Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Wednesday, June 16, 2010

কেনিয়ার কবি

আজকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব কেনিয়ার নতুন প্রজন্মের এক কবি ও জনপ্রিয় ব্লগারকে। সাথে বোনাস হিসেবে থাকছে তার একটি কবিতার অনুবাদ।

এবার চিলিতে গ্লোবাল ভয়েসেস নাগরিক মিডিয়া সম্মিলনে জড়ো হয়েছিল বিশ্বের ৬০টিরও অধিক দেশের দেড় শতাধিক ব্লগার। এবার কলেবর বিস্তৃত হওয়ায় সম্মিলনের সময় অনেক নতুন মুখের সাথেই সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আলাপ করার তেমন সুযোগ হয়নি। এদের অনেকেরই সাথে পূর্বে ইমেইলে যোগাযোগ রয়েছে - অনেকের লেখাই পড়েছি বা অনুবাদ করেছি আগে - তাই কারও কারও সাথে পরিচিত হবার যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। এদেরই একজনের কথা বলছি আজ আলাদা করে।

কেনিয়ার কবি এনজেরি ওয়াঙ্গারিকেনিয়ার কবি এনজেরি ওয়াঙ্গারি
একদল লোকের ভীড়ে ২৮ বছর বয়সী কেনিয়ার তরুণী এনজেরি ওয়াঙ্গারিকে আলাদা করে চেনা যায়। পরনে তার আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং মাথায় কাপড় বাঁধা। এনজেরি একজন আইটি গ্রাজুয়েট এবং একটি পাবলিশিং হাউজের সিস্টেম এডমিনিষ্ট্রেটর হিসেবে কাজ করছে। পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ হলেও তার মূল পরিচয় সে কবি, আবৃত্তিকার এবং ব্লগার। আফ্রিকার ব্লগ এগ্রেগেটর - আফ্রিগেটর অনুযায়ী তার ব্লগ কেনিয়ান পোয়েট কেনিয়া ও সারা আফ্রিকার জনপ্রিয় ব্লগগুলোর একটি। গ্লোবাল ভয়েসেসে সে কেনিয়া এবং আফ্রিকার কাব্যসাহিত্য এবং শিল্প বিষয়ে ব্লগগুলো নিয়ে লিখে থাকে।

এনজেরির কবিতার সাথে ভালবাসা ২০০৪ সাল থেকে। তার প্রেমিকের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল - এমন টালমাটাল সময়ে ভাবল সে তার অনুভূতিগুলো লিখে রাখলে কেমন হয়। এভাবেই কবিতা লেখার শুরু। কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল যে কবিতার খাতাগুলো নিজের কাছেই রয়ে যাচ্ছিল - সেগুলো প্রকাশ করা হচ্ছিল না তাই অন্য কবি বা পাঠকের কাছে পৌঁছুচ্ছিল না। ২০০৬ সালে শুরু করা তার ব্লগ কেনিয়ান পোয়েট পাঠকদের সাথে সেই দুরত্ব ঘুঁচিয়ে দেয় কিছু পরিমাণে। প্রথমে সে তার কবিতা প্রকাশ করে জানার চেষ্টা করত কিভাবে পাঠকরা সেগুলোকে দেখছেন, সমালোচনা করছেন বা অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। শুধু কবিতাই নয় তার ব্লগে পরবর্তীতে সে শিল্পকলা, সঙ্গীত, সমালোচনা ইত্যাদি অনেক বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করে।

এছাড়াও তার রয়েছে একটি শক্তিশালী কণ্ঠ। পারফর্মেন্স পোয়েট্রির চল রয়েছে কেনিয়াতে - এমনকি এখন কর্পোরেট অনুষ্ঠানেও ডাক পড়ে কবিদের। চারজন কেনিয়ান কবির সঙ্গে এনজেরি গঠন করেন আবৃত্তি দল মেসতারিওয়ান্নে এবং তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত তাদের কবিতা পরিবেশন করছেন বছর দুয়েক ধরে। তার সহকবি মাইক কোয়াম্বোর বিপ্লব নামক কবিতা পড়লে বোঝা যায় তাদের প্রতিভার ছটা। এনজেরিকে এখন কেনিয়ার অন্যতম নতুন প্রজন্মের কবি বলে ধরা হয়।

মূল সম্মিলনের শেষের দিনে সে একটি কবিতা পড়ে শোনায়। এখানে ভিডিওটি আছে (অ্যামেচার ভিডিও - তাই সাউন্ড একটু জোরে দিতে হবে):



ইংরেজী ভাষায় লেখা 'ডিজিটাল হৃদয়' নামে সেই কবিতাটি এখানে পাওয়া যাবে।
আমি এর অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি:

****************************************

'ডিজিটাল হৃদয়' 

- এনজেরি ওয়াঙ্গারি

এক সময় ছিল যখন মুখ, চোখ, কান, একটুকু ছোঁয়া
গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি কথোপকথন চালানোর জন্যে,
মানুষেরা একে অপরের বা প্রকৃতির অনেক কাছে ছিল
দেখা, শোনা, ছোঁয়ার মাধ্যমে।


এক ঝাক অতিথি পাখির দেখা পাওয়া মানে ছিল ঝড়ের পূর্বাভাষ,
হয়ত ঋতু পরিবর্তনের চিহ্ন বা কোন বিপদ সংকেত।
বাতাসে উদ্বেলিত বৃক্ষরাজির মৃদু স্বরে ফিসফাস
আমাদের মনে শান্তি এনে দিত।


গাছের ডালের সশব্দে ঝরে পড়া, পাখির কলতান
আমাদের আত্মার সাথে বাস্তবের প্রেমবন্ধন তৈরি করত।

এখন সামনা সামনি দেখা হওয়ার বদলে আমাদের দেখা হয় ফেসবুকে
আমাদের স্বর এখন বোতাম যা থেকে আমরা শব্দ বের করি কীবোর্ডে চেপে
আমাদের হাসি আর আবেগ প্রকাশিত হয় স্মাইলি আর ইমোটিকনের মাধ্যমে
হৃদয় আর আমাদের ঠোঁটকে অস্থির করে তোলে না "ভালবাসি" বলার জন্যে
কারণ হৃদয় ও মনের ভাব প্রকাশ করি আমরা ক্ষুদ্র টেক্সট বার্তার মাধ্যমে
বলে বোঝাতে পারি আমাদের মনের কথা ১৬০ বর্ণের ভেতরে।


দরকার নেই আর হৃদয় দিয়ে আবেগময় কণ্ঠে অগণিত বাক্যে অনুনয়
আমাদের আঙ্গুলগুলো এখন সেইসব আবেগ ধারণে সক্ষম যেগুলো
আমাদের ঠোঁট, আঁখি এবং বদনের মাধ্যমে একটি বইয়ে ধারণ করা যেত না।
এইসব শীতল মেশিন আমাদের আচরণকে যান্ত্রিক করে দেয় রোবটের মত
শুধু এটুকুই প্রভেদ যে রোবটের সামনে থিতু হয়ে বসে থাকি আমরা।


আমরা ডিজিটাল বিশ্বের কাছে আমাদের জীবন, মুহূর্ত এবং আত্মাকে বিকিয়ে দিচ্ছি।
সেইসব অচেনা মানুষ যাদের হয়ত কোনদিনই বাড়িতে আমন্ত্রণ করতাম না,
তারা এখন আমাদের খাটের নীচে উঁকি দেয়, আমাদের বাথরুমের ভেতরে তাকায়
আর আমাদের পোশাক উন্মোচন করে দেখে।
আমাদের নিয়ে কল্পনার ফানুশ ওড়ায়, স্বমৈথুন করে
এবং আমাদের ডিজিটাল পরিচয়কে ক্রমাগত অনুসরণ করে।


মাছিকে মরণ আলিঙ্গনে জড়ায় যেই মাকড়সার জাল তারই মত
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জালে আমরা নিজেদের জড়িয়েছি।
বিট এবং বাইট দ্বারা সংযুক্ত এই পৃথিবীতে আমরা হারিয়েছি আমাদের হৃৎস্পন্দন
আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয় প্রতিস্থাপিত হয়েছে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দ্বারা।


জিজ্ঞাসি তোমারে,
আমরা কি কাছে আসছি একে অপরের? না প্রযুক্তির?
কারণ এই ডিজিটাল সময়ে শূণ্য এবং একের মাঝখানে
আমাদের হৃদয় হারিয়েছি কোথাও।


****************************************************

মৃদুভাষী এই কবির সাথে এক ডিনারে আলাপ হলো বেশ অনেকক্ষণ। তার সাথে সামনাসামনি এই মুহূর্তগুলোকে ডিজিটাল যোগাযোগের চেয়ে অনেক মূল্য দেই আমি।

ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা আলেক্সেই সিডোরেন্কো

এনজেরি ওয়াঙ্গারির সাক্ষাৎকার:
* আফ্রিনোভেটর
* কেনিয়া আইসিটি বোর্ড
* গ্লোবাল ভয়েসেস

এনজেরির একমাত্র প্রকাশিত কবিতার বই পাওয়া যাবে এখানে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Tuesday, March 24, 2009

সিলভিয়া প্লাথের কবিতার অনুবাদ

সিলভিয়া প্লাথ ছেলে নিকোলাস হিউজের সাথে(ছবিতে সিলভিয়া প্লাথ ছেলে নিকোলাস হিউজের সাথে)
 
কবি সিলভিয়া প্লাথ সম্প্রতি আবার সংবাদে এসেছেন তার ৪৬ বছর বয়সী ছেলের আত্মহত্যার খবরের সাথে। এই অভিমানী কবিও ১৯৬৩ সালে ৩০ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার স্বামী ছিলেন ব্রিটিশ কবি টেড হিউজ।

ইমরুল হাসান সিলভিয়ার একটি সাক্ষাৎকার অনুবাদ করেছিলেন সচলায়তনে। তার নামকরা কবিতা "Daddy" এর অনুবাদ করেছি আমি যেটি নিচে দেয়া হল। মূল কবিতাটি পাবেন এখানে।

বাবা
তুমি আর, তুমি আর পরোনা
সেই কালো জুতা।
বাস করেছি আমি যার মধ্যে
তোমার পায়ের মতো করে,
রিক্ত, ম্লান হয়ে, ত্রিশ বছর ধরে।
সাহস পর্যন্ত হয়নি হাঁচার বা নিশ্বাস ফেলার।
বাবা, তোমাকে আমার মেরে ফেলতে হত।
কিন্তু চলে গেলে তুমি আমার সময়ের আগেই।
এক বস্তা ইশ্বর, মার্বেলের মত ভারী,
ভয়ানক মূর্তি এবং বিরাট ধুসর এক পা নিয়েই
এবং এক বিশাল মাথা খেয়ালী অতলান্তিকের দিকে,
যেখানে নীলের উপর সীমের মত সবুজ বর্ষিত হয়
সুন্দর নসেট সৈকতের পানিতে।
তোমা থেকে মুক্তির জন্যে আমি প্রার্থনা করতাম,
আহ, তুমি।
জার্মান ভাষায়, সেই পোলিশ শহরে যাকে
দুরমুজ দিয়ে সমান করে দেয়া হয়েছিল
কারন যুদ্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধ।
সেই শহরের নামটি খুবই পরিচিত।
আমার পোলিশ বন্ধু
বলেছে এরকম আছে কয়েক ডজন।
তাই আমি বলতে পারব না কখনই
কোথায় তুমি পা মাড়িয়েছ,
কোথায় তোমার শেকড়।
পারিনি বলতে কথা তোমার সাথে কখনই,
জিহ্বা আটকে গেছে চোয়ালে,
আটকে গেছে কাঁটা তারের ফাঁদে।
আমি, আমি, আমি, আমি
কথাই বলতে পারতাম না।
আমার মনে হত প্রতিটি জার্মানই তুমি
এবং অশ্রাব্য তোমার ভাষা,
একটি ইন্জিন, একটি ইন্জিন যেন
আমাকে বিরক্ত করছে ইহুদীদের মত,
একজন ইহুদী, দাখাউ, আউসভিৎজ, বেলসেনে
আমি কথা বলা শুরু করলাম ইহুদীদের মত,
আমার মনে হয় আমি হয়ত ইহুদী।
টিরল অঞ্চলের তুষারপাত, কিংবা ভিয়েনার স্বচ্ছ বিয়ার
সত্যি নয়, খাঁটি নয়, বনেদী নয় তোমার কাছে
আমার যাযাবর পূর্বপুরুষ এবং আমার অদ্ভুত ভাগ্য
এবং আমার নকল ব্যাগ, আমার সাধারণ ব্যাগ
আমি হয়ত কিঞ্চিত পরিমাণে ইহুদী।
আমি তোমাকে সবসময়ই ভয় পেতাম
তোমার যুদ্ধবিমান, তোমার গোয়েবলীয় প্রচার
তোমার পরিপাটি গোঁফ
তোমার আর্য চোখ, উজ্জ্বল নীল
পান্জার ম্যান, পান্জার ম্যান, ওহ তুমি।
ইশ্বর নয়, কিন্তু একটি সোয়াস্তিকা চিহ্ন
নিকষ কালো, কোন আলো তা ভেদ করতে পারে না।
প্রতিটি নারীই একজন ফ্যাসিবাদীকে পুজা করে,
মুখ মাড়ানো সেই জুতাকে, সেই নিষ্ঠুরকে
নিষ্ঠুর হৃদয় তোমার মত এক পশুকে।
তুমি ব্লাকবোর্ডের সামনে দাড়িয়ে বাবা,
যে ছবিটি আমার কাছে আছে সেখানে।
তোমার থুতনিতে একটি খাঁজ আছে যেখানে
তোমার জুতা থাকার কথা ছিল।
কিন্তু কম শয়তান মনে হচ্ছে না তার জন্যে।
না, সেই কৃষ্ণাঙ্গের চেয়েও কম না যে
আমার সুন্দর হৃদয় দুটুকরো করে দিয়েছিল।
আমার বয়স ছিল দশ যখন
ওরা তোমাকে কবর দিল।
বিশ বছর বয়সে আমি মরতে চেয়েছিলাম
এবং ফিরতে চেয়েছিলাম তোমার কাছে, কাছে।
আমার মনে হয়েছিল তোমার হাড় দিয়েও হবে।
কিন্তু তারা আমাকে থলে থেকে বের করে
এবং আমাকে আঁঠা দিয়ে জুড়ে দেয়।
তখন আমি জানি আমার কি করতে হবে,
আমি তোমার একটি মূর্তি বানাই।
একটি কৃষ্ণাঙ্গ মুর্তি মাইন কাম্ফের মত যার চেহারা।
এবং নিপীড়নের প্রতি ভালোবাসা জন্মালো
এবং আমি বলেছি আমি রাজী, আমি রাজী।
তাই বাবা, আমার অবশেষে মুক্তি হয়েছে
সেই কালো টেলিফোনটির তার উপড়ে ফেলা হয়েছে,
সেই কন্ঠ আর আমাকে বিরক্ত করবে না।
আমি যদি একজনকে খুন করে থাকি
তাহলে কিন্তু দুজনকেই শেষ করে দিয়েছি।
সেই রক্তচোষা যে তোমার প্রতিমূর্তি হয়ে এসেছিল
এবং বছরখানেক ধরে আমার রক্ত চুষেছিল,
সাত বছর ধরে, যদি তুমি জানতে চাও।
বাবা, তুমি এখন শুতে পার।
তোমার কালো হৃদয়ে এখন একটি লম্বা পেরেক।
গ্রামের লোকজন কখনই
দেখতে পারত না তোমাকে,
তারা এখন খুশীতে নাচছে এবং
পদাঘাত করছে তোমাকে।
তারা সবসময়ই জানত তুমিই...।
বাবা, বাবা, ওহ জালিম বাবা আমি মুক্তি পেয়েছি।
সিলভিয়ার নিজ কন্ঠে কবিতাটি শুনুন:



ছবি: টাইমস অনলাইন এর সৌজন্যে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Monday, April 02, 2007

আগ্নেয়াস্ত্র

পুলিশ স্টেশনে ভিড়, আগ্নেয়াস্ত্র জমা নিচ্ছে শহরের
সন্দিগ্ধ সৈনিক। সামরিক নির্দেশে ভীত মানুষের
শটগান, রাইফেল, পিস্তল, কার্তুজ যেন দরগার
স্বীকৃত মানৎ। টেবিলে ফুলের মত মস্তানের হাত।
আমি শুধু সামরিক আদেশ অমান্য করে হয়ে গেছি
কোমল বিদ্রোহী-প্রকাশ্যে ফিরছি ঘরে, অথচ আমার সঙে
হৃদয়ের মতো মারাত্মক একটি অগ্নেয়াস্ত্র, আমি জমা দিই নি।

(নির্মলেন্দু গুণ)

Wednesday, March 14, 2007

উত্তীর্ন তিরিশ

শয্যাত্যাগ, প্রাত্যরাশ, বাস, ছ'ঘন্টার কাজ, আড্ডা,
খাদ্য, প্রেম, ঘুম, জাগরণ; সোমবার এবং মঙলবার
বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি আর রবিবার একই
বৃত্তে আবর্তিত আর আকাশ তো মস্ত একটা গর্ত
সেখানে ঢুকবো নেংটি ইঁদুরের মতো। থরথর
হৃদয়ে প্রতিক্ষা করি, স্বপ্ন দেখি আগামী কালের
সারাক্ষন, আনেক আগামীকল্য উজিয়ে দেখেছি
তবু থাকে আরেক আগামী কাল। সহসা আয়নায়
নিজের ছায়াকে দেখি একদিন - উত্তীর্ন তিরিশ।

(শামসুর রাহমান)

Thursday, February 01, 2007

ভাল ও মন্দের বিষয়ে

-মূল কাহলিল জিব্রান

তোমাদের মধ্যে যা-যা ভাল, তা নিয়ে বলতে পারি শুধু
মন্দের বিষয়ে কিন্তু নয়।
'মন্দ' কি আসলে নয় নিপীরিত 'ভালো'
অন্তর্নিহিত তার ক্ষুধা ও তৃষ্নায়?
ক্ষুধার্ত 'ভাল'ই কিন্তু অন্ধকার গুহা থেকে খাদ্য খুঁজে নেয়
অপেয় জল সে পান করে নেয় আকন্ঠ তৃষ্নায়।

প্রানপন চেষ্টা করে যখন বিলিয়ে দাও যা-কিছু তোমার
তুমি ভাল অবশ্যই ভালো ।
তা বলে যখন তুমি নিজের জন্যে কিছু লাভ খোঁজ
তুমি মন্দ নও।

পুর্ন সচেতনতায় যখন বলছ তুমি কথা
তুমি ভাল, অবশ্যই ভালো।
তা বলে যখন ঘুমে অকারনে জিভ নড়ে ওঠে
তুমি মন্দ নও।
এমন কি হোঁচট-খাওয়া কথা
দুর্বল জিহ্বাকে সুস্থ করে তোলে কখনও কখনও।

যখন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে চলে যাচ্ছো দৃঢ় পদক্ষেপে
ভালো তুমি, অবশ্যই ভালো।
তা বলে যখন তুমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছো সেই দিকে
তুমি মন্দ নও!
খুঁড়িয়ে হাঁটছে যারা তারাও পশ্চাদবর্তী নয়।
কিন্তু দেখো, তোমরা যারা সমর্থ ও দ্রুতগামী
খোঁড়া দেখে খুঁড়িয়ে হেটো না-
এমন দয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

কতো যে অজস্রভাবে ভালো তুমি হতে পারো!
তা বলে যখন ভালো নও তুমি
মন্দও তো নও কোনও মতে।
শুধু কিছু দেরী হচ্ছে খানিকটা অলস তুমি বলে ।

নিজের মধ্যে এক বিরাট আকাঙ্খায় যাবতীয় ভালো
শায়িত রয়েছে;
আকাঙ্খা বিরাজ করছে তোমাদের সবার মধ্যেই
কারো ভেতর এর তীব্রতা স্রোতের মতোন
কারো ভেতরে এই আকাঙ্খার নদী গতিহীন।

(সংক্ষেপিত) - অনুবাদ অজিত মিশ্র

Tuesday, June 07, 2005

অচল প্রেমের পদ্য - হেলাল হাফিজ

আছি ৷
বড্ড জানান দিতে ইচ্ছে করে, আছি,
মনে ও মগজে গুন গুন করে
প্রণয়ের মৌমাছি ৷

*************************

কোনোদিন, আচমকা একদিন
ভালোবাসা এসে যদি হুট করে বলে বসে,
'চলো, যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাই
যাবে?'

*************************

তোমার হাতে দিয়েছিলাম অথৈ সম্ভাবনা,
তুমি কি আর অসাধারন? তোমার যে যন্ত্রণা
খুব মামুলী, বেশ করেছো চুুর সুদর্শনা
আমার সাথে চুকিয়ে ফেলে চিকন বিড়ম্বনা৷

*************************

আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে,
মানুষের কাছে এওতো আমার এক ধরনের ঋণ৷
এমনই কপাল আমার
অপরিশোধ্য এই ঋণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে৷

*************************

হয়তো তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি
নয়তো গিঁয়েছি হেরে
থাক না ধ্রুপদী অস্পষ্টতা
কে কাকে গেলাম ছেড়ে৷