইলে আমরা চুরি করতে দেব। তাহলে তারা আমাদের সফ্টওয়্যারেই মজে থাকবে। আমরা আগামী দশকের কোন এক সময়ে হয়ত কোন এক উপায়ে তাদের কাছ থেকে মূল্য আদায় করতে পারব।” এমনটি হয়ত মোস্তফা জব্বার তার বিজয় নিয়েও ভাবেন, তাই পাইরেটেড বিজয় সম্পর্কে কিছু না বলে অভ্রের পেছনে লাগেন।

এই তো সেদিন মাইক্রোসফ্ট প্রথমবারের মত এক চাইনিজ কোম্পানির বিরুদ্ধে পাইরেসীর মামলা করে জিতল। তাদের প্রচেষ্টা থাকবে চায়ের নেশা করিয়ে চা বিক্রি করে টাকা কামানো। চীন এখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। কম্পিউটারের দাম কমেছে - অনেকেই নেটবুক কিনছে ২৫০ ডলারের মধ্যে - আর মাইক্রোসফ্ট? তাদের অপারেটিং সিস্টেমের দাম পাঁচগুণ কমিয়ে ২০ ডলারে বিক্রি করছে। চীনারা তো পাইরেটেড উইন্ডোজেই এতদিন মজে ছিল –কাজেই এই বিশ ডলার খরচ তাদের কাছে কোন ব্যাপার না। পাইরেসী নির্ভরতা তৈরি করেছে এতদিন - ফলে এখন মাইক্রোসফটের অনেক বাজার বেড়েছে - কারন চীনের লোক কম নয় - ইকনমি অফ স্কেলের সুবিধা নেয়া যায় এখানে। আমাদের দেশের স্কুলগুলোতে মাইক্রোসফ্ট ১০০০০ কম্পিউটার দেবে বলেছিল – এও সেই ডিজিটাল ঔপনিবেশিকতারই পরিকল্পনা।

শুধু ডিজিটাল পণ্যে নয়, চীন নকল করে না এমন কোন জিনিষ নেই। যেহেতু সস্তায় পাওয়া যায় তাই তারা ব্র্যাণ্ডের পণ্যই ব্যবহার করে (যেমন আমরা লিভাইসের জিন্স পাই এলিফ্যান্ট রোড থেকে)। কিন্তু বর্তমানে চীনাদের আয় বাড়ার ফলে অনেক নির্বাহী এখন সত্যিকারের ব্র্যান্ডের পণ্য কিনছেন। কেউ কেউ কয়েক মাসের বেতন একটি হাতব্যাগ বা স্যুটের পেছনে খরচ করে। ফলে নামী-দামী ব্র্যান্ডের বাজার কিন্তু কমছে না। ফ্যাশন জগতে সব সময় নতুন সীজনের পণ্যকে তুলে ধরা হয়। পুরোনো বছরের পণ্যের প্রতি লোকজনের আগ্রহ কমে যখন এটি পাইরেটেড হয়ে যায় বা কম মূল্যে ব্যাপক উৎপাদন করে বাজারে ছাড়া হয়- অর্থাৎ আর এক্সক্লুসিভ থাকে না। ফলে যাদের টাকা আছে তারা নতুন মডেলের কাপড়ের দিকে ছোটে - এটাও বাণিজ্যেরই একটি মডেল।

চীনের মত যখন আমাদের দেশেও যখন লোকের আয় বাড়বে তখন আমরাও পয়সা দিয়েই এক্সক্লুসিভ সফ্টওয়্যার বা পণ্য কিনব।

ফ্রি অর্থনৈতিক মডেল:

ডিজিটাল জগৎের নতুন এক ধারা তৈরি হচ্ছে যা বলছে যে কোন সফ্টওয়্যার তৈরি হলে এটি কোন এক পর্যায়ে এসে বিনে পয়সায় হয়ে যাবে, এর প্রান্তিক খরচ এবং বিক্রয়মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই। এটি কোটি কোটি টাকার একটি অর্থনীতি তৈরি করছে - এবং এই প্রথম যার প্রাথমিক মূল্য হচ্ছে শূণ্য।



লেখক ক্রিস অ্যান্ডারসন। ছবি ছবি উইকিমিডিয়া কমন্সের সৌজন্যে

ক্রিস এন্ডারসনের মতে অ্যাটম অর্থনীতি - অর্থাৎ আমাদের চারপাশের ভোগ্যপণ্যের মূল্য প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। অথচ অনলাইন জগৎ নিয়ে গঠিত বিটস অর্থনীতিতে জিনিষের মূল্য প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। বিংশ শতাব্দী ছিল মূলত: একটি অ্যাটম অর্থনীতি এবং একবিংশ শতাব্দিতে বিটস অর্থনীতি গেড়ে বসছে।
অ্যাটম অর্থনীতিতে সব বিনামূল্যের পণ্যই পাওয়া যায় অন্য পণ্যের জন্যে ক্রয়মূল্য প্রদান করে সরাসরি বা অন্য কোন ভাবে। অথচ বিটস অর্থনীতিতে পণ্য সত্যিকারের ফ্রি হতে পারে, যেখানে ভোক্তা ও ক্রেতার মধ্যে টাকার ব্যাপারটি উল্লেখিত হয় না। অ্যাটম অর্থনীতিতে মানুষরা সন্দেহপ্রবণ থাকে যে কোথায় লুকানো খরচ আছে। ঐদিকে বিটস অর্থনীতিতে থাকে একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক যে কখনও লুকানো খরচ থাকবে না। অনেক শোনা গিয়েছিল যে হটমেইল ব্যবহার আর বিনামূল্যে থাকবে না - তবে সেরকম কিছু হয় নি এখনও – তাই ধরে নেয়া যায় যে এটি বিনামূল্য থাকবে।

অনেক নতুন ব্যান্ড এখন তাদের গান বিনামূল্যে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে। তাদের উদ্দেশ্য গানকে অনেক শ্রোতার কাছে
পৌঁছে দেয়া এবং অনেক ভক্ত তৈরি করা। জনপ্রিয়তা পেলে তারা পরে ঠিকই আয় করতে পারে রেকর্ড লেবেল বা কনসার্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড রেডিওহেড তাদের ৭ম অ্যালবাম 'ইন রেইনবোজ' এর ডিজিটাল ডাউনলোড বের করে এক অভিনব শর্তে যে এর মূল্য তাদের ভক্ত শ্রোতারাই ঠিক করবেন। অর্থাৎ আপনার পয়সা না থাকলে বিনামূল্যেই পেতে পারেন। মূল ব্যাপারটি হচ্ছে ডিজিটাল পণ্যের বিপণন ও সরবরাহ (প্যাকেজিং) খরচ শূন্যের কোঠায় কাজেই বিনামূল্যে পণ্য সরবরাহে খরচ ন্যূনতম। তাদের ব্যান্ড ম্যানেজার জানায় যে যদিও কেউ কেউ বিনামূল্য বা এক পেনিতে এটি কিনেছে - বেশীর ভাগই ক্রয় ক্ষমতাসহ ক্রেতা এবং তারা বাজার মূল্যে পরিশোধ করেছে।

ছবি: ফ্রি পিক্সেলসের সৌজন্যে

এই ফ্রিকোনমিক্স বা বিনামূল্যের সংস্কৃতি বেড়ে উঠেছে ডিজিটাল যুগের প্রযুক্তির কল্যাণে। মুর'স ল অনুযায়ী প্রতি দুই বছরে কম্পিউটারের প্রসেসিং পাওয়ারের উৎপাদনমূল্য কমে আসে অর্ধেক দামে এবং ব্যান্ডউইদথ আর হার্ডডিস্কের ক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদনমূল্য কমছে আরও দ্রুত হারে। ইন্টারনেটের পণ্যগুলোর খরচের ব্যাপারে এই সবগুলোর সমষ্টি কাজ করছে অর্থাৎ এর মূল্যহ্রাস হচ্ছে বছরে ৫০% হারে - সহজ করে বললে - ইউটিউবের একটি ভিডিও প্রচার করতে আজকে তাদের যা খরচ হচ্ছে আগামী বছর এর অর্ধেক খরচ হবে। এই দাম কমার ধারায় সবারই একই লক্ষ্য প্রান্তিক উৎপাদন ও ক্রয়মূল্য শুণ্যতে নিয়ে যাওয়া। ফলে ইউটিউব বিনা পয়সায় সেবা রাখতে উৎসাহিত হচ্ছে এবং বেশী ব্যবহারকারী যোগ দিয়ে কোম্পানির নতুন আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।

আজকালকার অভিনব সব অনলাইনের ব্যবসায়িক ধারণার মধ্যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে বিনামূল্যের পণ্যের মাধ্যমে আয়ের চেষ্টা করা। আপনি সত্যি বিনামূল্যে পণ্য বিক্রি করে আয় করতে পারেন। অনেক সময় আপনি যা বিলিয়ে দিচ্ছেন তার বিনিময়ে আরও অনেক বেশী পাচ্ছেন। কেন এমন হয়?

মুফতে জিনিষের ধারণাটি পুরোনো, কিন্তু এটি এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে যে আমাদেরকে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আচার ব্যবহার ও অর্থনৈতিক প্রণোদনার উপর কিছু মৌলিক ধারণা সম্পর্কে পুনরায় ভাবাচ্ছে। মুস্তফা জব্বারের বিজয় সফটওয়্যারের মত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্যে এই ব্যাপারটি বোঝা আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারন তাদের ইতিমধ্যে এই সব বিনামূল্যের পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে বা ভবিষ্যতে হবে।

ফ্রির যে বিভিন্ন রকম নমুনা আমরা চারিদিকে দেখতে পাই তা থেকে এর মানে অনেক রকম হতে পারে:

  •  ফ্রি মডেল ১ - একটি কিনলে একটি ফ্রি মানে হচ্ছে ৫০% মূল্যহ্রাস, একটি পণ্যের সাথে আরেকটি পণ্য ফ্রি হচ্ছে একদিক দিয়ে মূল্যহ্রাস এবং অন্যদিক দিয়ে বিপণন – অর্থাৎ আদতে এগুলো বিনামূল্যের নয়।
  • ফ্রি মডেল ২ - ফ্রিমিয়াম মডেল - কিছু সফটওয়্যার আছে - মৌলিক বা ট্রায়াল সংস্করণগুলো ফ্রি থাকে - কিন্তু কিছুদিন পরে কিনতে হয় বা সব ফিচার ব্যবহার করতে গেলে টাকা দিতে হয় – এগুলোকে ঠিক ফ্রি বলা যায় না।
  • ফ্রি মডেল ৩ - আপনি বিনামূল্যে সেবা ব্যবহার করলেন - এবং সাইটে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেটির খরচ বহন করলেন - যত বেশী ব্যবহারকারী - তত বেশী বিজ্ঞাপন থেকে আয় এবং আরও ব্যাপক সেবা দান। তারপরে রয়েছে বিজ্ঞাপনের প্রচার মাধ্যম। অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞাপনের ভর্তুকি টিভি অনুষ্ঠান বা সংবাদপত্রকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে সাহায্য করছে। এই মডেলের প্রথম প্রয়োগ হয়েছে শত বছর আগে - কাজেই এটাকেও নতুন ধারণা বলা যাবে না।
  • ফ্রি মডেল ৪ - গিফট ইকোনমি (দানের অর্থনীতি) - একটি সেবা প্রদান করে মনযোগ আকর্ষণ এবং অন্যভাবে খরচের টাকা যোগানো - এ বিষয়ে পরের পর্বে বিস্তারিত বলব।
ছবি: ফ্লিকার থেকে এনিক্সির সৌজন্যে। সিসি - বাই লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত

তাহলে নতুন ধারণাগুলো কি যেগুলো সত্যিই বিনা মূল্যে পাওয়া যায়? ফ্লিকারের কথাই ধরুন –- বেশীর ভাগ ব্যবহারকারীদের জন্যেই এ ছবির সাইটটি ফ্রি (পেশাজীবি সংস্করণ ছাড়া) এবং এরা বিজ্ঞাপনও নেয় না। গুগলের সেবাগুলোরও বেশীরভাগই বিনামূল্যে - এবং বিজ্ঞাপন বিহীন বা তারা তাদের বিজ্ঞাপন মডেল একটি নতুন ধারণার উপরে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এর পরে রয়েছে ব্যবহারকারী দের সাহায্যে (ক্রাউডসোর্সিং) প্রতিষ্ঠিত উইকিপিডিয়া এবং ব্লগ প্লাটফর্মগুলো। এদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে মূল্যের বিনিময়ে পরিমাপযোগ্য নয় এমন সব প্রণোদনা: জনপ্রিয়তা, বিশ্বস্ততা, বাক স্বাধীনতার প্রকাশ ইত্যাদি।

এই যেসব ফ্রিকোনমিক্স মডেলের কথা বললাম সবগুলোরই মধ্যে মিলে যায় একটি বিষয় –যে তারা অর্থকে স্থানান্তরিত করে পণ্য থেকে পণ্যে, ব্যবহারকারী থেকে ব্যবহারকারীর কাছে, বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎে - অথবা ভোক্তা বাজার থেকে অর্থবিহীন প্রণোদনার বাজারে । অর্থনীতিবিদরা একে বলে ক্রস সাবসিডিজ।

ক্রস সাবসিডিজের মূল বিষয় হচ্ছে যে আসলেই কোন ফ্রি লাঞ্চ নেই। আপনাকে যেই সাবসিডিজ দেয়া হচ্ছে সেটা অবশ্যই অন্য কারও কাছ থেকে আদায় করা হবে যারা বেশী মূল্য দিতে প্রস্তুত। আমি রায়ান এয়ারে বার্লিন থেকে রোমে গিয়েছি ৪০ ইউরো রিটার্ন টিকিটে (মূল টিকেট ছিল ১ ইউরো যাওয়া, ১০ ইউরো আসা এবং বাকিটা ট্যাক্স এবং অন্যান্য - চোখ ঘুরে যাবার মত ভাড়া, কারণ বাড়ী থেকে বার্লিন শোনেফেল্ড বিমান বন্দরে ট্যাক্সি করে যেতে লাগে ৩৫ ইউরো)। কেবিন লাগেজ ছাড়া আলাদা চেক ইন লাগেজ নিলে ২০ ইউরো বেশি। প্লেনে খাওয়া দাওয়া করলে ১৫ – ২০ ইউরো। বার্লিন থেকে রোমের প্রতিটি সিটের খরচ নাকি ৭০ ইউরো রিটার্ন অর্থাৎ রায়ান এয়ারের আদতে লস নেই। মাস দুয়েক আগে টিকেট কিনেছে এমন বিশ থেকে পঞ্চাশজন হয়ত এমন কম ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পেরেছে। যারা ১ দিন আগে টিকেট কিনেছে তাদের জন্যে এক মুখী ভাড়া ১২০ ইউরো। অর্থাৎ যার প্রয়োজন আছে সে ছয়গুণ বেশী দিচ্ছে - এই হচ্ছে ক্রস সাবসিডিজের মডেল।

পরবর্তী পর্বে থাকছে:

গিফট ইকোনমি ও গুগলের ডিজিটাল পণ্য বাণিজ্য

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

1 comment:

punkt A said...
This comment has been removed by a blog administrator.