Showing posts with label বাংলা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা. Show all posts

Saturday, February 21, 2009

কপিরাইট, কপিলেফ্ট এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কিছু মেধাস্বত্ব চৌর্যবৃত্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্লগারদের আশংকার কারনে কপিরাইট সংক্রান্ত আলোচনা জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।

ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইন প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপটি ছিল ১২২ বছর আগে (১৮৮৬ সালে) সুইজারল্যান্ডের বের্নে ফরাসী কথাসাহিত্যিক ভিক্টর হুগোর প্ররোচনায় প্রটেকশন অফ লিটেরারী এন্ড আর্টিস্টিক ওয়ার্কস ট্রিটির মাধ্যমে। এর পরে আরও এমন কপিরাইট ট্রিটি হয়েছে যেমন ইউসিসি (ইউনিভার্সাল কপিরাইট কনভেনশন) জেনেভা -১৯৫২ সালে এবং প্যারিস - ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশ এই তিনটি ট্রিটিতেই সই করেছে। এই ট্রিটিতে সই করার মাহাত্ম্য হচ্ছে যেসব দেশ এর আওতায় আছে তাদের জনগণের কপিরাইট আপনা-আপনি বলবৎ হবে। কোন সরকারী অফিসে গিয়ে তার নিবন্ধন করা লাগবে না।

কিন্তু সেটা গেল কপিরাইট নির্ধারন। কিন্তু যে বিধিবিধানের মাধ্যমে কপিরাইট লঙ্ঘনের প্রতিকার হবে সেটি কিন্তু সংস্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব আইন মোতাবেক হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে বলবৎ আছে কপিরাইট আইন ২০০০ (২০০৫ সালে সংশোধিত) । এই আইন অনুযায়ী ব্লগের কন্টেন্ট "কপিরাইট" এর আওতায় পরে:

(১) কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যতীত, সাহিত্য, নাট্য বা সংগীত কর্মের ক্ষেত্রে,-
(ক) যে কোন উপায়ে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কর্মটি সংরক্ষণ করাসহ যে কোন বস্তুগত আংগিকে কর্মটির পুনরুৎপাদন করা;
(খ) সার্কুলেশনে রহিয়াছে এমন অনুলিপি ব্যতিরেকে, কর্মটির অনুলিপি জনগণের জন্য ইস্যু করা;
(গ) জনসমক্ষে কর্মটি সম্পাদন করা অথবা উহা জনগণের মধ্যে প্রচার করা;
(ঘ) কর্মটির কোন অনুবাদ উৎপাদন, পুনরুৎপাদন, সম্পাদন বা প্রকাশ করা;
এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কোন কর্ম বা কর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশের বিষয়ে নিম্নবর্ণিত কোন কিছু করা বা করার ক্ষমতা অর্পণ, যথা:-
১৫। (১) এই ধারার বিধান এবং এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, নিম্নলিখিত শ্রেণীর কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান, যথা:- (ক) সাহিত্য, নাট্য, সংগীত ও শিল্পসুলভ আদি কর্ম;
২৩। (১) কোন চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য বা রেখাচিত্রের মূল কপির বা কোন সাহিত্য কর্মের মূল ৩৫[ পাণ্ডুলিপি] বা কোন নাট্য বা সংগীত কর্মের মূল অনুলিপির পুনঃবিক্রয়ের ক্ষেত্রে, অনুরূপ কর্মের প্রণেতা যদি ধারা ১৭ এর অধীন প্রথম অধিকারের মালিক বা তাহার বৈধ উত্তরাধিকারী হন, তাহা হইলে, উক্ত কর্মের কপিরাইটের স্বত্বনিয়োগ সত্ত্বেও, এই ধারার বিধান অনুসারে অনুরূপ মূল অনুলিপি বা ৩৬[ পাণ্ডুলিপির] পুনঃবিক্রয় মূল্যের অংশ পাইবার অধিকারী হইবেন:
৮২। (১) যে ব্যক্তি, চলচ্চিত্র ব্যতিরেকে, কোন কর্মের কপিরাইট বা এই আইনের ধারা ২৩ এর অধীন অর্পিত অধিকার ব্যতীত অন্য কোন অধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তিনি অনুর্ধ্ব চার বৎসর কিন্তু অন্যুন ছয়মাস মেয়াদের কারাদণ্ড এবং অনুর্ধ্ব দুই লক্ষ টাকা কিন্তু অন্যুন পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন:
কপিরাইটের মেয়াদ হচ্ছে ৬০ বছর এবং বেনামী বা ছদ্মনামে লেখার কপিরাইটও করা যায়। আইন বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন এটিতে কতটুকু নিরাপত্তা পাওয়া যায় মেধাসত্ব সংরক্ষণে। কারন আপাতদৃষ্টিতে এটি বেশ পোক্ত মনে হলেও আইনের ফাঁক ফোকর সবসময়ই থাকে।

বাংলাদেশের আইনে ব্লগের কন্টেন্ট এর জন্যে কপিরাইট নিবন্ধন করতে হবে কিনা সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আমি পাইনি। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত জরুরী।

আমাদের একটি শংকার বিষয় যে ১৯৯৬ সালে ঘোষিত দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (উইপো) কপিরাইট ট্রিটি, যাতে ইন্টারনেট এবং আইটি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশ এখনও সই করেনি। উইপোর সাইটে কপিরাইট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানুন।

ইন্টারনেট এবং অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি জনপ্রিয় হবার সাথে সাথে ওপেন সোর্স নামক একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। এই আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় কারন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নতুন শৈল্পিক উদ্ভাবনের জন্যে বিভিন্ন মৌলিক কপিরাইট করা প্রযুক্তি বা কন্টেন্টের প্রয়োজন হয় এবং অনুমতি সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতা পার করে সেগুলো হস্তগত করা (যদিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেগুলো সহজলভ্য) কঠিন হয়ে যায়।

এই আন্দোলন জন্ম দেয় কপিলেফ্ট লাইসেন্সের। কপিলেফ্ট লাইসেন্সের বৈশিষ্ট হচ্ছে এতে লাইসেন্সের মালিক তার কিছু রাইট বা অধিকার উন্মুক্ত করে দেয়। তাদের কাজগুলো তারা পাবলিক ডোমেইনে (কপিরাইটবিহীন) না দিয়ে একে সীমিত ব্যবহারের অধিকার দেয়। উদাহরণস্বরুপ স্রষ্টার নাম উল্লেখপূর্বক একে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা যাবে এবং অবাণিজ্যিক বা গবেষণামূলক ব্যবহার করা যাবে। যে কোন শিল্পই যেহেতু অটোমেটিক কপিরাইটেড হয় তাই কপিলেফ্ট লাইসেন্স তাদেরকে বেশী ব্যবহারউপযোগী করে এবং প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করে। উন্নীত ও জনপ্রিয় শিল্পগুলি কোন প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে অবশ্যই মূল স্রষ্টারা তাদের মূল্য পায়।

কপিলেফ্ট লাইসেন্সের কিছু জনপ্রিয় রুপ হচ্ছে সফ্টওয়্যারের ক্ষেত্রে জিএনইউ জেনারেল পাবলিক লাইসেন্স (জিপিএল) এবং ছবি এবং ওয়েবসাইট কন্টেন্ট (ও ব্লগ) এর ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ কমন্স (এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব পরে)।

এই লাইসেন্সগুলোর সুবিধা হচ্ছে আপনিই নির্ধারণ করতে পারবেন যে কতটুকু ছাড় দেয়া হচ্ছে। যেমন ক্রিয়েটিভ কমন্সে আপনি আপনার নিজস্ব লাইসেন্স তৈরি করতে পারবেন যেখানে বলা থাকবে অবাণিজ্যিক ব্যবহার, মডিফিকেশন ইত্যাদি করা যাবে কি না এবং কিভাবে শিল্পীর নাম উল্লেখিত থাকতে হবে।

অনেকে মনে করেন যে অধিকার ছেড়ে দেয়া মানে হচ্ছে চুরি হয়ে যাবার ভয়। আসলে মূল ব্যাপারটিই কিন্তু এই নীতির উপর তৈরি "It is always important to give credit where credit is due" (নুন খান যার গুণ গাইতেই হবে)। যতভাবেই এই কপিরাইট লাইসেন্সগুলো বিবর্তিত হোক না কেন মূল স্রষ্টা তার ক্রেডিট ঠিকই পান।

বুদাপেস্টে ক্রিয়েটিভ কমন্সের সিইও নামকরা ব্লগার জোই ইতোর একটি ছোট ওয়ার্কশপ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তিনি বোঝালেন মানুষ কেন ইন্টারনেট কন্টেন্ট চুরি করে। ধরুন একটি ছবি ফ্লিকারে দেখে খুব পছন্দ হলো। সেটি তার ব্লগে চাই। কিন্তু ছবি তো অল রাইটস রিজার্ভ লাইসেন্সে প্রকাশ করা। সেটার সূত্র প্রকাশ করলে তাই মামলার ভয় আছে। তাই ক্রপ করে কপি-পেস্ট করে সে ব্যবহার করল। কিন্তু যদি ছবিটি ক্রিয়েটিভ কমন্স নো কমার্শিয়াল -এট্রিবিউশন এই ক্যাটেগরীতে প্রকাশিত থাকত তাহলে সহজেই সেটি ব্লগে দেয়া যেত লিন্কটি উল্লেখ করে। কারন তার ব্লগটি অবাণিজ্যিক। এতে ছবিটির প্রচার হলো ও ব্লগে ব্লগে জনপ্রিয় হল এবং পরবর্তীতে একটি পত্রিকা সেই ছবিটি প্রকাশ করল মূল ফটোগ্রাফারকে সম্মানী দিয়ে। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের ফলেই তার ছবিটি জনপ্রিয় হল ও মূল্য পেল। ফলে তার মূল অধিকার কিন্তু হারালো না।

কপিরাইট বিষয়ে সুনর্দিষ্ট ব্যখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ক্রিয়েটিভ কমন্সের লাইসেন্স আমাদের ব্লগে যোগ করতে পারি। কারন এই লাইসেন্সে শর্তগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যায়। উদাহরণস্বরুপ ভারতের একটি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের স্বরুপ দেখুন। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে ক্রিয়েটিভ কমন্স আন্তর্জাতিকভাবে আইনি লড়াইয়ের ব্যাপারে সাহায্য করে (বিশ্বব্যাপী ওদের অনেক স্বেচ্ছাসেবী আইনজীবি আছে)।

এখন কিছু গতানুগতিক ভ্রান্তধারণাকে খন্ডানো জরুরী হয়ে পরেছে। আমার কাছে অবাক লেগেছে যে সাংবাদিক পলাশ উল্লেখ করেছে যে সরকার যেহেতু মুজিব-রোকেয়ার প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে তাই সেই কর্মের মালিক এবং যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। কিন্তু শিল্পকর্মের স্রষ্টা ও স্বত্ব দুটি ভিন্ন জিনিষ। আপনি ভ্যানগগের শিল্পকর্ম কোটি টাকা দিয়ে কিনে মালিক হয়ে ড্রয়িংরুমে টাঙ্গালেন। সেটি কিন্তু আপনি কখনও আপনার নামে চালাবেন না কারন ওটি ভ্যানগগেরই। কাজেই মুজিব-রোকেয়ার কাজ সরকার আবার প্রকাশ করতে পারে, ধরে নিচ্ছি বিক্রিলদ্ধ টাকাও হয়ত পুরোটাই নিতে পারে (যদিও কপিরাইট আইন অন্যরকম বলে) কিন্তু লেখক হিসেবে নাম মুজিব-রোকেয়ারই থাকতে হবে। এটিই হচ্ছে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টী নীতির মৌলিক ব্যাপার।

আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলো ইন্টারনেট থেকে পাওয়া কন্টেন্ট এর সূত্র প্রকাশ করতে চায়না কারন একটাই, আইন অনুযায়ী তাদের বাণিজ্যিক ব্যবহার করতে স্রষ্টার সম্মতি কিনতে হবে। অন্যদিকে সচলায়তনের মত ব্লগে লিন্ক উল্লেখ করে কন্টেন্ট ব্যবহার করা সহজ, কারন এটি অবাণিজ্যিক। কাজেই ব্লগের লেখকরা অনেক বেশী স্বাধীন। আপনি ব্লগে কন্টেন্ট ব্যবহারের জন্যে কিভাবে ঋণ স্বীকার করতে পারেন তা এখানে পাবেন।

ইমরুল কায়েসের এই লেখার মন্তব্য অংশে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমার মনে হয় এখন আইন বিশেষজ্ঞের কিছু মতামত প্রয়োজনীয় হয়ে পরেছে। বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ কমন্স এখনও চালু হয়নি (তবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রযোজ্য)। ভারতে এটি এসেছে ২০০৭ সালে। এই লাইসেন্সকে এদেশের সরকার কর্তৃক অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Monday, February 16, 2009

ফায়ারফক্সেই পড়ুন বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা

ফায়ারফক্স ব্রাউজারে বাংলা (নন ইউনিকোড) পত্রিকা সঠিক ভাবে ডিসপ্লের জন্যে পদ্মা ( padma.mozdev.org ) নামের একটি এক্সটেনশন ছিল। এটির একটি আপডেট বেরিয়েছে (৪.১৪ সংস্করণ) যাতে আরও অনেক কটি সংবাদপত্র এখন পড়া যায়।

আনঅফিসিয়াল পদ্মা এক্সপি-আই ফাইলটি পাবেন এখানে:

Click This Link

ইন্সটল করতে প্রথমে ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন। তার পর মেনু থেকে ফাইল-->ওপেন ফাইল সিলেক্ট করে ডাউনলোড করা ফাইলটি সিলেক্ট করে ক্লিক করুন। এরপর ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করলেই এক্সটেনশনটি ইন্সটল হয়ে যাবে এবং পত্রিকাগুলো কোন ফন্ট ডাউনলোড ছাড়াই পড়তে পাবেন।

নীচে এর অন্তর্ভুক্ত পত্রিকাগুলোর তালিকা দেয়া হলো:

বাংলাদেশী পত্রিকা:

* প্রথম আলো ( http://www.prothom-alo.com )
* আমার দেশ ( http://www.amardeshbd.com )
* দৈনিক দেশ বাংলা ( http://www.dailydeshbangla.com )
* আমাদের সময় ( http://www.amadershomoy.com )
* ভোরের কাগজ ( http://www.bhorerkagoj.net )
* দৈনিক ইত্তেফাক ( http://www.ittefaq.com )
* যায় যায় দিন ( http://www.jaijaidin.com )
* নয়া দিগন্ত ( http://www.dailynayadiganta.com )
* যুগান্তর ( http://www.jugantor.com )
* মানব জমিন ( http://www.manabzamin.net )
* দৈনিক দিনকাল ( http://www.daily-dinkal.com )
* দৈনিক ডেস্টিনি (http://www.dainikdestiny.com )
* সমকাল ( http://www.shamokal.com )
* দৈনিক সংবাদ ( http://www.thedailysangbad.com )
* দৈনিক সংগ্রাম ( http://www.dailysangram.com )

ভারতীয় পত্রিকা:

* আনন্দবাজার ( http://www.anandabazar.com )
* বর্তমান ( http://www.bartamanpatrika.com )
* আজকাল ( http://www.aajkaal.net )
* উত্তরবঙ্গ সংবাদ ( http://www.uttarbangasambad.com )

আরও কিছু প্রয়োজনীয় লিন্ক:

* ফায়ারফক্সে বাংলা কনফিগারেশন

* সম্পূর্ণ বাংলায় ফায়ারফক্স

***Note: If you have Padma already installed, you might need to clean up your old preferences for auto transform to work for new websites. Try "about:config" in Firefox location bar then remove the old line "Padma.autoTransformWhiteList".

গোলাম মুর্তজা হোসেইনের সৌজন্যে প্রাপ্ত

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Sunday, September 07, 2008

বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা

অনেকের হয়ত চোখে পরে নি আজকে ডেইলি স্টার ক্যাম্পাসের একটি আর্টিকেলে বাংলা ব্লগকে উদীয়মান মিডিয়া বলে আখ্যা দিয়েছে । 'বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ' এই রিপোর্টে ভাল ভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে এবং ব্লগ যে ঐতিহ্যবাহী মিডিয়ার বিকল্প নয় বরং সহায়ক তা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্লগে প্রতি ছয় মিনিটে একটি নতুন পোস্ট এবং প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি কমেন্ট দেয়া হয় কাজেই এর জনপ্রিয়তা ও শক্তি নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকার কথা নয়।

এখন এই শক্তির কিভাবে সুব্যবহার করা যায়? আমরা ইতোমধ্যে ব্লগে বেশ কিছু মানবিক সাহায্যের প্রয়াস দেখেছি যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে বেশীরভাগ মানুষই সমাজে ভাল কিছু অবদান রাখতে দ্বিধা করে না। দরকার শুধু তাদের কাছে বিষয়টুকু তুলে ধরা ও সেই প্রক্রিয়াটাকে চালু করে দেয়া ও তার সুব্যবস্থাপনা। আমরা দেখেছি শুধু সাহায্য সংগ্রহ করাই নয় পাহাড় ধসের পর ব্লগাররা চট্টগ্রামে গিয়ে নিজের শ্রমও দিয়ে এসেছেন।

এগুলো তো অব্যাহত থাকবেই আমি সেটাই আশা করি। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী ব্লগ কেমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা জানলে হয়ত আরও কিছু ভাবনার খোরাক পাবেন 'বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ' কমিউনিটি।

১) উশাহিদি: ২০০৬ সালের শেষের দিকে কেনিয়াতে প্রচার মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার পর মোবাইল ফোনে পাঠানো সংবাদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০০৭ সালের শুরুতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা কভার করার জন্যে মোবাইল ফোনের এস এম এসের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদ ইন্টারএক্টিভ ওয়েবসাইট বা ব্লগ ব্যবহার করে উশাহিদি বিশ্বকে সংঘাতের সঠিক চিত্র জানাতে সক্ষম হয়। বিস্তারিত এখানে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে এরকম মোবাইল ফোন ও ব্লগের সমন্বয়ে উদ্যোগ নিতে পারে ব্লগাররা।

২) সানলাইট ফাউন্ডেশন : আমেরিকান কংগ্রেসের দুর্নীতি উন্মোচন করতে একটি উদ্যোগ হচ্ছে সানলাইট ফাউন্ডেশন । এটি কাজ করেছে শতাধিক ব্লগারের সহায়তায় যারা নিজেরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কংগ্রেসম্যানদের দুর্নীতি উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি বা অন্য কোন অপরাধের বিরুদ্ধে সমষ্টিগতভাবে যে যার মত সহায়তা করে ব্লগাররা কার্যকরী অনেক কিছুই করতে পারে।

৩) উন্নত বিশ্বের এনজিওদের জন্যে তো ব্লগ এবং সোশ্যাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ন টুল । অবকাঠামোর অভাব এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা কম বলে বাংলাদেশে এ সংস্কৃতি এখনও গেড়ে বসেনি। অথচ ফান্ড রেইজিং এর মত অনেক কাজ কিন্তু এর সাহয্যে সহজেই করা সম্ভব।

চিন্তা করে দেখেন যখন বাংলাদেশের এনজিওদের জন্যে ব্লগিং এবং সোশাল মিডিয়া টুলগুলোর প্রয়োগ অবশ্য পালনীয় হয়ে যাবে তখন তাদের প্রচুর পরিমানে ব্লগিংএ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক দরকার হবে এবং এই উদীয়মান ব্লগাররাই সেই চাহিদা পূরণ করবে।

৪) ফেসবুকের জনপ্রিয়তা: প্রায় লাখেরও বেশী বাংলাদেশী ফেসবুকের সদস্য। আপনার ব্লগের লেখা বা অন্য কোন ভাল লেখা সম্পর্কে অন্যকে জানাতে চান? ফেসবুক ব্যবহার করেন।

৫) আরএসএস ফিড ব্যবহার করুন: আপনি এত পোস্টের ভীড়ে ভাল লেখা খুঁজে পাচ্ছেন না? সামহোয়ারইন আরএসএস ফিড সাপোর্ট করে। আপনার পছন্দের ব্লগগুলো যখনই নতুন পোস্ট করবে তখন তা আরএসএস ফিড রিডারে চলে আসবে। আপনার বার বার তাদের পেজে গিয়ে দেখতে হবে না যে তারা নতুন কিছু লিখেছে কি না।

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Monday, August 11, 2008

বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স

সেদিন এক সৃহৃদ বাংলা ব্লগারের সাথে কথা বলার সময় সে জানাল "আর বলেন না ব্লগ পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম"। এই কথাটি ইদানিং প্রায় শোনা যায় দেশী ব্লগারদের মধ্যে নানা ভাবে।

বাংলা ব্লগের উৎপত্তি ও স্বরুপ বিশ্লেষনে আমাদের একটু পেছনে যেতে হবে। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জর্ন বার্জার প্রথম ওয়েব্লগ শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৯৯৮ সালে আমেরিকায় ওপেন ডায়রি প্রথম ব্লগ প্লাটফর্ম হিসেবে জন্ম নেয়। পরের বছরই লাইভ জার্নাল, ডায়রিল্যান্ড ইত্যাদি চালু হয়। লক্ষণীয় যে এগুলো ছিল বর্তমান বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্মগুলোর আদলে অর্থাৎ এদের (হয়ত কিছুটা ভিন্নভাবে) একটি এগ্রেগেটর বা প্রথম পাতা ছিল যেখানে সবার লেখা আসত। পরে এই ডিজাইনের বিবর্তন শুরু হয় এবং মনে হয় ব্লগার (ব্লগস্পট) প্লাটফর্ম থেকেই ব্লগগুলো স্বকীয়তা পাওয়া শুরু করে। পরবর্তী বছরগুলোতে প্রফেশনালরা নিজস্ব ডোমেইন ব্যবহার করা শুরু করে এবং মুভেবল টাইপ ও ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদি ব্লগিং প্লাটফর্ম করে নিজেরাই একেকটি আইকন হয়ে যায়।

ইংরেজী ব্লগের বিস্ফোরণ শুরু হয় ২০০৩ সালে আমেরিকার ইরাক আক্রমণের সময়, ঘটনা চক্রে সে বছরই আমি ইংরেজীতে ব্লগিং শুরু করি। কিন্তু বাংলা ব্লগ তখনও ছিল দুর অস্ত। কারন বাংলা লেখার প্লাটফর্মের সমস্যা। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতার দেবাশীস ও সুকন্যা ব্লগস্পটে বাংলা ব্লগ শুরু করেন ও খুঁজে খুঁজে আগ্রহীদের আমন্ত্রণ জানান ও সাহায্য করেন শুরু করার জন্যে। আমার নিজের ইউনিকোড ও অন্যান্য বাংলা লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা ছিল না। আমার কম্পিউটারে তখন লেখো নামে একটি ইউনিকোড এডিটার ইনস্টল করে ব্লগে বাংলা লেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু সেটি বেশ জটিল ছিল তাই আগানো সম্ভব হয় নি।

২০০৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রথম বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ (সামহোয়ার ইন) আত্মপ্রকাশ করলে বাংলা ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে নবদিগন্ত রচিত হয়। হাসিন ও এমরান বাংলার প্লাটফর্ম সমস্যার প্রথম বাঁধাটি ভাঙ্গে এমবেডেড এডিটর ব্যবহার করে। অনেকেই বাংলা টাইপিং জ্ঞান ও বাংলা কিবোর্ড ছাড়া ফোনেটিকে সহজে লিখতে সমর্থ হয়। ২০০৬ সালে ব্লগটি ইউনিকোড হলে পূর্ণতা পায়। এর সাথে সাথে কিন্তু ব্লগস্পট ও অন্যান্য প্লাটফর্মে অনেকে লেখা শুরু করে ইউনিকোডের মাধ্যমে।

সেসময় বাংলা ব্লগের লেখক সংখ্যা পাঁচশর মত থাকলেও ততদিনে পূরো ব্লগোস্ফিয়ারে বিপ্লব ঘটে গেছে। ২০০৬ এর আগস্টে ডেভিড সিফরি টেকনোরাতির (ব্লগ সার্চ ইন্জিন) এক জরীপে দেখান যে বিশ্বে পাঁচ কোটি ব্লগ রয়েছে।


সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ব্লগগুলো কোন ভাষায় সেই পরিসংখ্যানটি। এই বিপুল পরিমাণ ব্লগের মধ্যে মাত্র ৩৯% ইংরেজী ভাষায়। জাপানী ভাষা ৩১% নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং চাইনিজ ১২%। এই ভাষা বৈচিত্র দেখায় যে মানুষ তার মাতৃভাষাতে কথোপকথনে বেশী উৎসাহী। কিন্তু বিশ্বের পঞ্চম সবচেয়ে কথিত ভাষা বাংলায় তখন ব্লগ ছিল হাতে গণা।

আমাদের জনসংখ্যার দিকে তাকালে দেখব আমাদের দেশে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন ১% এরও কম অথচ এশিয়ার গড়পড়তা পেনিট্রেশন ১৪% (সূত্র )। আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তুলনায় আমাদের বাংলা ব্লগারদের সংখ্যা খুবই কম।

গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ব্লগের সংখ্যা এগারো কোটিতে ঠেকেছিল এবং এবছরে নিশ্চয়ই বিশ কোটির কাছাকাছি হবে। কিন্তু বাংলা ব্লগ কি সেই পরিমানে বেড়েছে?

গত দুই বছরে বাংলা ব্লগ অনেক এগিয়েছে, বেশ কয়েকটি প্লাটফর্ম হয়েছে, ইউজার বাড়ছে এবং স্বাতন্ত্র্য গড়ে উঠেছে এদের মধ্যে। অভ্রের মত ওপেনসোর্স বাংলা ইনপুট সিস্টেমের কারনে বাংলা লেখা এখন অনেক সহজ। তবে কেউ কেউ আশন্কা প্রকাশ করছেন যে হারে বাংলা ব্লগ বাড়ছে তাহলে বাংলা ব্লগের পরিণতি কি হবে ভবিষ্যতে?

যারা এই প্রশ্নটি করছেন এবং যারা বাংলা ব্লগ প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে এইসব পলিটিক্সে ব্যস্ত তারা আসলে এর বিশাল চিত্রটি দেখতে পাচ্ছেন না। সরকার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিটি স্কুলে পিসি ও ইন্টারনেট দেয়া হবে। যখন এই সব স্কুলের ছেলেরা ব্লগিং করা শুরু করবে তখন আমাদের আরও গোটা কুড়ি ব্লগিং প্লাটফর্ম লাগবে।

আর কে কোথায় ব্লগিং করবে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। ব্লগিংয়ের ব্যাপারটিও বেশ সাম্প্রদায়িক এবং সামাজিক। আমরা ব্যাক্তি জীবনেও নিশ্চয়ই কিছু নির্দিষ্ট লোকের সাথে বন্ধুত্ব করি, কিছু পছন্দের পত্রিকা পড়ি। ব্লগের ক্ষেত্রেও এমনই, বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন পছন্দ থাকতে পারে। কাজেই অমুক নাক উঁচু, অমুকের মডারেশন নাই ইত্যাদি অভিযোগের তেমন ভিত্তি নেই বলেই মনে করি। সবাইকে তাদের স্বকীয়তা নিয়ে থাকতে দেয়াই উত্তম।

অনেককেই দেখি অহেতুক অন্য প্লাটফর্মের বিরুদ্ধে লেগে থাকতে, এর ওর বদনাম করতে। মনে রাখতে হবে একটি দুটি প্লাটফর্মই বাংলা ব্লগের সবকিছু নয়। বেশ কটি প্রতিশ্রুতিমুলক প্লাটফর্ম চালু হয়েছে ভবিষ্যতে আরও হবে। অনেকে হয়ত ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র ব্লগে লিখতে পছন্দ করবে। লোকে তাদের পছ্ন্দমতই তাদের কমিউনিটি ঠিক করবে। কয়েকদিন পরে ব্লগ এগ্রেগেটর ও বেস্ট অফ ব্লগস এর মত উদ্যোগ জনপ্রিয় হবে।

বাংলা ব্লগের রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। এখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পাঁচ লাখের মত। অদুর ভবিষ্যৎে যখন এই হার দশগুণ হবে তখন দেখবেন দেশে বাংলা কন্টেন্ট এর আকাল পড়বে। দেশের বাংলা সংবাদপত্রগুলোর অধিকাংশই ইউনিকোড না তাই গুগল সার্চ ইন্জিনে সেসব আসে না। আপনি যা এই ব্লগে লিখেছেন তার থেকে একটি বাক্য সার্চ দিয়ে দেখেন গুগলে আসে কি না। এটি আজ থেকে দশ বছর পরেও থাকবে (ব্লগ মুছে না ফেললে)। কাজেই কি অমিত শক্তি আপনার লেখায় রয়েছে কল্পনা করতে পারছেন?

কাজেই যে যে ব্লগেই লিখুন না কেন হাত খুলে লিখে যান, আপনার সুখদু:খের কথা, মজার অভিজ্ঞতা ভ্রমণ ইত্যাদি যা ভাল লাগে তাই।

গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে ব্যক্তি পছন্দ ও মতামত প্রকাশের অধিকার। একে অপরের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে এই মতামতকে জোড়ালো করে সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়া যায় যা পরে মেজরিটিতে পরিণত হয়। ব্লগের মাধ্যমে সহজেই এটি করা সম্ভব।

বিদ্যমান ব্লগ পলিটিক্সে জড়ানোর দরকার নেই। আপনারা নিজেরাই নতুন ইতিহাস ও রাজনীতি তৈরি করুন।

গ্রাফ: সিফরি'জ এলার্টসের সৌজন্যে

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Monday, July 14, 2008

বাংলা গানের বিশ্বজয়

পলবাশা সিদ্দিক হচ্ছে ১৭ বছরের এক বাংলাদেশী তরুণী এবং আমেরিকার মিনিয়াপলিস সাউথওয়েস্ট হাই স্কুলে পড়ে। তার ডাক পড়ল ভিডিও গেইম মেকার ম্যাট হার্ডিংয়ের একটি ভিডিও "ড্যান্সিং ২০০৮" বা "হোয়্যার দ্যা হেল ইজ ম্যাট " এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে কন্ঠ দেবার জন্যে। সে আধুনিক স্টাইলে একটি রবীন্দ্রসংগীত গাইল এবং তার পর তো ইতিহাস। তার মায়াবী কন্ঠ ও ভিডিওটির অভিনবত্বের কারনে এটি একটি সফল ইন্টারনেট ভিডিও হিসেবে সবার দ্বারা সমাদৃত হয়েছে।

গত ২০শে জুন এটি প্রকাশের পরে প্রথম দুদিনেই এটি ১ মিলিয়ন হিট পেল। সবাই এত পছন্দ করল যে এটিকে ফেসবুক, মাইস্পেস বা ইমেইলের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছে পাঠাতে লাগল। এই ড্যান্সিং ভিডিওটি ইতিমধ্যে ৪ মিলিয়নবার দেখা হয়েছে বিশ্বজুড়ে।

সাড়ে চার মিনিটের এই ভিডিওটি ১৪ মাস ধরে বিশ্বের ৪২টি দেশে শুট করা হয়েছে হাজারেরও অধিক কাস্ট নিয়ে। এই ভিডিওটি সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাবেন এখান থেকে । ভিডিওটি দেখুন ও গানটি শুনুন।



পলবাশার আরেকটি গান শুনুন এখানে ।

[ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা: পলবাশা এবং মিনপোস্ট] 

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Wednesday, March 12, 2008

বাংলা ব্লগ পরিক্রমা -১

বিশেষ একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় গত কয়েক মাস লিখতে পারিনি। তবে দেরীতে হলেও বিবিধ ব্লগের লেখা পড়ার সময় করে নিয়েছি এবং দেখলাম যে অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভাল লেখাগুলো খুঁজে বের করা বেশ সময় ও কষ্টসাধ্য। তাই হঠাৎ করেই মাথায় আইডিয়াটি এল যে একটি ব্লগ পরিক্রমা করলে কেমন হয়! এর সাহায্যে যাদের সময় কম তারা শত শত লেখার ভীড়ে উল্লেখযোগ্য লেখাগুলো পড়ে নিতে পারে।

এখানে আমি শুধু লেখাগুলোর কিয়দংশ তুলে দিচ্ছি, লিন্ক ধরে উল্লেখিত ব্লগ গুলোতে গিয়ে পছন্দ মতন সম্পূর্ণ লেখা পড়ে নিবেন আশা করি।

সাংবাদিক আক্কাস বাংলা ভাষা ও ভাষা বিষয়ক চিন্তাভাবনা তার ব্লগে তুলে ধরেন। তার সাম্প্রতিক লেখা বাংলা "হরফের রেখা আর চতুষ্কোণ" এ বাংলা হরফের অদৃশ্য নকশা সম্পর্কে আলোকপাত করছেন।

'আমার কিছু বক্কা' ব্লগের 'দ্যা হিডেন গড' পশ্চিম বঙের বাংলাভাষীদেরকে বাংলা উইকিপিডিয়াতে অংশগ্রহণ করার জন্যে আহ্বান জানিয়েছেন:

"বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকেরা যদি বাংলা উইকিপিডিয়ার উন্নতিতে এগিয়ে আসতে পারেন তাহলে আমরাই বা কেন পিছিয়ে থাকব?"

বাংলাদেশের আইটি জগতের এক তারকা অমি আজাদ তার ব্লগে জানাচ্ছেন যে ওয়েবে নতুন ভোটার তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে:

"একজন ভোটার এখন www.voterlist.gov.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে ঢুকে তাঁকে দেওয়া পিন বা ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর, জন্ন তারিখ এবং ওয়েব পাতায় থাকা নিরীক্ষা সংকেত লিখে তার নিজের ভোটারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখতে পারবেন। আর তথ্য-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই অনুরোধ করতে পারবেন।"

দৃষ্টিপাতের নতুন বাংলা ব্লগ 'না বলা কথা'য় জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক তার সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনার পর ভক্তদের জানান দিচ্ছেন "আমি বেঁচে আছি":

"শত্রুর মুখে দিয়ে ছাই, আমার প্রাণহানির কোনো আশংকাই আপাতত নাই।"

তার সরেস লেখাটি পুরো পড়তে ভুলবেন না।

ভদ্র তার এক আক্ষেপের কথা জানাচ্ছেন। নিশ্চয়ই এই আক্ষেপ আরও অনেক বাংলাভাষীরই:

"অপ্রতিদ্বন্দী দেশ এবার এগিয়ে যাচ্ছ শতবর্ষের দিকে। দেশ পত্রিকাকে আমার অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

আর আমার বিনীত প্রশ্ন - “দেশ পত্রিকা কবে অনলাইন হবে?”

হলের খাওয়া সম্পর্কে আমাদের সবারই বিভিন্ন গল্প জানা আছে। হিডেন হার্ট এর কাছ থেকে শোনেন পান্তার নতুন কাহিনী:

"মাছের সাইজ অনুমান করতে করতে তিন চার চামচ ঠান্ডা ভাত উঠিয়ে ফেলেছি প্লেটে। এর পর প্লেটে হাত দিয়েই দেখি হাত ভেজা ভেজা লাগে!! ভাতের মধ্যে পুরা আঙ্গুলের দুই কর পানি! পানি হয়েছে তাই কি! কোন ব্যপার না। ঠান্ডা ভাতে পানি পড়াতে কেমন পান্তা পান্তা ভাব হয়েছে। সাথে আছে শুকনা মরিচের আলুভর্তা আর ইলিশ(আসলে ইলিশ ফ্লেভারের পুটি)। ভাবলাম- ভালইতো , আজ পান্তা ভাত দিয়েই ইলিশ মাছ খাব!"

পান্তাটি আসলে কিভাবে তৈরি তা জানতে পারবেন পুরো লেখাটি পড়লে।

ইশতিয়াক জিকোর ব্লগ 'জিকোবাজিতে' প্রকাশিত ১১ কিস্তির ইউনিকোড পাঠ অনেকেরই রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।

আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আরও বাংলা ব্লগকে তুলে ধরার আশা রাখি।

(ছবির জন্যে কৃতজ্ঞতা)

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Friday, January 18, 2008

বাংলায় সিটিজেন মিডিয়ার গাইড

মাত্র তিন বছর আগেও সিটিজেন জার্নালিস্ট (নাগরিক সাংবাদিকতা), সিটিজেন মিডিয়া (নাগরিক মাধ্যম), ব্লগ ইত্যাদি শব্দগুলো বিশ্বের ৯৯% লোকের কাছেই অজানা ছিল। আজকে উন্নত বিশ্বে এটি খুবই আলোচিত বিষয়। এ নিয়ে নিত্য নতুন নানা ধরনের রিসার্চ ও উদ্যোগ দেখা যায়।

আমাদের অনেকের কাছেই এখনও এ বিষয়গুলি পরিষ্কার নয় কারন অনেকেরই ভীতি আছে যে জটিল কারিগরী বিষয় এগুলো। আসলে সাধারণ কম্পিউটার পরিচালনা জ্ঞান দিয়েই নাগরিক মাধ্যমের টুলগুলো (ব্লগ, পডকাস্ট, ভিডিও ইত্যাদি) ব্যবহার সম্ভব।

গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন হচ্ছে হার্ভার্ড ল স্কুলের বার্কম্যান সেন্টার ফর ইন্টারনেট এন্ড সোসাইটিতে (সমাজে ইন্টারনেটের প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক নাগরিক মাধ্যম (সিটিজেন মিডিয়া) প্রকল্প। এর ব্লগ প্রসার শাখা রাইজিং ভয়েসেস সবার জন্যে সহজ করে একটি সিটিজেন মিডিয়া গাইড প্রকাশ করেছে। এটি বর্তমানে বাংলা, ইংরেজী ও স্প্যানিশ ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। অচিরেই অন্যান্য ভাষায়ও এটি অনূদিত হবে।

ইংরেজী থেকে এর প্রাথমিক বাংলা অনুবাদ করেছিল রাইজিং ভয়েসেস এর ক্ষুদ্র সহায়তা লাভকারী প্রকল্প নারী জীবন। এরপর আমি এটির সম্পাদনা, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও পেজমেকিং করেছি। এতে বাধঁ ভাঙ্গার আওয়াজের লিন্কও দেয়া আছে। আশা করছি এটি আপনাদের কাজে আসবে।

এটি পিডিএফ ফরম্যাটে ক্রিয়েটিভ কমন্সের আওতায় প্রকাশিত। এর সূত্র উল্লেখ করে এটিকে বানিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে। কাজেই ছড়িয়ে দিন এটিকে আপনাদের পরিচিতজনের মাঝে। নাগরিক সাংবাদিকরা বিকশিত হোক দেশ দেশান্তরে।

বাংলায় ডাউনলোড করুন।

ইংরেজীতে ডাউনলোড করুন।

Tuesday, January 08, 2008

বাংলায় অনলাইন লিন্কসমুহ: একটি আপডেট

বাংলা ব্লগ সমাহার

ব্লগিং প্লাটফর্ম, ডাইরেক্টরী এবং এগ্রেগেটর

* বাঁধ ভাঙার আওয়াজ- হাজারেরও বেশী বাংলা ব্লগ নিয়ে সর্ববৃহত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* সচলায়তন - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* আমার ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* এভারগ্রীন বাংলা ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* প্যাঁচালী - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* বাংলা ব্লগস্ - বাংলা ব্লগ ডাইরেক্টরী
* বাংলা ইউনিকোড ব্লগ - বাংলা ব্লগ এগ্রেগেটর

বাংলাদেশী:

* না বলা কথা
* আমাদের কথা
* উত্স সন্ধানে
* …করি বাংলায় চিত্কার…
* ছেঁড়া পাতায় কথামালা
* আসিফ আহমেদ অনীকের বাংলা ব্লগ
* অমি আজাদ
* সসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস
* আমি এবং আমার পৃথিবী
* পুড়ে ছাই ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে উঠি পুর্ণবার
* রয়েসয়ে
* নিরিখ বান্ধিলাম দুই নয়নে……
* বিবর্ণ আকাশ এবং আমি….
* ভয়েস অফ বাংলাদেশী ব্লগারস
* এইটা তোমার গান
* প্রাত্যহিক ভ্যাজর ভ্যাজর
* কবিয়াল
* অজ্ঞাতবাস
* ধৃসর গোধুলী
* সাধক শন্কু
* বলো গো
* মোকাবেলা
* খিচুড়ী ব্লগ
* আড্ডা
* ভালবাসা
* হাজার বর্ষা রাত………
* কাকশ্য পরিবেদনা!
* আধুলি জমানোর ম্যাচবক্স
* কীন ব্রীজে গোধুলি এল অন্তরালে কালান্তর ভোর
* দিল কা লাড্ডু
* অনন্ত ন্বপ্ন
* ..খেরোখাতা..
* যাপিত জীবন
* বাংলা ভাষী
* বাংলা ভাষা
* সুহ্রদ সরকার
* সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটুক … নতুন সম্ভাবনার তাগিদে
* সীমাহীন সংলাপ
* যূথচারী
* আলী মাহমেদের ব্লগিং
* মাহবুব সুমন ও তার অগাবগা বচন
* শুভ্র প্রকাশ পালের ব্লগ
* অলস বিকেলের শেষ রোদ
* শেঁকড়ের সন্ধানে
* টকিজ
* খসড়া কবির খসড়া কবিতা
* আমার ভাঙা পথের রাঙা ধূলা
* স্বপ্নলোক
* হিডেন হার্ট
* ত্রসরেণু অরণ্যে
* গ্লোবাল মিডিয়া
* আমাদের কথা -নারী জীবন বাংলা ব্লগ

ভারতীয়:

* স্লোগান দিতে গিয়ে
* আমার কিছু বক্কা
* খোলা জানালা
* মনের পাতা
* ট্রিভিয়াল বাইটস
* ধূসর ফিনিক্স …এবং কোমল গান্ধার
* বিবর্ণ কবিতা
* জীবনানন্দ দাশের কবিতা

বাংলায় বিবিধ টুলস

বাংলায় সংবাদ ও বিষয়ভিত্তিক সাইট

Monday, May 21, 2007

জার্মানীতে ড: মুহম্মদ ইউনুস

আজকে বার্লিনে জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশীরা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড: মুহম্মদ ইউনুসকে একটি সংবর্ধনা দেয়। জার্মানীর অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এসপিডির অফিস উইলি-ব্রান্ডট হাউজে রাত ৭টার সময় অনুষ্ঠানটি হয়।

ড: মুহম্মদ ইউনুস এমাসে এ নিয়ে দুবার এদেশে আসলেন। মূল কারন হচ্ছে জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য এবারের জি এইট সামিটের চেয়ারম্যান হিসাবে জার্মানীর চ্যনসেলর আন্গেলা মেরকেল আফ্রিকার নারীদের উন্নয়নে কিছু করতে চাচ্ছেন। ড: ইউনুস যেহেতু দরিদ্র নারীদের নিয়ে কাজ করেছেন সে জন্যেই তার সাহায্য চেয়েছেন তিনি এবং এর প্রাক মিটিংগুলোতে ইউনুস থাকছেন।

প্রায় শ'খানেক বাঙালিদের মাঝে ইউনুস তার স্বাভাবিক ঢংয়ের বক্তৃতা দিলেন বাংলায়। আলোচনা করলেন তার কর্ম, গ্রামীন ব্যান্ক প্রসঙে, নোবেল প্রাইজ পাওয়ার অনুভুতি প্রসঙে। এগুলো আগেই পড়া বা শোনা ছিল। নতুনের মধ্যে - ভিক্ষুকদের ঋণ ছিল যে কোনো মানুষই উদ্দোক্তা হতে পারে এই সংক্রান্ত একটি এক্সপেরিমেন্ট যা পরে সফল হয়।

আমি বসে ছিলাম প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য। সমসাময়িক প্রসঙগুলো চলে এল। উনি রাজনীতিতে আসার চেষ্টা কেন ছেড়ে দিলেন সে প্রসঙ এড়িয়ে গেলেন- 'আমি আমার চিঠিতেই সব বলেছি' এই বলে। ২২শে জানুয়ারীর প্রহসনমূলক নির্বাচনে কেন সায় ছিল তার জবাবে বললেন উনি চাচ্ছিলেন দেশে শান্ত আসুক, রক্তপাত বন্ধ হোক। নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি সেসময় আরও মারাত্মক আকার ধারন করতে পারত বলে তখন তার মনে হয়েছিল।

গ্রামীন ব্যান্কের সুদের চড়া হারের অভিযোগ খন্ডালেন এই ভাবে:- সুদের হার ওয়েবসাইটে দেয়া আছে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হয়েছে। ৩০%, ৫০% এরুপ ফিগারগুলো শুধুই রটনা। গ্রামীন ব্যান্কে ৪ ধরনের ঋণপ্রকল্প রয়েছে। এই ঋণগুলো দেয়ার জন্য মুলধন সংগ্রহ করা হয় ঋণগ্রহীতাদেরই ডিপোজিট থেকে। ঋণগ্রহীতাদের ডিপোজিটের জন্যে ৮-১২ % স্কিমভেদে দেয়া হয়। অর্থাৎ মুলধনের মুল্য গড়ে ১০%। নিন্মলিখিত প্রকল্পগুলোতে ঋন দেয় গ্রামীন ব্যান্ক:

১) বাড়ীর জন্য ঋণ: - ৭% সুদ (মুলধনের গড় মুল্য থেকে কম মুল্য)
২) শিক্ষা ঋণ: ছাত্রাবস্থায় কোন সুদ নেই। এর পরে ৫% সুদ (মুলধনের গড় মুল্য থেকে অনেক কম মুল্য)
৩) ভিক্ষুক লোন: সুদমুক্ত
৪) সাধারন ঋণ: সর্বাধিক সুদের হার ২০% (মুলধনের সংগ্রহের গড় মুল্য থেকে ১০% বেশী)

ড: ইউনুসের কথা হচ্ছে এই ১০% বেশী মুল্য পূর্বের তিনটি ঋণের খরচকে কাভার করে। এবং এই সুদের হার নির্ধারন করে ব্যন্কের মালিক - এর ঋনগ্রহিতা মহিলারা একটি বোর্ডের মাধ্যমে। ঋণের সুদের হার কমালে সন্চয়ের উপর তারা কম আয় পাবে - তাই তারা ২০% সুদেই সন্তুষ্ট।

গ্রামীন ব্যন্কের কিছু কর্মচারীর ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দুর্নিতীর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বললেন হয়ত বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ঘটতে পারে আর এটি যেহেতু সমাজেরই অংশ তাই সামাজিক দুর্নীতির কিছু প্রভাব হয়ত কোথাও পড়তে পারে। গ্রামীন ব্যান্ক চেষ্টা করছে ঋণ সংগ্রহন ও বিতরন পদ্ধতি আরও আধুনিক করতে।

বার্লিন সিটি কাউন্সিল মেম্বার পশ্চিম বঙের ভাদুরী সাহেবের প্রশ্ন ছিল গ্রামীন ব্যান্ক রাজনীতিবিদ বা ধর্মীয় সংস্থা থেকে কিরকম প্রতিরোধ বা সাহায্য পেয়ে এসেছে। ড: ইউনুস বললেন যে নতুন কিছু ধারনা হলে সহজে লোকে মানতে চায়না। গ্রামীন ব্যান্কের বিরুদ্ধেও ভয়ভীতি ও অসহযোগ হয়েছে। আমি কখনও অভিহিত হয়েছি পুঁজিবাদের দালাল - সিআইয়ের এজেন্ট হিসাবে। আবার কখনও কমিউনিষ্ট বা ধর্মের বিরুদ্ধে (কারন নারীদের প্রাধিকার দিয়েছি)। কিন্তু গ্রামীন ব্যান্ক সবসময়েই বিতর্কের উর্দ্ধে থাকতে চেয়েছে। কোন গ্রামে অনভিপ্রত হলে গ্রামীন ব্যন্ক সেখান থেকে সরে এসেছে। কিন্তু সাধারন মানুষই সমস্যার সমাধান করে তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়েছে। কারন মানুষের প্রয়োজনেই গ্রামীন ব্যান্ক- নিজের প্রয়োজনে নয়।

একজন প্রশ্নকর্তা প্রসঙক্রমে জানালেন গত ৮ই মে হামবুর্গে কোন জার্মান সংস্থা আয়োজিত তার সংবর্ধনার টিকিট ছিল ৮০০ ইউরো। তাই তখন তারা ইউনুসের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। আজ সুযোগটি পেয়েছেন।

বন থেকে ব্লগার মাসকাওয়াথ আহসান এসেছিলেন ডয়েশে ভেলের জন্য ড: ইউনুসের সাক্ষাৎকার নিতে। বেশি কথা হয়নি- যাবার সময় বলে গেলেন হাজার দুয়ারীর জন্য একটি লেখা দিতে।

এই হল আজকে আমার ইউনুস দর্শন।

Friday, February 02, 2007

বাংলা ব্লগিং ও আমাদের প্রত্যাশা (2)

আমি গত লেখাতেই লিখেছি যে বাংলাদেশে ব্লগিংয়ে এক বড় বিপ্লব সামহোয়ারইন বাঙলা ব্লগ। এর অনেক সমস্যা আছে। এখনও অনেক বাগ ফিক্স হয়নি। মডারেশন একটি বড় ইস্যু। হয়ত সময় লাগবে পরিবর্তন আসতে। তারপরেও এর বর্তমান যে শক্তি রয়েছে তা দিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব।

এখন আসি উন্নত বিশ্বে ব্লগিংকে কিভাবে দেখা হয়। সারা বিশ্বে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন ব্লগ রয়েছে যার প্রায় ৩৮% হচ্ছে ইংরেজী ভাষায়। এর পরে ৩৩% হচ্ছে জাপানী ভাষায়, ১০% চাউনিজ ভাষায়। আমাদের বাংলা ভাষা ব্লগের সাগরে কয়েকটি শিশির বিন্দু । আমেরিকায় ২৭% ইন্টারনেট ইউজারের ব্যক্তিগত ব্লগ আছে এবং গুরুত্বপুর্ন রাজনীতিবিদরা ব্লগ মেইনটেন করেন তার কনস্টিটুয়েন্সির লোকদের সাথে ইন্টারএকটিভ হবার জন্যে। ওদেশের নাম করা পেশাদারী ব্লগারদের রিডারশীপ মিলিয়নেরও বেশী। সেদেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া অর্থাৎ সংবাদপত্র ও টেলিভিশন ব্লগকে খুব গুরুত্ব দেয়। আলাদা ব্লগ কর্নার আছে তাদের যেখানে ব্লগ থেকে বেছে নেয়া আর্টিকেল ছাপা হয়। আমেরিকার 'সানলাইট ফাউন্ডেশন ব্লগ' তদন্তমুলক লেখা ছাপিয়ে সিনেটরদের দুর্নীতি ফাস করে দিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে ব্লগের লেখাগুলো সংবাদপত্রের কাছে অপাংতেয়। এদেশের সাংবাদিকতার ট্রেন্ড হচ্ছে ইন্টারনেট থেকে তথ্য বা আইডিয়া সংগ্রহ করে তার ঋণ স্বীকার না করা । অথবা শুধু তারা বলেন 'ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত'। এদেশে জার্নলিজমে অনেক পরিবর্তন এসেছে। টিভিতে ঘন্টায় ঘন্টায় সংবাদ, বিডিনিউজে ২৪ ঘন্টা আপডেট, আর ব্লগগুলোর কি কোনই গুরুত্ব নেই? এগুলোতো জনগনের ভাবনারই প্রতিফলন। সামপ্রতিক জরুরি অবস্থা জারীর সময়গুলোতে সামহোয়ারইন বাঙলা ব্লগ থেকে অনেক সংবাদ পেয়েছি। অনেক সাংবাদিকই পেয়েছে, কিন্তু কেউকি তা কোথাও উল্লেখ করেছে? অথচ গার্ডিয়ান পত্রিকার নিউজ দেখুন।

আসল ব্যাপার হচ্ছে ব্লগ সম্পর্কে এখনও অনেকেরই স্বচ্ছ ধারনা নেই। সংবাদপত্রের এই উদাসীনতা কাটানোরও কোন উদ্যোগ নেই।

আজকে ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিন। সামহোয়ারইন বাঙলা ব্লগের নেশায় আমার বাংলায় টাইপিং শেখা হয়েছে। আমাদের যদি ভাষার প্রতি ভালবাসা থাকে তাহলে আপনার মতামত দিন কিভাবে আমরা বাংলা ব্লগিংয়ের সমপ্রসারন ও স্বীকৃতি আদায় করতে পারি।

Thursday, February 01, 2007

বাংলা ব্লগিং ও আমাদের প্রত্যাশা (১)

২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে আমি যখন প্রথম আমার ইংরেজী ব্লগ শুরু করি তখন উদ্দেশ্যবিহীন ভাবেই লিখতাম। পরে দেখলাম বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশীদের তেমন একটা ধারনা নেই। আর বিদেশী পত্র পত্রিকায় 'বাংলাদেশ হচ্ছে আফগানিস্তান' টাইপের রিপোর্ট তো হরহামেশা হচ্ছেই। তাই আমার লেখার অনেকটা জুড়েই থাকল বাংলাদেশ আর ব্যক্তিগত মতামত। ব্লগের মজাই এটি, নিজের মত করে বক্তব্য প্রকাশ করা যায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়।

আর বাংলাদেশের খবরের উপর চোখ রাখতে গিয়ে বাংলাদেশি ব্লগগুলো সম্পর্কেও একটি ভাল ধারনা হয়েছে আমার। গত তিন বছরে ইংরেজী ভাষার ব্লগগুলোর (একটিভ) সংখ্যা হয়েছে কয়েকশো এবং দু একটি ব্লগ আমাদের বর্তমান চিফ এডভাইজারও পড়েন বলে শুনেছি ।

কিন্তু আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বড় অর্জন সামহোয়ার ইন বাংলা ব্লগ। বাংলা ভাষাকে ইন্টারনেটে স্থান করে দেয়ার জন্যে বাংলা উইকিপিডিয়া ছাড়া কোন সফল উদ্যোগ আমাদের সামনে নেই। এই এক বছরে সামহোয়ারইনের বর্তমান ইউজার সংখ্যা প্রায় ৩৭০০, ধরলাম মাল্টিপল নিক বাদ দিয়ে প্রায় ৩০০০ ইউনিক ইউজার (যদিও নিয়মিত লেখে মাত্র কয়েকশ জন)। আর পেজ ভিউ হচ্ছে গড়পড়তা ৫০,০০০ যা এমনকি অনেক বড় বাংলা দৈনিকের অনলাইন সংস্করনেরও নেই। তুলনামুলকভাবে সবচেয়ে পঠিত ইংরেজী বাংলাদেশী ব্লগ দৃষ্টিপাত গ্রুপ ব্লগের দৈনিক গড়পড়তা পাঠক সংখ্যা মাত্র ৫০০। ইউনিকোড বাংলা ব্লগ কিছু নতুন হচ্ছে যাদের স্ট্যাটিসটিক্স আমার কাছে নেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা এই কিভাবে এই ব্লগটির সদ্ব্যবহার করছি? উদীয়মান বা প্রতিষ্ঠিত লেখক বা সাংবাদিককে এখানে দেখেছি তাদের লেখা সম্পর্কে গুরুত্বপুর্ন ফিডব্যাক পেতে। কারো কারো বই ছাপা হলে লেখা এত লোক পড়ত বলে মনে হয়না। রাজনীতি, ধর্ম বা অন্য যে কোন বিষয় সম্পর্কে খুবই জ্ঞানগর্ভ লেখা এখানে পড়েছি এবং সমৃদ্ধ হয়েছি। চমঃকার কিছু কবিতা বা গান পেয়েছি এখানে। কিন্তু বাঙালীদের যা স্বভাব, অত্যাধিক ব্যক্তিগত আক্রমন অনেক সময়ই লেখাগুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। আর ব্লগ হচ্ছে আমাদের সত্বা আমাদের ব্যক্তিত্বেরই সমপ্রসারন। একবারও ভাবছি কি যে আমরা এতগুলো পাঠকের কাছে নিজেদের কিভাবে উপস্থাপন করছি?

Saturday, December 16, 2006

সামহোয়ার ইন বাংলা ব্লগের এক বছর: আমাদের অর্জন

বিজয় দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ।

আজ সারা দিন গ্লোবাল ভয়েসের দিল্লি সামিটে ছিলাম । গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন হচ্ছে ব্লগারদের জাতিসংঘ কারন এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্লগারদের লেখা প্রমোট করা হয়। এর ৩৫ জন লেখক,কন্ট্রিবিউটর (বিভিন্ন দেশের) এবং হোস্ট নেশন ভারতের অনেক ব্লগার, সাংবাদিক এখানে উপস্থিত ছিলেন।

২ বছর আগে হার্ভার্ড ল সকুলের বার্কম্যান ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারনেট এন্ড টেকনোলজির পৃষ্ঠোপোষকতায় কয়েকজন ব্লগারের উদ্যোগে গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন যাত্রা শুরু করে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি ক্ষেত্র তৈরী করা যেখানে বিশ্বের যে কেউ তার মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং যে কেউ তা পড়তে পারবে। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্লগাররা তাদের অনচলের বিভিন্ন ব্লগ নিরপেক্ষ ভাবে হাইলাইট করে যাতে বিভিন্ন দেশ এবং ভাষার মানুষের মধ্যে সেতুবনধন তৈরি হয় ।

আমার সৌভাগ্য হয়েছে এখানকার একজন লেখক হিসাবে বাংলাদেশী ব্লগারদের তুলে ধরার। আজকে সকালে আউটরিচ সেসনে আলোচনা করা হয়েছে কিভাবে ব্লগকে আরও বেশি সংখক লোকের কাছে পৌছে দেয়া যায়।

আমি গর্বের সাথে বাঁধ ভাঙার আওয়াজের কথা বলেছি। এটি আমাদের মাতৃভাষায় বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। গত বিজয় দিবসে সামহোয়ার ইন বাংলা ব্লগ শুরু হয়েছিল। প্রায় ৩৫০০ ব্লগার এবং দিনপ্রতি গড়পড়তা ৫০০০০ পাঠকের পদচারনায় ব্লগটি মুখরিত। আজ বিজয় দিবসে বাঁধ ভাঙার আওয়াজের জন্মদিন। আজ আমাদের দ্বিগুন আনন্দ ।

Monday, May 15, 2006

বাংলায় উইকিপিডিয়া

আপনারা নিশ্চয়ই ওপেন সোর্স বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার (http://en.wikipedia.org/) কথা জানেন । এর সুবিধা হচ্ছে যে কেউ একে সমৃদ্ধ করতে পারে ।

গত বছর থেকে বাংলায় একটি উইকিপিডিয়া (http://bn.wikipedia.org/) তৈরির চেষ্টা চলছে । কিন্তু এটি এখনও অনেক পিছিয়ে আছে কন্ট্রিবিউটরের অভাবে। বাংলা উইকিপিডিয়া ইউনিকোডভিত্তিক এবং ব্রাউজার ইনডিপেন্ডেন্ট বলে এতে লেখা খুবই সহজ । শুধু কিছু গনতান্ত্রিক প্যানেল এডিটর থাকে যারা এনট্রি গুলো পরিমার্জনা করে ।

তাই আপনারা যারা আগ্রহী অতিসত্তর এই উদ্দ্যোগে সামিল হোন । এর অন্যতম উদ্দ্যোক্তা রাগিব হাসান (কম্পিউটার বিঙান বিভাগ, ইলিনয়স ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা) সমপ্রতি বিবিসির 'ক্লিক অনলাইন' অনুষ্ঠানে বলেছেন যে এই বাংলা বর্ষের শেষে 10,000 নতুন বাংলা এনট্রি তিনি আশা করছেন । আপনারা চাইলে এটি অবশ্যই সম্ভব ।

গুরূত্বপুর্ন লিনকগুলো :

http://bn.wikipedia.org This is the main page

http://www.ragibhasan.com/wikipedia Here is a small tutorial written for new users

http://groups.yahoo.com/group/bangla_wiki This is a yahoo group opened for Bangla wikipedia

http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Bangladesh-related_topics This is a list of BD related topics in the English wikipedia