Friday, May 21, 2010

মদিরার দেশ চিলি


দক্ষিণ আমেরিকা সম্পর্কে আমার ধারণা কম থাকায় চিলিতে এসে আমার বিস্ময়ের অন্ত নেই। প্রথমত: ভেবেছিলাম যে এখানে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতদের পাশাপাশি নেটিভ বা আদিবাসীদের দেখা পাব (যেমন বলিভিয়ায় আদিবাসী ৬০%)। কিন্তু দেখলাম যে বেশীর ভাগ মানুষই আর্য এবং কিছু আদিবাসীদের শংকর দেখা যায়। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি চিলি এমন এক দক্ষিণ আমেরিকার দেশ যেখানে ১৬শ শতাব্দী থেকে আসতে শুরু করা ইউরোপীয় অভিবাসীরা (আইরিশ, স্কটিশ, জার্মান, স্প্যানিশ ইত্যাদি) ইনকা আদিবাসীদের সংখ্যালঘু করে দিয়েছে। মূল আদিবাসীদের দেখতে গেলে নাকি উত্তর বা দক্ষিণ কোনে রিজার্ভে যেতে হবে। চিলির কেউ কেউ তার পূর্বপুরুষ স্প্যানিয়ার্ড বা জার্মান বলে বড়াই করে আলাপের মধ্যে। অবকাঠামোর দিক দিয়ে চিলি যে কোন ইউরোপীয় শহরের মতই এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। ওদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ বলিভিয়া বা পেরু এখনও পিছিয়ে আছে। বলিভিয়ার বন্ধু এডিকে তাদের দেশের সাথে পার্থক্য কি জিজ্ঞেস করতে সে বলল চিলি তো ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড।

পাবলো নেরুদা, সালভাদর আলেন্দে, পিনোশের দেশ চিলি। সেখানে যেতে ২০০০০ কি.মি. এর বেশী ভ্রমণ করতে হল প্রায় দুদিন ধরে। ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে দুবাই। তারপর লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার উপর দিয়ে উড়ে পার হতে হল অতলান্তিক মহাসাগর। বিমান নামল ব্রাজিলের রিও দি জেনেইরোর উপর দিয়ে গিয়ে সাও পাওলো শহরে। সেখান থেকে ল্যাটিন আমেরিকার বিমান ল্যান বয়ে নিয়ে গেল চিলির সান্টিয়াগো।
ফ্রান্সেস্কাফ্রান্সেস্কা
আমরা রওনা হয়েছি একটি মদিরা বাগান পর্যটনে। চিলির মদ বিশ্বখ্যাত এবং তাদের রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস (বিশ্বের পঞ্চম মদ রপ্তানিকারী দেশ)। রাজধানী সান্তিয়াগো শহর থেকে ৩৪ কি.মি. দুরে মাইপো উপত্যকা চিলির অন্যতম আঙ্গুর বাগান ও মদিরা প্রস্তুতকারী অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। আমাদের গাইড ফ্রান্সেসকা - ছোটখাট গড়নের স্বর্ণকেশী - প্রথমেই জেনে নিল আমাদের নামধাম – আমরা কোন ধরনের পানীয় পছন্দ করি ইত্যাদি। সান্তিয়াগোতে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ মলের ট্যুর অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বাস চলা শুরু করলে নিরলসভাবে সে ইংরেজী ও স্প্যানিশ উভয় ভাষায় বলে গেল চিলির মদের ইন্ডাষ্ট্রির ইতিহাস।

১৬শ শতাব্দীর আগে দেশটিতে মদ উৎপাদিত হত না। স্প্যানিশ ঔপনিবেশিকরা প্রথম আঙ্গুরের বীজ নিয়ে আসে। তখন ধনীরা বাসার বাগানে আঙ্গুরের গাছ লাগাত। ১৮ শতাব্দীর দিকে ফরাসী মদের প্রকারভেদ – যেমন কাবার্নে সভিনিওঁ এবং মার্লট এদেশে প্রস্তুত হওয়া শুরু করে। এই শতাব্দীতেই সারা বিশ্বজুড়ে আঙ্গুরের ফলনে একটি মড়ক লাগে এবং মদের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়। সেটি কিন্তু চিলিকে স্পর্শ করে না। ফলে চিলির মদের চাহিদা সারা বিশ্বে বেড়ে যায়। চিলি সেই মড়ক থেকে কিভাবে বাঁচল সে নিয়ে ফ্রান্সেসকা একটি লম্বা গল্প বলল।
চিলির আঙ্গুর বাগানের অঞ্চলসমূহচিলির আঙ্গুর বাগানের অঞ্চলসমূহ

দেশটির দৈর্ঘ ৪২০০ কি.মি. কিন্তু প্রস্থ খুবই কম – - গড়ে মাত্র ১৫০ কি.মি.। এত বিশাল দেশে বৈচিত্রও কম না। উত্তরে আতাকামা মরুভূমি, পূর্বে বলিভিয়ার সীমানা ঘেষে আন্দেজ পর্বতমালা, পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর, ও দক্ষিণে হিমবাহ দেশটিকে ঘিরে রেখেছে। ফ্রান্সেসকার ভাষায় চারিদিকে এই সুরক্ষা বলয়ই চিলিকে বাঁচিয়েছে। এছাড়াও ভাল মদ উৎপাদনের জন্যে তিনটি বিষয় দরকার হয়। মাটি, আবহাওয়া ও ভাল জাতের আঙ্গুরের ফলন। প্রকৃতি এদেশকে এই উপাদানগুলো উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে।

তারপর সে গল্প করল কার্মিনেরে মদের কথা যা একটি বিশেষ আঙ্গুর দিয়ে তৈরি হয়। একমাত্র চিলিতেই এই মদের সেরা সংস্করণ (১০০% খাঁটি) উৎপন্ন হয়। তার কাছ থেকে জানলাম মদের প্রকারভেদ সম্পর্কে এবং ফার্মেন্টেশন ও ডিস্টিলেশন পদ্ধতি সম্পর্কে। লাল আর সাদা মদের পার্থক্য, কোন ধরণের আঙ্গুর দিয়ে সেগুলো তৈরি হয়, বিভিন্ন স্বাদ – ড্রাই, সেমি ড্রাই, মিষ্টি, টক ইত্যাদি কিভাবে বানানো হয়...

চিলির উত্তরের দিকে একটি বিশেষ মদ তৈরি হয় যার নাম পিসকো। পিসকো সাওয়ার বা টক পিসকো ডিস্টিলেশন পদ্ধতিতে তৈরি হয় (যেমন হুইস্কি) এবং এতে লেবুর রস মেশানো হয়। এই পানীয়টি অনেকটা ককটেলের মত সুস্বাদু কিন্তু খুব কড়া। এই মদের উৎপত্তি নিয়ে পেরুর সাথে তাদের মতভেদ আছে।

আরেকটি ব্যাপার আমি লক্ষ্য করেছি যে দক্ষিণ আমেরিকার লোকজন কোকা কোলা জাতীয় কোমল পানীয় খুব পান করে। এবং মদের সাথে কোক মিশিয়ে সেই পানীয়র নতুন নামকরণ করা হয়। যেমন পিসকো আর কোলা - পিসকোলা অথবা রণ (এক ধরণের মদ) এবং কোলা - রনকোলা।

সান্টিয়াগো শহরটির অদুরেই আন্দেজ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা মাপুই নদী দেখলাম। নদী কি বলব, পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়ার মত। নদী থেকে জেগে ওঠা চরের মত যায়গায় দেখলাম গাড়ি পার্ক করা আছে। এবারের শীতে (এখন ওখানে শীত) অন্য সময়কার মত বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টি আসলেই নাকি এইসব নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে।

কন্চা ই টোরোকন্চা ই টোরো

আমাদের গন্তব্য কন্চা ই টোরো নামে একটি ভাইনইয়ার্ড যা একটি পরিবারের নাম এবং তারা এই মদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করে ১৮৮৩ সালে। এককালে এইসব পরিবারই মদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। এখন এই প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেন্জ এ নিবন্ধিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (বিশ্বের সেরা দশটি মদ উৎপাদনকারীর মধ্যে পরে)।

সারা চিলি জুড়ে এর মোট আঙ্গুর বাগানের পরিমাণ ৮০০০ হেক্টরের ও বেশী। মাপুই উপত্যকায় কন্চা ই টোরোর ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখলাম সেখানে আরও পর্যটক রয়েছে। আমাদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে একটি ভিডিও দেখান হল কন্চা ই টোরোর ইতিহাস সম্পর্কে - এটিকে বেশী পরিমাণে বিজ্ঞাপনই মনে হল। তার পর বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম পরবর্তী গাইডের জন্যে। ততক্ষণে ফ্রান্সেসকার সাথে অন্যান্য বিষয়ে আলাপ হল। সে নাট্যকলার পড়াশোনা করেছে – কিন্তু আক্ষেপের সাথে জানালো এই বিষয় শিখে চাকুরী পাওয়া বেশ কঠিন। যদিও সে নাটক ভালবাসে তবুও সে আবার পর্যটন কলা শেখা শুরু করেছে - কারণ এর চাহিদা বেশ।

মাক্সিমিলিয়ানোমাক্সিমিলিয়ানো

প্রচুর স্প্যানিশ ভাষার পর্যটকের ভিড়ে আমি এবং মরোক্কোর হিশাম এর জন্যে এরপর আসল পরবর্তী ইংরেজী ভাষার গাইড মাক্সিমিলিয়ানো। তরুণ এই গাইড ইতিহাসের গ্রাজুয়েট এবং পেশায় সাংবাদিক - একটি জনপ্রিয় দৈনিকে সে স্পোর্টস রিপোর্টার। আমরা এগোলাম সেই মালিক পরিবারটির বাগান বাড়ির দিকে। গত ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে পুরোনো এই বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে - তাই বন্ধ ছিল। মাক্সিমিলিয়ানো বলছিল - ৫ জন লোকের জন্যে ২৮টি রুম - ভেবে দেখতে পারো? সামনের উঠোনটি অনেকটা ইংরেজ স্থাপত্যের ধাঁচে করা। এর পাশেই ভাইনইয়ার্ড বা মদের ক্ষেত - ফলন তোলা হয়ে গেছে - তাই আঙ্গুর বিহীন গাছগুলো দাড়িয়ে আছে। মাক্সিমিলিয়ানো মজার মানুষ - আমাদের সম্পর্কে তার উৎসাহের কমতি নেই। আমরা জানালাম নিজের দেশ সম্পর্কে আর সে আলাপ করল চিলির ইতিহাস নিয়ে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সালভাদর আলেন্দে দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিলে (কলকারখানা রাষ্ট্রীয়করণ ইত্যাদি) এবং কিউবার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলে যুক্তরাষ্ট্রীয় জোট তাদের বয়কট করা শুরু করে। ফলস্বরূপ বিদেশী বিনিয়োগ কমে যায় ও দেশে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ইত্যাদি বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ১৯৭৩ সালে পিনোশে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচার হিসেবে দেশকে শাসন করেন ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। তার শাসনামলে প্রচুর বিরোধী দলীয় কর্মীদের মেরে ফেলা হয়েছে - অনেকের কোন হদিস পাওয়া যায় নি।

তবে মাক্সিমিলিয়ানো বলল মজার কথা - পিনোশের আমলে অর্থনীতি মুক্ত হয়, মুদ্রাস্ফীতি কমে, যার ফল এখন চিলি ভোগ করছে। মাক্সিমিলিয়ানোর ও দেখলাম খুব গর্ব তাদের ইউরোপীয় বংশ নিয়ে - বলল যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে চিলির সুসম্পর্ক নেই। হয়ত তাদের ইউরোপীয় ঐতিহ্যই তাদের অন্যরকম করে ভাবতে সাহায্য করে।

মদের ব্যারেলমদের ব্যারেল

আমাদের খেয়াল হল তখন যে আমরা মদিরা নিয়ে আলোচনা ভুলে গিয়ে এইসব আলোচনা করছি। সে এরপর আমাদের ওয়াইন সেলারে নিয়ে গেল। বিভিন্ন রুমে সারি সারি মদের ব্যারেল রাখা তাপমাত্রা, আলো ও আদ্রতা নিয়ন্ত্রিত মাটির নীচের কক্ষে। একটু পরপর পানির ছিটা দেয়া হচ্ছে ছাদে লাগানো পাইপ থেকে। জানলাম একেকটি ওক কাঠের ওয়াইন ব্যারেলের দাম ১০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয় কারণ - সেগুলোর কাঠ বিশেষ ঘ্রাণযুক্ত হয় যার প্রভাব কিছু পরিমাণে হলেও মদের উপরে পরে। প্রতিটি ব্যারেল মাত্র ৪-৫ মৌসুম ব্যবহার করা যায় - এরপর বিক্রি করা হয় স্কটল্যান্ডে - যেখানে সেগুলোতে হুইস্কি বানানো হয়। ব্যারেল কমদামি এমনকি লৌহজাতীয় পদার্থেরও হয় এবং বলাই বাহুল্য - মদ এর দামও নির্ভর করে কোন ব্যারেলে এটি রাখা হয়েছে তার উপরে।

মদিরামদিরা

তারপর ছিল ওয়াইন টেস্টিং পর্ব - এবং স্মৃতি হিসেবে কাচের গ্লাসটি রইল সাথে। ফেরার পথে ভাবছিলাম কিভাবে তারা তাদের মদের ইণ্ডাস্ট্রিকেও পর্যটনের অংশ করে নিয়েছে। মাক্সিমিলিয়ানো ও ফ্রান্সেসকা আমার দেখা সবচেয়ে শিক্ষিত গাইড। তাদের প্রজন্মের কঠোর পরিশ্রমই হয়ত জাতিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

১) প্রথম ছবিটি ফ্লিকার থেকে

২) বাকি ছবিগুলো আমার এবং হিশামের তোলা।

Sunday, May 02, 2010

যোগজাকার্তার পথে পথে (২)

পূর্বের পর্ব - বড়বুদুর বৌদ্ধমন্দির

সমগ্র ইন্দোনেশিয়াতে প্রায় ১৫০টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে যার মধ্যে ১৩০টি সুপ্ত এবং প্যাসিফিক রিংস অফ ফায়ারের উপরে অবস্থিত। কাজেই যে কোন পর্যটন স্থানে অবধারিতভাবে একটি আগ্নেয়গিরির সন্ধান পাওয়া যায়। বড়বুদুর দেখা হয়ে গেল সকাল এগারটার মধ্যে এবং আমাদের পরবর্তী গন্তব্য প্রামবানান মন্দির। ড্রাইভার বেশ ভাল ইংরেজী বলে - সেটি এক বিস্ময় ছিল, কারন জাকার্তাতেও অনেক ট্যাক্সি ড্রাইভারই ইংরেজী বলতে পারে না। তো তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে প্রামবানান যাবার পথে কি কি দেখা যায়। সেই মেরাপি পাহাড়ের আগ্নেয়গিরির কথা বলল। অত:পর আমাদের পাহাড়ী রাস্তা বেয়ে ওপরে ওঠা শুরু হল।

২০০৬ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট খাল২০০৬ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট খাল

গুনুঙ মেরাপি মানে হচ্ছে আগুনের পাহাড় - নামকরণ এমন কেন হয়েছে বুঝতেই পারছেন। ১৫৪৮ সাল থেকে এটি নিয়মিত লাভা উদগিরণ করে আসছে। স্থানীয় জাভানীজরা পাহাড়কে শান্ত রাখতে বিভিন্ন ধরনের পুজো/ভেট দিয়ে থাকে সুলতানের রাজত্ব গ্রহণের বার্ষিকীতে। বছরে প্রায় ৩০০ দিনই এর চূড়ায় ধোঁয়া দেখা যায়। তাদের সর্বশেষ এখানে উদগিরণ হয়েছে ২০০৬ সালে যোগজাকার্তার ভূমিকম্পের পূর্বে। সে সময় ২ জন মারা গিয়েছিল। আমাদের ড্রাইভারই গাইডের কাজ করল - সে গিয়ে দেখাল পাহাড়ের কাছে একটি শেল্টার আছে - সেখানে অনেক লোক আশ্রয় নিলেও দুজন পর্যটক ছাত্র পৌঁছুতে পারে নি শেষ পর্যন্ত। তবে আমাদের কপাল খারাপ। মেঘে ঢাকা চূড়ার কারনে উপরে কিছুই দেখা গেল না। মূল পাহাড়টিতে ওঠা নিষিদ্ধ - পথও নেই। আমাদের সামনে ছিল শুধু লাভা উদগিরণে তৈরি হওয়া একটি খালের মত যায়গা। এটি দেখেই দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে হল। অথচ কয়েক মাস আগে বান্দুং এর কাছে তাংকুবান পেরাহু আগ্নেয়গিরিতে গিয়েছিলাম যেখানে বিশাল এক জ্বালামুখ ছিল - দেখার মত জিনিষ।

প্রামবানান মন্দির কমপ্লেক্সপ্রামবানান মন্দির কমপ্লেক্স

এরপর আমরা দুপুরের খাবার সেরে প্রামবানান মন্দিরে পৌঁছালাম। এটি ত্রিমূর্তিকে (শিব, ব্রহ্মা, আর বিষ্ণু) উৎসর্গকৃত নবম শতাব্দীতে নির্মিত একটি মন্দির কমপ্লেক্স যেখানে আদিকালে ২৩৭টি মন্দিরের স্থাপনা ছিল। ইন্দোনেশিয়ার এই সর্ববৃহৎ হিন্দু মন্দিরকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা হয়েছে।

২৩৭টি মন্দির স্থাপনার একটি২৩৭টি মন্দির স্থাপনার একটি

শৈলেন্দ্র সাম্রাজ্যের প্রভাবে পদানত হিন্দু সন্জয় সাম্রাজ্য আবার ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং বড়বুদুরের জবাবে তারা প্রামবানান মন্দির তৈরি করে। এটি মাতারাম রাজ্যের রাজকীয় মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মন্দিরের অসম্ভব সুন্দর কারুকার্য সেই সাম্রাজ্যের অর্থবল ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে।

চান্দি মানে বাহাসায় মন্দিরচান্দি মানে বাহাসায় মন্দির

তবে ৯২৯ সালে মাতারাম সাম্রাজ্যের শেষ রাজা মপু সিন্দক সাম্রাজ্যটিকে পূর্ব জাভার দিকে সরিয়ে নেন (মেরাপি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে)। তবে সেটাই মন্দিরটির পতনের কারণ হয়ে দাড়ায় - এটি পরিত্যক্ত হয়। ১৬ শতাব্দীতে মেরাপি পাহাড়ের অগ্নুৎপাত ও ভূমিকম্পে মন্দিরটির প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়।

প্রামবানান মন্দির কমপ্লেক্সপ্রামবানান মন্দির কমপ্লেক্স

১৮ শতকের প্রথম দিকে ব্রিটিশ শাসনের সময় কলিন ম্যাকেন্জি নামক একজন সার্ভেয়ার মন্দিরটি আবিষ্কার করেন। ১৮৮০ সালে ডাচ নৃতত্ত্ববিদদের দ্বারা খননের সময় বেশ অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ চুরি যায় মন্দির থেকে। এরপর ১৯৩০ সাল থেকে আবার এটি পুনর্নিমাণ শুরু হয় এবং ১৯৫৩ সালে প্রধান মন্দিরটি পূর্বাবস্থায় আসে।

চমৎকার সব টাওয়ারগুলো - প্রতিটি আলাদা মন্দিরচমৎকার সব টাওয়ারগুলো - প্রতিটি আলাদা মন্দির

এরপর বিভিন্ন সরকারের আমলে এটির উপর আরও কাজ হলেও চুরি যাওয়া পাথরের অংশগুলির অভাবে অনেক অংশেরই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয় নি।

নান্দি মোষ - শিব ঠাকুরের বাহননান্দি মোষ - শিব ঠাকুরের বাহন

মন্দিরের ভেতরে দেবতা মূর্তিমন্দিরের ভেতরে দেবতা মূর্তি

মন্দিরের চারিদিকে কারুকার্যখচিত পথমন্দিরের চারিদিকে কারুকার্যখচিত পথ

তবুও যা দেখলাম তাতে আমরা অভিভূত। ২০০৬ সালের ভূমিকম্পে এর বেশ ক্ষতি সাধন হলেও পাথরের গাঁথুনি কত মজবুত চিন্তা করেন - যে বড় কোন কাঠামোগত ক্ষতি হয় নি ২৩৭টির মধ্যে যে কয়টি চুড়া দাড়িয়ে আছে সেগুলোর।

মন্দিরের দেয়ালের কারুকার্যমন্দিরের দেয়ালের কারুকার্য

পাথরের কারুকার্যপাথরের কারুকার্য

চুড়া পর্যন্ত কারুকার্যখচিতচুড়া পর্যন্ত কারুকার্যখচিত

মাঝখানের বড় শিব মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের জন্যে বন্ধ ছিল সেখানকার সিকিউরিটি গার্ড আমাদের জিজ্ঞেস করতে লাগল যে আমরা দেখতে চাই কি না। অর্থাৎ ঘুষ দিলে সেখানে যাওয়া যাবে। অন্ধকার নির্জন যায়গায় গেলে নিরাপত্তাজনিত কি সমস্যা হতে পারে চিন্তা করে আর গেলাম না।

মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ - এককালে এগুলো দাড়িয়ে ছিল।মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ - এককালে এগুলো দাড়িয়ে ছিল।

তবে শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেবার ব্যাপারটি ভাল লাগল না। এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য।

আমরা আছি গুটি কয় দাড়িয়ে - বাকি সব ঝরে গেছে।আমরা আছি গুটি কয় দাড়িয়ে - বাকি সব ঝরে গেছে।

কমপ্লেক্সের অনেক যায়গা জুড়ে মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ, সেগুলো হয়ত কোনদিন পশ্চিমা অর্থসাহায্যে মাথা তুলে দাড়াবে দুর্নীতিগ্রস্তদের উদর পুরে বা হয়ত এভাবেই থাকবে। তবে বিদেশীদের কাছ থেকে টিকেট নেয়া হয় জনপ্রতি ১৩ ডলার করে - যে পরিমাণ অর্থ আসে সেটা দিয়ে নিশ্চয়ই রক্ষণাবেক্ষণ ভালভাবেই করার কথা।

যোগজাকার্তার ট্রেডমার্ক রিক্সাযোগজাকার্তার ট্রেডমার্ক রিক্সা

এর পরদিন আমরা যোগজাকার্তার ট্রেডমার্ক রিক্সায় চড়ে তামান সারি ওয়াটার ক্যাসল দেখতে গেলাম। এটি রাজপ্রাসাদ বা ক্রাতোন এর দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। ১৮ শতাব্দীতে সুলতানের জন্যে তৈরি এই স্থাপনাটিকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি বিশ্রামাগার, একটি অস্ত্রাগার, লুকানোর জায়গা ইত্যাদি। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে এর মধ্যে একটি ঝর্ণার জলে পূর্ণ পুকুর আছে যাকে সুলতান তার স্নানঘর বা হারেম হিসেবে ব্যবহার করত। মূল কম্পাউন্ডে অনেক সঙ্গীতশিল্পী সুর তুলত এবং নর্তকীরা নাচত। এরপর তারা বড় পুকুরে স্নান করে তাদের বিশ্রামাগারে চলে যেত এবং রাজা সেখান থেকে তার রাতের সঙ্গিনীদেরকে পছন্দ করতেন। এরপর তারা একটি ছোট পুকুরে সুলতানকে গোসল করাত এবং সেখানে বিশ্রামাগারে রাজার শয্যসঙ্গিনী হত।

মূল কম্পাউন্ডের বাইরে এই এলাকাটিতে এখন সুলতানদের চাকরবাকরদের পরিবারদের বিশাল একটি সমাজ থাকে। তারা বিভিন্ন বাটিকের কাপড় তৈরি করে ও পর্যটকদের কাছে বেচে।

যোগজাকার্তা হস্তশিল্প ও বাটিকের জিনিষপত্রের জন্যে খুব প্রসিদ্ধ। সেটি নিয়ে লিখতে গেলে আরেকটি পোস্ট হবে। তাই এখানেই শেষ করছি।

* প্রথম ছবিটি মেরাপি পাহাড়ের - উইকিপিডিয়ার সৌজন্যে। বাকিগুলো আমার তোলা।

Thursday, April 29, 2010

যোগজাকার্তার পথে পথে

উপর থেকে বড়বুদুরের ছবিউপর থেকে বড়বুদুরের ছবি
ইন্দোনেশিয়া আসার পর বিভিন্ন পোস্টার ও লিফলেটে একটি অপূর্ব ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি দেখে আমি খুব অভিভূত ছিলাম - সেটি হচ্ছে জাভা দ্বীপের বড়বুদুর বৌদ্ধ মন্দির। ১৭০০০ এরও বেশী দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ার সৌন্দর্য্য জাকার্তার বাইরে না গেলে বোঝা যায় না - কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বান্দুং, বোগর এবং একটু দুরে পেলা বুহান রাতু ছাড়া কোথাও যাওয়া হয়নি। দেশ থেকে আব্বা এসেছিলেন এবং সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হল এবার দুরে কোথাও যাব। ঠিক হল যোগজাকার্তা যাব এবং বড়বুদুর দেখার আকাঙ্খাটি পূরণ হল অবশেষে।

যোগজাকার্তা ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী থেকে মাত্র ৪৪৩ কিলোমিটার দুরে (ইউরোপ হলে ৪-৫ ঘন্টার গাড়িভ্রমণ)। কিন্তু যাতায়াতের উপায়গুলো শুনে চোখ কপালে উঠে যাবার যোগাড়। গাড়িতে লাগবে ১২ ঘন্টা - যদি যানজট অনুকূলে থাকে। ট্রেনে যাওয়া সহজ উপায় - সেটাতে ৮ ঘন্টা লাগবে। আর নাহলে তো বিমান আছেই। ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে ভ্রমণের অন্যতম কার্যকরী উপায় স্থানীয় কিছু এয়ারলাইন্স। তবে তাদের ভাল সেফটি রেকর্ড আছে এমন শুনিনি, বিশেষ করে আদম পরিবহনের গোত্তা মারার পর থেকে। আমাদের ত্রাতা হয়ে আসলো কম খরুচে আন্তর্জাতিক পরিবহন এয়ার এশিয়া - তাদের অন্তত বিমানগুলো নতুন। দেখা গেল তাদের এক প্রমোশন রেটে বিমান ভাড়া ট্রেন ভাড়ার প্রায় সমান (জনপ্রতি ৫০ ডলার)। তাই সময় বাঁচাতে (৫০ মিনিটের ফ্লাইট) এয়ার এশিয়ার কাঁধে ভর করলাম সবাই।

যোগজাকার্তা ট্যুরিস্ট ম্যাপযোগজাকার্তা ট্যুরিস্ট ম্যাপ

জাভা দ্বীপের মধ্যভাগের অন্যতম সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রদেশ যোগজাকার্তার (সংক্ষেপে যোগজা) পত্তন হয় ১৭৫৫ সালে। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ছোট প্রদেশ যার রাজধানী একই নামে। ১৭৫৫ সালে মাতারাম সাম্রাজ্যের রাজকুমার মান্কুবুমি তার সুলতানাতের রাজধানী হিসেবে একে ঘোষণা করেন। বর্তমানেও এটি সুলতান কর্তৃক শাসিত - ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ এটি যা এরকম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। জাভা দ্বীপের শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে একে ধরা হয়। ১৯৪৬ সালে নব ঘোষিত ইন্দোনেশিয়া রিপাবলিকের রাজধানী এখানে স্থানান্তরিত হয় ১৯৫০ সাল পর্যন্ত - যে পর্যন্ত ডাচরা ইন্দোনেশিয়া পুনর্দখল করে রেখেছিল।

যোগজাকার্তা - আদিসুতজিপতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরযোগজাকার্তা - আদিসুতজিপতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

যোগজাকার্তা যেই দিক দিয়ে জাকার্তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা - সেটি হচ্ছে ৩৩ বর্গ কি.মি.র শহরে মাত্র ৫ লাখ লোকের বসবাস। বেশ ছিমছাম, গুছানো একটি শহর যা পর্যটকে পূর্ণ থাকে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় শহরও বটে - এখানে বেশ কটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে সমগ্র ইন্দোনেশিয়া থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে আসে।
হোটেলে ওঠার কিছু পরেই বের হয়ে গেলাম বিচের দিকে - ৭ সিটের গাড়ি ভাড়া করা ছিল (২৪ ঘন্টায় ৫০ ডলার)। কিন্তু পথে সুলতানের প্রাসাদ (ক্রাতোন) দেখে যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। শুনেছিলাম যে বীচে তাজা সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় কিনতে যা আপনার সামনেই গ্রীল করে দেবে। ওখানে গিয়ে দেখি একটি যায়গায় কিছু মাছ বিক্রি হচ্ছে - কিন্তু চারিদিকে খুব অন্ধকার। আর দুরে রেস্টুরেন্ট আছে কিন্তু সেখানের পরিবেশ ভাল লাগল না। অত:পর শহরের দিকে ফেরত আসলাম এবং পথে একটি সিফুড রেস্টুরেন্টে রাতের ভোজ সারলাম।

বড়বুদুরবড়বুদুর

পরদিন ভোরে আমাদের বড়বুদুর মিশন শুরু হলো। নবম শতাব্দিতে নির্মিত এই বৌদ্ধমন্দিরটি (বর্তমানে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। চৌদ্দ শতাব্দীতে মুসলমানদের কাছে পতনের পূর্বে জাভা দ্বীপ হিন্দু এবং বৌদ্ধ শাসিত ছিল।
বড়বুদুরের একাংশবড়বুদুরের একাংশ

বড়বুদুর স্থাপনাটি একাধারে গৌতম বুদ্ধের সম্মানে একটি মন্দির এবং বৌদ্ধদের একটি তীর্থস্থান। এই তীর্থযাত্রার শুরু হত মন্দিরের নীচ থেকে বৃত্তাকার পথে ঘুরে ঘুরে কামধাতু, রুপধাতু এবং অরুপধাতু - বৌদ্ধধর্মের এই তিনটি আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করত। এই যাত্রা পথে তাদের সহায় হত ২৬৭২টি গল্প চিত্রায়িত রিলিফ প্যানেল -যা এখনও বিদ্যমান।

২৬৭২টি রিলিফ প্যানেলের একটি২৬৭২টি রিলিফ প্যানেলের একটি

এটি মালয় শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্যের অধীনে শৈলেন্দ্ররাজবংশের দ্বারা নির্মিত। এটি তৈরি করতে ৭৫ বছর লেগেছে এবং ৮২৫ সালে শেষ হয়।

চৌদ্দশত সালের পর অনেক জাভাবাসী মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করলে এই মন্দিরটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় এবং পরবর্তী শতকগুলোতে আগ্নেয়গিরির ছাইভস্ম এবং জঙ্গল দ্বারা ঢেকে যায়। ঊনবিংশ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ শাসকরা এটি খুঁজে বের করে এবং পরে ডাচ শাসকরা এর সংস্কার শুরু করে এবং বিশ্বে পরিচিতি পায় এটি। এখনও বছরে একবার এখানে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হয়।

মন্দিরে পর্যটকদের ভীড়মন্দিরে পর্যটকদের ভীড়

মন্দিরটিকে ভালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে দেখা গেল। আর বিদেশী ট্যুরিস্টদের জন্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশ্রামাগার, চলন প্রতিবন্ধীদের জন্যে হুইল চেয়ার ইত্যাদি। অবশ্য থাকবে না কেন - স্থানীয় পর্যটকদের চেয়ে বিদেশীদের কাছ থেকে দশগুণ টিকেটের দাম নেয়া হয়।

সামনে থেকে এটি দেখা অবশ্যই একটি বিস্ময় ছিল। আর সেই তীর্থযাত্রার স্থান দিয়ে ঘুরে ঘুরে উপরে যাওয়া। সেই রিলিফগুলো সম্পর্কে জার্মান, জাপানী, ইংরেজী ইত্যাদি ভাষায় চারদিকে গাইডদের অবিশ্রান্ত বর্ণনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া অন্যরকম আবহ এনে দেয়।

এই ছিদ্রযুক্ত স্তূপের ভেতরে বৌদ্ধমুর্তি আছে।এই ছিদ্রযুক্ত স্তূপের ভেতরে বৌদ্ধমুর্তি আছে।

অবশেষে উপরে উঠলাম - সেখানে মূল বেদী বা স্তূপে একটি উন্মুক্ত বৌদ্ধ মূর্তি আছে। পুরো মন্দিরে পাঁচশরও বেশী এরকম স্তূপ ছিল যার ভেতরে একটি করে বৌদ্ধমূর্তি ছিল। তবে এখন ৩০০টিরও অধিক ভাঙ্গা এবং অনেকগুলো চুরি গেছে যখন এটি পরিত্যক্ত ছিল তখন।

দুরে মেরাপি পাহাড়দুরে মেরাপি পাহাড়

আমরা দুরে দেখতে পেলাম পুলিশ পাহারায় অনেকগুলো ট্যুরিস্ট বাস আসছে। তখন দেখলাম বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হলো। তারা একে অপরকে বলতে লাগল যে ওই আসছে। তখন মনে পড়ে গেল যে আমি একটি আর্টিকেলে পড়েছিলাম - ইন্দোনেশিয়াবাসীরা দল বেধে এটি দেখতে আসে - তখন অন্য পর্যটকদের জন্যে কঠিন হয়ে যায় ঠিকমত দেখা। তাই তারা সকাল সকাল আসার চেষ্টা করে ভীড় এড়ানোর জন্যে। রোদের তাপ চড়া হতে শুরু করলে আমরা নীচের দিকে নামা শুরু করলাম।

(চলবে .. পরবর্তী আকর্ষণ যোগজাকার্তার প্রামবানান হিন্দু মন্দির - এটিও নবম শতাব্দীর)

ছবির সূত্র:
১) প্রথমটি এখান থেকে
২) ট্যুরিস্ট ম্যাপ উইকিপিডিয়া থেকে
বাকিগুলো আমার তোলা

Wednesday, April 28, 2010

কাসেলে একদিন

জার্মানি ছেড়েছি আট মাস আগে। আবার হঠাৎ করেই বার্লিন যাবার সুযোগ এসে গেল গত মাসে। আইআইজের একটি কনফারেন্সে সিটিজেন মিডিয়া নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের অনুরোধ করলাম অফিশিয়াল প্রোগ্রামের সাথে আরও চারদিন যোগ করে ফিরতি ফ্লাইট রাখতে - আমার কিছু ব্যক্তিগত কাজ করতে চাই। তারা বলল যেহেতু সরকারী ফান্ডে ভ্রমণের খরচ মেটানো হচ্ছে তাই কিছু বাধ্যবাধকতা আছে- বাড়তি দুদিনের বেশী তারা ফ্লাইট পেছাতে পারবে না। চিন্তায় পড়ে গেলাম - কারণ আমার ইচ্ছা ছিল এবার একটু সময় নিয়ে কাসেলে যাবার। মক্কার মানুষ যেমন হজ্জ্ব পায়না তেমনি আমার জার্মান প্রবাসকালে শুধু হাসিবের সাথে একবার দেখা হলেও কোন সচল সমাবেশে যোগ দেয়া হয় নি। সুমন, হিমু, ধুসর গোধুলি, তীরন্দাজ প্রমুখের সাথে দেখা করার আকাঙ্খাটি ছিল তাই প্রবল।

সেই মোতাবেক সবাইকে ইমেইল করলাম যে একসাথে হওয়া যায় কিনা। তীরন্দাজ ভাই জানালেন ইচ্ছে থাকলেও তিনি আসতে পারছেন না। ধুসর গোধুলিকে আশা করেছিলাম কিন্তু বেচারা আসতে পারল না। হিমু বলল আপনি আসেন - সব হবে। আর আমি বার্লিন পৌঁছেই অফিসিয়াল প্রোগ্রামের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কাজগুলো সেরে নিলাম। এবারে ইচ্ছে করেই বার্লিনে পরিচিত কয়েকজনের আমন্ত্রণ গ্রহণ না করে, এবং দেখা না করে অবসর সময়টুকু ব্যয় করলাম কার্য সম্পাদনে ও বার্লিন শহর ঘুরে কিছু ইচ্ছাপূরণে। কাজেই কাসেল যাবার পথে সব বাধা দুর হল।

এরমধ্যে আমি মেইল দিয়েছিলাম আমার সম্ভাব্য আগমন সময় জানাতে এবং কাসেলের ঠিকানা ও সচলদের ফোন নাম্বার জানতে চেয়ে - তার কোন জবাব নেই। অনেক খুঁজে পেতে সুমনের একটি নম্বর যোগাড় করে ফোন দিলাম। উদ্বেগের কথা জানালাম যে আমার কাছে তো ঠিকানা নেই - কিভাবে যাব? সুমন বলল আপনি কোন চিন্তা করবেন না - আপনাকে নিয়ে আশা হবে স্টেশন থেকে।
জার্মানির রিজিওনাল ট্রেনজার্মানির রিজিওনাল ট্রেন
অবশেষে মার্চ মাসের তৃতীয় শনিবার বার্লিন থেকে কাসেল রওনা দিলাম রিজিওনাল ট্রেনে। আগের কয়েকদিন আবহাওয়া খারাপ থাকলেও সেদিন হঠাৎ বসন্ত - তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি উঠে গেল। ফুল ও পাতা ফোটা ছাড়া বসন্তের আমেজ পরিপূর্ণ রূপে পাওয়া যায় না। তবে রোদের প্রতিফলন থাকায় ছাইরঙা ন্যাড়া ডালপালাগুলো যেন অদ্ভুত এক দ্যুতি ছড়াতে লাগল। পথে দুবার ট্রেন বদলাতে হল।

কোথায় বসন্ত?কোথায় বসন্ত?
জার্মান সময়ানুবর্তিতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। এটি কম ভাড়ার রিজিওনাল ট্রেন - দ্রতগতির আইসি বা ইসি নয় তবুও কাটায় কাটায় তার আগমন ও প্রস্থান।

কাসেল মূল স্টেশনে এসে দেখি কারও খোজ নেই। আবার দিলাম ফোন সুমনকে। সে বলল - হিমুতো আপনাকে আনতে গেল - আপনি দাঁড়ান এসে যাবে। ইতোমধ্যে আমি একটি ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী পেয়ে গেলাম - সেটা দেখে সময় কাটাতে লাগলাম। দশ মিনিটের মধ্যে হিমু এসে হাজির - ফোনে দিক নির্দেশনা হচ্ছিল - আমি মনে হয় আপনাকে দেখতে পাচ্ছি - আপনি আমার সামনেই - এমন বলে যার অবসান - আসলে তো আমাদের আগে কখনও দেখা হয় নি!

পরে হিমুর এই রোগটির কথা জানা গেল - সুমন চৌধুরী জানালেন প্রভা নামক কোথাকার কোন নারীর বিয়ের খবর প্রকাশিত হয়ে যাবার পর হিমু সব কিছুতেই লেইট। খেয়ালিপনা ও মেজাজ মর্জি মোতাবেক এই বিলম্বের মাত্রা দশ মিনিট থেকে দেড় ঘন্টা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।
চৌধুরীর হেঁসেলের দেয়ালচৌধুরীর হেঁসেলের দেয়াল
তবে এই বিলম্বের কারনে কিন্তু তার সৃষ্টি ক্ষমতা থেমে থাকে নি। বরঞ্চ আরও নতুন উদ্যমে তাকে বিভিন্ন কাজে লেগে থাকতে দেখা গেছে। ওই যে কথায় বলে না বেদনা সৃষ্টিকে প্রনোদনা দেয়। আমি গিয়েই হতবাক। বিখ্যাত চৌধুরীর বিরিয়ানীর জন্যে সব এন্তেজাম করা হয়েছে। হিমু সেখানে তার সৃষ্টিশীলতা যোগ করতে দুইবার দোকানে গেল বিভিন্ন মসলা আনতে।
স্টিকার: গন্ডগোল ও অগোছানো অবস্থার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থীস্টিকার: গন্ডগোল ও অগোছানো অবস্থার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী
ছিমছাম ডর্মটিতে চৌধুরীর বিখ্যাত হেঁসেলটিকে সাজাতে বললে যে কোন গৃহিনীই ফিট হয়ে পড়ে যাবেন। হাড়ি পাতিল ইতস্ততঃ ছড়ান, আধোয়া অবস্থায় কারও মিক্সার পড়ে রয়েছে, টেবিলের উপর নানা কিছু পড়ে আছে। অতিথির সম্মানে সেগুলোর একটি গতি হল।
চৌধুরীর কেরামতিচৌধুরীর কেরামতি
তার পর চৌধুরী আমি হিমু - ম্যারাথন আড্ডার সাথে চলল চৌধুরীর কারিশমা। লোকে শুধু শুধু চৌধুরীর বিখ্যাত তেহারীর প্রশংসা করে না। আমার মনে হয় এই রেসিপি পাঁচ তারা হোটেলে ভাল মানাবে। আমার মত হতভাগা যে সাত দিন ধরে ভাত খায় নি তার জন্যে সেটি ছিল অমৃত (দু:খিত পেটে ক্ষুধা থাকায় ছবি তুলতে ভুলে গিয়েছিলাম)। ধারণ ক্ষমতার বেশী পরিমাণই খেলাম ফলে তা আমাদের আড্ডায় বিঘ্ন ঘটাল। উদর বলছিল যে এই অমৃত ভোজের পর সুখ নিদ্রাই শ্রেয় হবে।
পরেরদিন যাবার কথা হেরকিউলিসে। কিন্তু সকাল থেকেই বৃষ্টি বাগড়া দিল -তাই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল। হিমুর আসার কথা ১১টায় - কিন্তু সে যথারীতি দেড় ঘন্টা লেট। ইতিমধ্যে বলাই এবং বলাইনি এসে হাজির - এসেই বদ্দার সাথে রান্নাতে হাত দিল। ওদিকে আড্ডা, পিসিতে ক্রিকেট দেখা ইত্যাদি চলল।

প্রকাশিত বই প্রথম হাতে পাওয়ার সুখপ্রকাশিত বই প্রথম হাতে পাওয়ার সুখ

বলাইনি হিমুর প্রথম প্রকাশিত বই 'ম্যাগনাম ওপাস ও কয়েকটি গল্প' নিয়ে এসেছিল। হিমু এর আগে বইটি ছুঁয়ে দেখেনি। তাই মুহূর্তগুলো ছিল ধরে রাখার মত। হিমুর প্রথম মন্তব্য হল ফন্টটি একটু ছোট হলেও ছাপানোটা খুব সুন্দর হয়েছে।

বইয়ের প্রথম এবং শেষ অটোগ্রাফবইয়ের প্রথম এবং শেষ অটোগ্রাফএর পর বলাইনি অটোগ্রাফ চাইলে সে বলল যে এটাই আমার প্রথম ও শেষ অটোগ্রাফ হবে। তাই এই অমূল্য মুহূর্তটি আবারও ধরে রাখা হলো।

আমার ফিরতি ট্রেন ছিল বিকেল চারটায়। আড্ডার ফ্লো এবং খাবারের আয়েশ ঠিক রাখতে সেটি পেছানো হল সন্ধ্যা ছটায়। এরপর আবার একপ্রস্থ জম্পেশ মধ্যাহ্ন ভোজন। এই স্মৃতিগুলো ভোলার নয়।

ফিরতি পথে ট্রেনে ভাবছিলাম - কিসের টানে কাসেলে এসেছিলাম? যেখানেই যাওয়া হয় ব্লগ সংস্লিষ্ট বন্ধুদের এখন খুঁজে ফিরি। দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের বারোয়ারী আড্ডা এখন ভার্চুয়াল আড্ডায় রুপ নিয়েছে। কিন্তু তবুও সাক্ষাতের আকাঙ্খাটি থেকেই যায়।

এই সম্পর্কগুলো কি আবেগঘন বা সাময়িক? মতের মিল হয় বলেই প্রাথমিক যোগাযোগ। আমার উপরি প্রাপ্তি এই যে ব্লগের কারণে বেশ কিছু বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়েছে যারা খুবই চমৎকার মানুষ এবং পাশাপাশি একেকজন বিশেষ মেধাসম্পন্ন এবং আমি প্রতিবারই তাদের সঙ্গ উপভোগ করি। আমি মনে করি এইসব সম্পর্ককে নিত্যনতুন ও কল্যাণকর উদ্যোগে কাজে লাগাতে হবে - এবং তা হচ্ছেও স্বল্প পরিসরে।

আমি সেইদিনের অপেক্ষায় থাকব যেদিন এইসব একতাকে বিশাল কোন অফলাইন উদ্যোগে কাজে লাগানো যাবে।

Thursday, March 25, 2010

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিতর্ক

একটি বিষয় নিয়ে আমাদের সবারই স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরী, বিশেষ করে যারা প্রবাসে আছেন বা অচিরেই যাদের ভিনদেশে ভ্রমণ করতে হবে তাদের। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা এবং এ নিয়ে সমস্ত গুজবকে উড়িয়ে দিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করা।

আমরা এরকম শুনে আসছিলাম আগে থেকেই যে আগামী পহেলা এপ্রিল থেকে কারও কাছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট না থাকলে তাকে বিদেশ ভ্রমণ করতে দেয়া হবে না। এ নিয়ে পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশ এই ডেডলাইন মিস করতে যাচ্ছে এ কথা আমরা সবাই জানি। ২০০৭ সালেই ভোটার রেজিস্ট্রেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের সাথে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট হবার কথা ছিল, কিন্তু আমরা যে কারণে জাতিগতভাবে অনেক ট্রেনই মিস করি, এ ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে আছি।

সর্বশেষ সংবাদ হচ্ছে সরকারের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রকল্প অবশেষে চালু হচ্ছে (প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিতর্কে যাব না) এবং এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে এই নতুন পাসপোর্টের জন্যে আবেদন তারা গ্রহণ করবে। তবে দু:সংবাদ হচ্ছে বাংলাদেশের মোট পাসপোর্ট সংখ্যা ৬৬ লাখ এবং এই পরিমাণ পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন করতে প্রায় তিন বছর লাগবে। কিন্তু এখন যেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ যে পহেলা এপ্রিলের পর আসলে কি হবে।

আমি এ নিয়ে বেশ কিছু খোঁজ খবর করেছি। তাতে দেখেছি যে ভুল তথ্যে ভরা বিভিন্ন রিপোর্ট এবং এক শ্রেণীর লোক এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। বিতর্কিত হিটখোর সাংবাদিক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী তার অনলাইন ব্লিটজ পত্রিকায় সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন দিয়ে বসলেন যে "কোন বাংলাদেশী এপ্রিলের পর ভ্রমণ করতে পারবেন না"। জন্ডিস সাংবাদিকতার চুড়ান্ত উদাহরণ এটি - কারণ উনি অনেক গল্প ফেঁদেছেন।

এ নিয়ে আমাদের দেশে অনেক রিপোর্ট হয়েছে কিন্তু প্রকৃত সত্য কম স্থানেই উল্লেখিত হয়েছে (আমাকে কেউ কি এ সংক্রান্ত কোন সঠিক রিপোর্টের লিন্ক দিতে পারেন?)। সত্যটি হচ্ছে এই ডেডলাইনটির প্রণেতা দ্যা ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (বাংলাদেশ যার সদস্য)। এটি বলেছে যে এর সদস্য দেশগুলোকে ২০১০ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু করতে হবে।

মেশিন রিডেবল নয় এমন পাসপোর্ট কিন্তু তামাদি হয়ে যাচ্ছে না যতদিন না পর্যন্ত এর বৈধতা আছে। তবে এখন পর্যন্ত একটি ডেডলাইনের কথা শোনা যাচ্ছে - ২০১৫ সালের ২৪শে নভেম্বর (তথ্য যাচাই করতে সূত্র দরকার) - এর পরে ন্যূনতম মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট থাকতে হবে একজন ভ্রমণকারীর।

এবং যে বিষয়টি অধিকাংশ পত্রিকার রিপোর্টই এড়িয়ে গেছে যে কাকে ভ্রমণ করতে দেয়া হবে এবং কাকে দেয়া হবে না, এই এক্তিয়ার কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর। যেমন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসা ওয়েইভার দেশগুলোর নাগরিকদের জন্যে (যে সব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ভিসা লাগে না) বাধ্যতা মূলক মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের ডেডলাইন প্রথমে ঘোষণা করেছিল ২০০৩ সালে যা পরবর্তীতে কয়েকবার পেছানো হয়। অবশেষে ২০শে জানুয়ারী ২০১০ থেকে এই সিদ্ধান্তটি বলবৎ হয়। তবে যাদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নেই তাদের ভিসা নিয়ে প্রবেশ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে এইসব ডেডলাইন পরিবর্তন হতে পারে এবং দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। আর বাংলাদেশীরা ভ্রমণ করতে পারবে না এইসব জুজুর ভয় কারা দেখাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের খোঁজ নেয়া দরকার।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সহসাই আমাদের হাতে আসছে না। এই নতুন পাসপোর্ট প্রণয়নে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কার দরকার। বাংলাদেশের ৬৬টি মিশন ও কনসুলেটে বসানো দরকার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ- যেসব সংক্রান্ত কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি যদিও সরকারের এ নিয়ে পরিকল্পনা আছে।

তবে সবচেয়ে দু:খের বিষয় হচ্ছে এর পরবর্তী প্রযুক্তি আরএফডি চিপসহ বায়েমেট্রিক ই-পাসপোর্ট চলে এসেছে এবং ২০১৪ সালের পর আমরা আবার এরকম একটি ডেডলাইনের মুখোমুখি হব। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত - পাকিস্তান অচিরেই ই-পাসপোর্ট দেয়া শুরু করবে। আমরা আবার ট্রেন মিস করব এবং অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হব।

(ছবি উইকিপিডিয়ার সৌজন্যে)

Sunday, March 14, 2010

বার্ধক্য



বার্ধক্য

আমার ইদানিং হয়েছে শনির দশা। পেটের ব্যামো ছিল অনেকদিন ধরেই। সময় মত খাওয়া দাওয়া করে তাকে বাগে এনেছিলাম একরকম। জানুয়ারি মাসে পরিবারের একজনকে ব্যাংকক নিয়ে যেতে হল চিকিৎসার জন্যে। তারই অনুরোধে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ঢেকি গেলার কাজটি ঠিক হয় নি এখন বুঝি। ডাক্তার একগাদা স্বাস্থ্য পরীক্ষা লিখে দিল, আল্ট্রা-সোনো, এন্ডোসকপি আর কত কি! একে একে সব যজ্ঞ সমাধা করে এন্ডোসকপির জন্যে এগুলাম। আমার ধারণা ছিল না যে এটির জন্যে রীতিমত বন্ড সই করে অনুভূতি বিলোপ ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে অজ্ঞান করে মুখের ভিতর নল ঢুকিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয় ও পাকস্থলীর অংশ কেটে পরীক্ষার জন্যে নেয়া হয়। টেবিলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চৈতন্য নাশ হল। জ্ঞান ফিরেই শুনি ডাক্তার বলছেন আমার পাকস্থলীর বৃত্তান্ত। অনেক কথাই ধরতে পারিনি - তবে বুঝলাম মারাত্মক কিছু নয় - কিঞ্চিত আলসার আছে এবং এইচ পাইলোরি নামক একটি মন্দ ব্যাক্টেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে টিস্যু স্যাম্পলে। শেষে তিনি বললেন আমার লিভারের উপর সাদা সাদা কিছু দেখা গেছে এবং তার মতামত হচ্ছে এর জন্যে লিভার বিশেষজ্ঞকে দেখান দরকার। আমি চাইলে এক্ষুণি সেখানে নিয়ে যেতে পারে সে। আমার মাথা তখনও ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। আমি বললাম রোসো, পরে দেখাব - আমি এখন পরিবারের কাছে যেতে চাই।

আমাকে দেয়া হল দুটি অ্যান্টিবায়োটিকসহ চারটি ঔষধের কম্বিনেশনে ১০ দিনের ডোজ যা শুরু করলাম সেদিনই। জাকার্তায় ফিরতি ফ্লাইট ছিল একদিন পরে। প্লেনেই শুরু হলো ডায়রিয়া এবং ঘরে ফিরেও তা চলতে লাগল - মনে হয় ঔষধের প্রতিক্রিয়া। সে এক কলিকাল - তার দুদিন পরে আমি পুরো বিছানায়। ডায়রিয়া কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না - সাথে অরুচি, বমি, কাশি - অনেকদিন আমার এমন অসুখ হয়নি। পরিচিত এক ডাক্তারের পরামর্শে ওরস্যালাইন ইত্যাদি পথ্যে হাসপাতালে যাওয়া রোধ করা গেল আপাতত। ব্যাংককের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগের উপায় পাওয়া গেল না। মনে হল অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ না করলে মারা যাব। তবে ঔষধ বন্ধ করার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটল না। তারপর অবধারিতভাবে স্থানীয় হাসপাতাল, ডাক্তার - অবশেষে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটল। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হইনি এখনও - অরুচি, ওজন হ্রাস ইত্যাদি বিদ্যমান।

আমি এখন ভাবি - সামান্য এক পেটের অসুখের জন্যে আমি এতটা ভেঙ্গে পরেছিলাম। আর এই বোধটি আরও জাগ্রত হয় বাবাকে দেখার পর। বাবা এসেছিলেন জাকার্তাতে, ছেলে-বউয়ের সংসার দেখতে; নাতনীর সাথে সময় কাটাতে - যে নাতনী তার কাছে জীবনের প্রথম এক বছর ছিল। উনি তাকে কতটুকু মিস করেন তা তাদের ফোনালাপে বোঝা যায়। কিন্তু দেশ ছাড়ার পর এই কয়েক বছরে বাবা-মা যেন অনেক বুড়িয়ে গেছেন। ৭২ বছর বয়সী বাবার গালে এখন সাদা দাড়ি। আমার মেয়ে গতবছর দেশে গিয়ে বলে (ছবির স্মৃতিতে) আমার না আরেকটা দাদা আছে যার দাড়ি নেই!

এয়ারপোর্টে দাড়িয়ে আছি বেশ কিছুক্ষণ - প্লেন আসতে দেরী করছে। অবশেষে তিনি এলেন - পড়নে স্যুট। কিন্তু একি? বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ - হাতে ভারি এক ঝোলা। সাথে ফুফাতো ভাই ছিল। বলল - শরীরটা ভাল নেই - মালয়েশিয়ায় লম্বা ট্রানজিটে কষ্ট হয়েছে অনেক। তারপরও মনের জোরে এসেছেন - হাতে ছেলের বউয়ের আবদারের বইয়ের ঝোলাটি বোনপোকে দেননি পর্যন্ত। বাড়ি ফিরে ঘোষণা দিলেন দুদিন বিশ্রাম নেবেন।

এরপর তাকে ঘুরিয়ে দেখানোর আমাদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা ছিল। নাতনী সাফারি দেখাবে বলে এতদিন প্রলোভন দেখিয়েছে। সেই সাফারিতে যেতে তার কষ্ট হল। বুড়ো বয়সে অনেক কষ্ট - টয়লেটের চাপ ধরে রাখা - বেশিক্ষণ হাঁটতে না পারা। মনে হল নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস নেই। অথচ তার এই অক্ষমতার কথা স্বীকারও করছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই মিথ্যে প্রবোধ দিয়েছেন - না ঠিক আছি। ফলস্বরূপ কষ্টও পেয়েছেন।

এরপর সপরিবারে বেড়াতে যাওয়া হল যোগজাকার্তা। বিমানে ওঠার আগে হুইল চেয়ারে উঠতে বলাতে তার ভয়ানক আপত্তি। তবে আমাদের পাল্লায় পড়ে তাকে সেটাতে উঠতেই হল। সেখানে হোটেলে উঠে তার জন্যে বরাদ্দ রইল বিশ্রাম। পরদিন বরবুদুর বৌদ্ধমঠ দেখতে পারলেও পারামবালান মন্দিরে ঢুকে তার শরীর খারাপ হয়ে গেল। আমরা দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে এর পরদিন তাকে আবার জাকার্তা নিয়ে এলাম।

এখন চিন্তা হল তিনি কিভাবে দেশে ফেরত যাবেন। যাবার পথে মালয়েশিয়ায় কয়েকদিন স্টপওভার আছে - তার বিশাল পরিকল্পনা ছিল পেনাঙ্গ যাবেন ইত্যাদি। আমরা বললাম সেই পরিকল্পনা বাদ দিন আর টিকেট করে দিচ্ছি - দ্রুত ঢাকা চলে যান। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা, সেই শরীর নিয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া গেলেন এবং সীমিত পর্যটনের পর এখন গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছেন। তবে এই কয়েকদিন আমাদের বেশ উদ্বিগ্ন করে রেখেছিলেন।
আমি এখনও বাবার ক্ষীণকায় শরীর, সেই বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ, সিঁড়িতে কষ্ট করে ওঠা ইত্যাদি ভুলতে পারিনা। অথচ এই বাবাই এই কয়েক বছর আগেও নিজেই অনেক পরিশ্রমের কাজ করতেন।

আর যখনই ভাবি এই বার্ধক্যকে জয় করার তার প্রচণ্ড মনোবলের কথা তখন নিজের ছোটখাট অসুখের জন্যে চিন্তাকে খেলো মনে হয়। আর মনে হয় আমাদের ও একসময় সেই দিন আসবে। তার জন্যে কি আমরা তৈরি?

ফ্লিকার থেকে নেয়া উপরের ছবিটি জন্যে শহরবন্দীর কাছে রইল কৃতজ্ঞতা।

Tuesday, January 12, 2010

আল্লাহ তুমি কার!

"যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ
তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষত।
জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি
ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ী রূপে
ক্রমশঃ উঠছে ফুটে ক্ষয়রোগ, রোগের প্রকোপ"

রাজনৈতিক ইসলামের স্বরূপ উন্মোচন করে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এই কথাগুলো লিখেছিলেন কয়েক দশক আগে তার 'ধর্মান্ধের ধর্ম নেই' কবিতাটিতে। সেই কথাগুলো আজও প্রযোজ্য আমাদের দেশে এবং যেমন ধরুন মালয়েশিয়ায়। সেই দেশটি আমাদের দেশের মত ব্রিটিশ কলোনি ছিল এবং ১৯৬৩ সালে স্বাধীন হবার সময় ব্রিটিশ আইনকে উত্তরাধিকার হিসেবে পায়। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের এই দেশে মোল্লাদের প্রভাব ছিল শুধু মসজিদের ভেতরেই। এর প্রথমদিককার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ। সাথে সাথে মালয়েশিয়ায় প্রচুর চৈনিক এবং ভারতীয় শ্রমিক আসে কাজ করতে। সরকার তাদের ভোটাধিকার দেয় এবং তারাও ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতায় আসতে বিরত রাখে। মালয়রা এমনিতে শান্তি প্রিয় জাতি, তাই বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান ছিল এতদিন কোন বড় ঝামেলা ছাড়াই।

বর্তমান সমৃদ্ধ মালয়েশিয়ার রুপকার মাহাথির মোহাম্মাদ নিজে খুব আধুনিক হলেও মালয়েশিয়ার মুসলমান পরিচয়টি আগে বাড়িয়ে রেখেছিলেন এবং ইহুদী ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি সমালোচনায় তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তবে সেটি কখনই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যায় নি এবং অনেকে বলে যে তার এই টোনটি ছিল বিরোধী দলকে মোকাবেলায় মুসলমান ভোট টানার চেষ্টার ফসল। তবে বিগত দশকে মুসলমান মালয়রা (৬০%) সবকিছুর মধ্যে বেশী পরিমাণে ধর্মীয় অনুশাষণকে টেনে এনেছে।
বাংলাদেশের মত মালয়েশিয়াও মুসলমানদের ফ্যামিলি কোর্টের ব্যাপারস্যাপারগুলো - বিয়ে, বিচ্ছেদ, শিশু অধিকার ইত্যাদি শরিয়া আইন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়। তবে মালয়েশিয়ায় কিছু ফৌজদারী আইনও শরিয়া আইন দ্বারা নির্ধারিত - যেমন মদ্যপান, রোজা না রাখা, বিবাহ বহির্ভূত যৌনসম্পর্ক ইত্যাদি।

উদাহরণস্বরূপ মদ্যপানের শাস্তি জরিমানা বা সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে জেল বা বেত্রাঘাত। সেদেশে মদ বিক্রি করার সময় কিন্তু সাধারণত পরীক্ষা করা হয়না আসলেই ক্রেতা মুসলমান কিনা এবং এতদিন পর্যন্ত এটি ঢিলাঢালা ভাবেই ছিলি এবং সর্বোচ্চ জরিমানার কথা শোনা গেছে। তবে গত বছরে মালয়েশিয়ার এক মডেল খবরের হেডলাইনে চলে আসে কারণ তাকে বিয়ার পানরত অবস্থায় দেখা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বেত্রাঘাত এর শাস্তি দেয়া হয়। মালয়েশিয়ার ইসলামী শাসন হার্ডলাইনে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় গত আগষ্টে ব্ল্যাক আইড পিজ এর কনসার্টে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে। সরকার কারণ দেখিয়েছে যে আইরিশ বিয়ার প্রস্তুতকারী গিনেস এর স্পনসর - তাই তারা এটি মুসলমানদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছে।
উপরের যুক্তিটি কি আপনি মানতে পারছেন? দাঁড়ান, আপনার জন্যে আরও চমক অপেক্ষা করছে। তিন বছর আগে মালয়েশিয়ান সরকার অমুসলিমদের আল্লাহ কথাটি ব্যবহার নিষেধ করে দেয়। হেরাল্ড উইকলি নামক পত্রিকা অনেক দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে সম্প্রতি কোর্ট থেকে রায় পায় যে সে দেশের অমুসলিমরা আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। কোর্ট যুক্তি দেখায় যে মালয়েশিয়ার সাবাহ এবং সারাওয়াক আদিবাসী খ্রীষ্টানরা বহু শতক ধরে আল্লাহ বলে আসছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নাজিবের সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।



এই ব্যাপারটি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু না। গত রবিবার থেকে মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি চার্চে আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। আজ আলজাজিরায় ইনসাইড স্টোরী অনুষ্ঠানে এই নিয়ে বিভিন্ন জনের মতামত শুনছিলাম। মালয়েশিয়ার ইয়থ মুভমেন্টের একটি সুট পরা যুবক তোতা পাখির মত আউরে যাচ্ছে যে আল্লাহ শুধু মুসলমানদের, খ্রীষ্টানদের কোন অধিকার নেই আল্লাহ বলার। তার বক্তব্য খ্রিষ্টানরা আল্লাহ বলে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে দিতে চাইছে। ৯% খ্রিষ্টান ৬০% মুসলমানদের কিভাবে বিভ্রান্ত করবে জিজ্ঞাসা করা হলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নি। আরেক বিশেষজ্ঞ বললেন এটি হচ্ছে রাজনৈতিক ইসলামের খেলা। ইচ্ছে করে মাঠ গরম করা হচ্ছে সরকারী দল দ্বারা নির্বাচনে বিরোধী দলকে রুখতে।

এই বিষয়টি নিয়ে লেখার একটি উদ্দেশ্য আছে আমার। মালয়েশিয়ার মত বহু ধর্মীয় গণতন্ত্রের দেশে (বর্তমানে অমুসলিম প্রায় ৪০%) যখন এই অবস্থা, আমাদের দেশে (প্রায় ৮৮% মুসলমান) পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াতে পারে ভবিষ্যৎে? ভেবে দেখেছেন কি?

বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের (১৯৭২) ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ছিল:

"কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠন করা যাবে না।"

এই কথাগুলো ১৯৭৭ সালে পঞ্চম সংশোধনী দ্বারা বাতিল করে দেয়া হলে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামীর মত দলগুলো পুনরায় আত্মপ্রকাশের সুযোগ পায়। এর ফলশ্রুতি স্বরূপ আজকে আমাদের দেশেও ক্ষয়রোগের আভাস দেখা যাচ্ছে, যা দ্রতই সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।

সম্প্রতি আদালত নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল করার। এটি সফল হলে আমরা এই ক্ষয়রোগ সারাতে পারব। না হলে আর বেশী দেরী নাই শরীরে পচন ধরার। তখন অঙ্গহানির মত মারাত্মক ঘটনাও ঘটতে পারে। সাধু সাবধান।

ছবি, দি ফাউন্ড্রির সৌজন্যে