Showing posts with label জীবন. Show all posts
Showing posts with label জীবন. Show all posts

Friday, October 31, 2008

বার্লিন: গল্পের শহর, অথবা শহরটা নিজেই গল্প - ২

ফেস্টিভ্যাল অফ লাইটস:

বিশ্বের অনেক স্থানেই আলোক উৎসব পালন করা হয় বিভিন্ন রুপে। ভারতে দিওয়ালী বা নেপালে দীপাবলী ধার্মিক উৎসব হিসেবে অনেকে দেখলেও এটি আসলে এখন সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবেরই অংশ হয়ে গেছে। ইরানের নববর্ষের (নরোজ) সময়ও তারা আলোক উৎসব করে থাকে। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আলোক উৎসবের মধ্যে রয়েছে ইহুদিদের হানুকা উৎসব, ফরাসীদের ফেত দে লুমিয়েখ (যা প্লেগ থেকে বাঁচতে মা মেরীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত) যেগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে উদযাপিত হয়।

জন্ডারমেনমার্কট 
জন্ডারমেনমার্কট

উপরের এই ভুমিকার কারন হচ্ছে আজকে বার্লিনের ফেস্টিভাল অফ লাইটসের কথা বলব। প্রতি বছর তারা অক্টোবরের দ্বিতীয় ভাগে এই আলোকসজ্জার আয়োজন করে। এর ঐতিহাসিক পটভুমি খুঁজে পেলাম না তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি পর্যটন উদ্যোগ। যেমন তাদের এবারের পর্যটন স্লোগান "Be Berlin" এর যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে।

তবে যাই হোক জার্মানরা যা করে তা অনেক পারঙ্গমতার সাথেই করে এবং এই বৈশিষ্টই তাদের এগিয়ে যাবার কারন। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই বাসার কাছাকাছি আকাশে মেঘের গায়ে দুর থেকে সার্চ লাইট পড়তে দেখেছি। ভাবছিলাম এ আবার কি। এই ফেস্টিভ্যালের কথা খেয়াল ছিল না তবে শেষ পর্যন্ত দেখতে যাওয়া হলো এক রাতে।

জিগেসজয়েলে-ভিক্টরি টাওয়ার 
জিগেসজয়েলে-ভিক্টরি টাওয়ার

শহরের সব পর্যটন আকর্ষণগুলো অপূর্ব আলোক সজ্জায় পূর্ন হয়ে গেছে। শহরের প্রধান রাস্তায় ক্রিসমাসের আলোকসজ্জা যেন এখনই শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্রের দিকে গিয়ে সার্চ লাইটের ব্যাপারটি খোলাসা হলো। ইউরোপা সেন্টারের কাছে এক উঁচু বাড়ী থেকে বিশাল সব সার্চ লাইচের আলো চারিদিকে দুরদুরান্তে ও আকাশে ফেলা হচ্ছে। সাথে সবুজ লেজার লাইট ও রয়েছে। আকাশে মেঘ ছিল বলে অপূর্ব দৃশ্য ছিল সেটি। আমার পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরায় এই আলোকসজ্জাগুলোর কিয়দংশও আসে নি।

ফরাসী চার্চ 
ফরাসী চার্চ

সাথে সাথে আরেক মজার ব্যাপার দেখলাম। কাধে ট্রাইপড হাতে অসংখ হবি ফটোগ্রাফাররা ছুটেছে। পরে এক জার্মান ব্লগ থেকে কিছু লিন্ক পেলাম। সেখানে উল্লেখ করা ছিল যে আপনারা এই ফেস্টিভ্যালের ছবিগুলোতে যেমন দেখছেন তেমন সুন্দর আপনি কাছে থেকে কখনই দেখতে পাবেন না। সত্যিই তাই। কারন বার্লিন ডোম ও উন্টার ডেন লিন্ডেন ছিল লোকে লোকারণ্য। ওখান থেকে কোনকিছুই ভালভাবে দেখতে পারিনি যেমন এই ফ্লিকারে আপলোড করা ছবিগুলো দেখাচ্ছে:

ফ্লিকারে বার্লিন ফেস্টিভ্যাল অফ লাইটস।

বিশ্বজুড়ে রাতের বেশ কিছূ অসাধারন ছবি।

পাতা ঝরার দিন:

শীত চলে আসছে দ্রুত। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পাতা ঝরার খেলা দেখলাম। এ সময়টা সত্যিই খুব অন্যরকম লাগে। ঝিরিঝিরি বাতাস বয়ে যাচ্ছে আর নানা রকম ভাবে ঘুরে ঘুরে পাতাগুলো পড়ে যাচ্ছে গাছ থেকে। সবুজ, হলুদ, বাদামী ইত্যাদি রংয়ের মিশ্রনে অপূর্ব দৃশ্য। সাথে মৃদু পাতা ঝরার শব্দের দ্যোতনা। এমনিতে বোঝা যায়না। কিন্তু হঠাৎ করে খেয়াল করলে মুগ্ধ হয়ে কতক্ষণ দাড়িয়ে শুনি।

ঝরা পাতা 
ঝরা পাতা

আমার মেয়ের কিন্ডারগার্টেনের সামনে অনেকগুলো মেপল গাছ আছে। সেগুলো বিশাল বিশাল পাতা নীচে পড়ে এমন অবস্থা হয় যে রাস্তাঘাট সব ঢেকে যায়। প্রতিদিন তাই দেখি রাস্তার কোনায় পাতাগুলো জড়ো করে রাখা। জার্মানরা খুবই প্রযুক্তিপ্রেমী জাতি। তাই চিরাচরিত ঝাটার বদলে পাতা সরাতে তারা ব্যবহার করে শক্তিশালী ব্লোয়ার। এর পর মাঝে মাঝে বড় ট্রাক এসে সাকশন পাইপের মত আরেকটি ব্লোয়ার দিয়ে রাস্তার কোনা থেকে সেগুলো তুলে নেয়।

পড়ে থাকা আপেল 
পড়ে থাকা আপেল

এই সময়টা হচ্ছে আপেলের। এ মাসের প্রথমে জার্মানীর দক্ষিণে লেক কন্সট্যান্স এলাকায় গিয়েছিলাম এবং ওখানকার আপেল গাছের ছড়াছড়ি দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। রাস্তার ধারে বাড়ীর আঙ্গিনায় আপেল গাছে টসটসে আপেল ঝুলছে, কিছু পড়ে আছে। কিন্তু হয়ত পেড়ে খাবার লোক নেই। আমরা যেখানে থাকি সেই এপার্টমেন্ট কম্প্লেক্সের পেছনে তিনটি বিল্ডিংয়ের জন্যে অনেক গাছ গাছালীতে ঘেরা বাচ্চাদের জন্যে একটি খেলার জায়গা। এই তল্লাটে মনে হয় শিশুদের সংখ্যা কম তাই সেখানে লোকজন দেখা যায়না বললেই চলে। টেবল টেনিসের টেবলটায় ছাতা পড়ে আছে, পাশে শেওলা পড়া চেয়ার। বহুকাল কেউ মাড়ায় না এ পথ। আমার মেয়ে সুইংয়ে চড়বে বলে বায়না ধরে মাঝে মাঝে তাই ইদানীং সেখানে যাওয়া হয়। মাসখানেক আগে আবিস্কার করলাম প্লে গ্রাউন্ডের পাশে একটি গাছে ছোট ছোট এক ধরনের ফল হয়ে রয়েছে। পেড়ে পর্যবেক্ষণ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি নিষেধ করে আবার কোন নিয়ম আছে কিনা ভেবে করা হয়নি। সেদিন দেখি ফলগুলোর অনেকগুলোই পেঁকে বেশ কিছু মাটিতে পড়ে রয়েছে। বুঝলাম এটি ছোট সাইজের এক ধরনের আপেল। বাড়ীতে এনে খেয়ে দেখলাম টক টক কিন্তু খেতে মন্দ নয়। এই বোধহয় ধনী ও গরীব দেশের মধ্যে পার্থক্য। ওখানে লোকে খেতে পায়না। এখানে খাবার পড়ে নষ্ট হয়, খাবার লোক নেই।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Saturday, September 06, 2008

একটি অপরাধের কাহিনী

ঘটনাটি ছিল খুবই সাধারণ। ম্যাকডোনাল্ডসে খাবারের অর্ডার দেয়ার পরে ক্যাশ মেশিনে উঠল ৬.৪০ ইউরো। কয়েন খুঁজে পেতে দেরী হচ্ছে দেখে লাইনের পেছনের ছেলেটার চেহারায় দেখলাম অস্বস্তির ভাব। পাঁচ ইউরোর নোট, এক ইউরো ও পঞ্চাশ সেন্টের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করার পরে ট্রেতে চেন্জ ও খাবার গুলো দিল ক্যাশের মেয়েটি। 'ডান্কে শোন' বলতে বলতেই শুনি সে পেছনের জনকে বলছে '..নেখস্টে বিটে'।

খালি যায়গা খুঁজে খেতে বসে খুঁচরোগুলো পকেটে পুরতে গিয়ে দেখি তিনটি ২০ সেন্টের কয়েন। বিলে লেখা আছে সেই ৬.৪০ ইউরো। তারপর বসে বসে ভাবলাম আমি কি তাকে ৭ ইউরো দিয়েছি? সে তো হবার নয় কারন অনেক খুঁজে পেতে কয়েনগুলো দিয়েছি। কাউন্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করার চিন্তা হলো কিন্তু বিশাল লাইন দেখে ভাবলাম 'কি দরকার'। এরপর থেকেই সমস্যাটি শুরু হল।

বাসায় ফিরে বার বার মাথায় ঘুরতে লাগল ব্যাপারটি - আমি কেন তাকে পয়সাটুকু ফেরত দিলাম না। কেন একে স্বাভাবিক মনে হল।

অথচ এই আমিই কিছুদিন আগে সাপ্তাহিক বাজার করার পর পার্কিং লটে এসে কি কারনে বিলের দিকে তাকিয়ে দেখি ১১ প্যাকেট দুধের বদলে ৬টির দাম রেখেছে। আবার গিয়ে লাইনে দাড়িয়ে বাকী পাঁচটির দামটুকু শোধ করে এসেছি।
আসলে আমাদের সবার ভেতরেই একটি দ্বৈত সত্তা কাজ করে। আমাদের সবারই একটি অপরাধপ্রবণতা রয়েছে যা মাঝে মধ্যে বের হয়ে পরে, অজান্তেই হয়ত। এবং আমারও হয়ত এমন আরও অপরাধবোধ রয়েছে যা হয়ত কোনদিন প্রকাশ করা হবে না।

কয়েক বছর আগে ঢাকার গুলশান এক নম্বরের এক এটিএম বুথে ঢুকেই দেখি আগের কেউ তার কার্ড ভেতরে রেখে চলে গেছে। স্ক্রীনে জ্বলজ্বল করছে "Would you like another transaction?" কয়েকটি বোতাম টিপলেই অন্যের বেশ কিছু টাকা হস্তগত হয়ে যেত। কিন্তু আমি কার্ডটি বের করে গার্ডের কাছে দিয়ে দেই কারন আমি জানতাম এটিএম এ ভিডিও ক্যামেরা থাকে এবং সেই অপকর্ম প্রকাশ হয়ে পরবে। ভিডিও ক্যামেরা যদি না থাকত তাহলে আমি কি সেই কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতাম? খুবই ভেবে দেখার বিষয়।

মাঝে মাঝে নিজের অক্ষমতা নিয়ে খুবই হতাশ হই। হতে পারলাম না আদর্শ কোন মানুষ অথবা আদর্শ কোন ক্রিমিনাল যার অপরাধবোধ নেই।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Monday, May 12, 2008

বন্ধু ভাল থেকো

আজ বিষাদ ছুঁয়েছে বুক, বিষাদ ছুঁয়েছে বুক
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই।
বাড়ি ফিরেই খবরটি পেলাম। চ্যানেল আইতে খবরটি দেখিয়েছে। বধু বলল: "তোমাকে ওই সময় ফোন করেছিলাম এটি বলার জন্যেই কিন্তু কষ্ট পাবে বলে বলতে পারি নি। ভালই হয়েছে দেখোনি। আগের জগলুলের সাথে মৃত্যুর পূর্বের জগলুলের কোনই মিল নেই, মনে হচ্ছে বুড়ো কেউ। শুকিয়ে কাঠি, চাপা ভাঙ্গা, চোখগুলো কেমন ঠিকরে বেরিয়ে গেছে,..."। আমার কানে আর কিছু ঢুকছিল না। আমি তখন দশ বছর পূর্বে চলে গিয়েছি।

থিয়েটার স্কুলের কর্মশালায় প্রথম জগলুলের সাথে পরিচয়। তুখোড় আড্ডাবাজ ছেলে; যে কোন গম্ভীর পরিবেশ হালকা করে দিতে পারে নিমিষেই তার হাস্যরসের মাধ্যমে। আর প্রচুর ট্যালেন্টেড। ২৫ বছরের ছেলে, অথচ চুল অধিকাংশই পাকা। আমরা বলতাম ঐটি অভিজ্ঞতালব্ধ। গান গাওয়া, নাটক লেখা, মিউজিক কম্পোজ কিংবা অভিনয় যে কোন কিছুতেই সর্বেসর্বা।

ক্রিয়েটিভ কাজের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। এর ওর জন্যে প্রথমে বেগার খেটে পরে বিজ্ঞাপন ও নাটকের মিউজিক বানানোই পেশা হিসেবে নিল। মাঝখানে স্কলাস্টিকায় কিছুদিনের জন্যে প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরি। আর সাথে তো অভিনয় নেশা হিসেবে ছিলই।

শুধু দলের একজন কর্মী হিসেবে নয় তার সাথে বন্ধুত্বের অন্য কারন হচ্ছে আমাদের 'হুইরে' গ্রুপের কার্যক্রম। এক সাথে আমরা রাতভর আড্ডা, গান গাওয়া, ঘুরে বেড়ানো এসব কত কিছুই না করেছি। রিহার্সেল শেষে রাত নটা-বারোটা মধুমিতায় সিনেমা দেখা অথবা কোরাস গান ধরা "তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা"। তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল যে অতি সহজেই সবার আপন ও প্রিয় হয়ে যেত এবং এ নিয়ে আমরা হিংসেও করতাম।

সাথী মেহেলীর সাথে তার বিবাহের পর অপার বিস্ময়ে দেখেছি জগলুলকে আলাদা সংসার সামলাতে। বাহবা এই ছন্নছাড়া নিয়ম ভাঙা ছেলে এ পর্বেও হিট।

তার পরেই শোনা গেল সেই শোক সংবাদ। তার দেহে প্রস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়েছে। বজ্রাহতের মতই আচরণ তখন আমাদের, এ মেনে নেয়া যায় না কিছুতেই। আমি তখন দেশ ছাড়ছি। নানা কাজে ব্যস্ত। জগলুলের সাথে অনেকদিন দেখা নেই। সে পালিয়ে বেড়ায় না আমি, বুঝতে পারি না। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হয়, স্বাস্থ্য বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে। ওদিকে ফান্ড রেইজিং চলছে তার চিকিৎসার বিশাল খরচ যোগাতে। প্লেনে চড়ার আগে শেষ বার যখন দেখা করতে গেলাম তাদের পেলাম না। মেহেলীকে ফোন করে বললাম চেকটি এখনও প্রেজেন্ট হয় নি কেন? জমা করে নিও।

এরপর দুর থেকে মাঝে মধ্যে তার খবর পেয়েছি। তার শরীর আস্তে আস্তে খারাপ হয়েই যাচ্ছিল, ডাক্তার বলেছিল আর বেশী দিন নেই। মাঝে বেশ কয়েকদিন খবর নেয়া হয় নি। আমরা যেচে পরে দু:সংবাদ শুনতে চাই না।

৩৫ বছরের একটি উচ্ছল জীবন এভাবে ঝরে পড়ল। অনেক সম্ভাবনার ইতি ঘটল। আমি নিশ্চিত সে স্বর্গে গিয়ে নিশ্চয়ই সবাইকে আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত রাখছে। কিন্তু ধরিত্রী তো বিষাদে ছেয়ে গেল বন্ধু। তোমার স্মরণ যদিওবা মোক্ষণ করে তার কিছুটা।

ডেইলি স্টারের খবর

 প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Wednesday, January 02, 2008

নতুন বছর আশা নিয়ে শুরু হোক (আরিফের মুক্তি সংবাদ)

মওসুমের প্রথম ভারী তুষারপাত 
মওসুমের প্রথম ভারী তুষারপাত

অনেকদিন বাংলা ব্লগে লিখিনা। কারন এপাড়া ওপাড়ায় এত ব্লগ এখন পড়তে পড়তেই সময় চলে যায়। প্রতিক্রিয়াগুলো মন্তব্যের খাতাই সীমাবদ্ধ। দিনপন্জী, ভ্রমনকাহিনীর আইডিয়া প্রচুর জমা পড়ে আছে। হয়ত কোনদিন লেখা হবে অথবা হয়তো হবে না।

এমনি করেই চলে গেল আরেকটি বছর। ঠিক এক বছর আগে নতুন বর্ষ উদযাপন করতে বার্লিনের প্রানকেন্দ্র ব্রান্ডেনবুর্গার গেটে গিয়েছিলাম মধ্য রাতে। সেবার কয়েক মাইল হাটা এবং লোকের ভীড়ে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে মুল আয়োজনটুকু মোটেই ভাল লাগেনি। এর থেকে লন্ডন, সিডনি বা মস্কোর আয়োজনগুলো তো খুব আকর্ষনীয় হয়। এবার জ্বলন্ত তারাবাতিতে হাত দিয়ে আমার মেয়ের ফোস্কা পড়ে যাওয়ায় আমরা ঠিক করলাম বাসায়ই থাকব ও টিভিতে দেখব।

মস্কোর রেড স্কোয়ারের রুপকথার মত বাড়ীগুলো কি অপূর্ব লাগছিল রাতের সেই আলোকমন্জুরীর মাঝে। টিভিতে এটা ওটা দেখতে দেখতে সময়ের খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। হঠাৎ ব্যাপক পটকার আওয়াজে খেয়াল হলো এবং ব্যালকনীতে ছুটে আসলাম। দেখলাম আমাদের অদৃশ্য পড়শীরা (কোনদিন দেখা বা কথা হয়না) অনেকেই তাদের বাড়ীর সামনে উপস্থিত। তারা তারাবাতি জ্বালাচ্ছে, রকেট ছুড়ছে। বাইরে তখন মাত্র এক ডিগ্রি এবং আমি বাসার পোশাকে। বেশীক্ষন থাকতে পারলাম না- ঘরে ফিরতে হলো। এমনই আকর্ষনহীন জীবন যাপন করছি ইদানীং।
আজ নতুন বছরের প্রথম দিনটি ভালই কাটল। কারন দুটি। প্রথমত: খবর পেলাম আরিফকে (বিড়াল কার্টুন) নি:শব্দে মুক্তি দেয়া হয়েছে মাস দুই আগে। দেশের সংবাদপত্রগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে তার সম্পর্কে কোন রিপোর্ট না করতে। হয়ত তাকে শাষানো হয়েছে এ সম্পর্কে কিছু না বলতে। অনুমান করা যায় সে হয়ত পালিয়েই আছে তবে মুক্ত।

গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে তথ্য প্রবাহে বাধা দেয়া। তথ্য প্রবাহ যত নিয়ন্ত্রনে থাকবে তত বিশেষ মহলের প্রপাগান্ডা সহায়তা পাবে। তত কন্সপিরেসী থিওরি হবে। এবং লোকজন কোনটি গুজব কোনটি আসল এটি সম্পর্কে দ্বিধায় থাকবে। এই নিয়ন্ত্রনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে এখনও একমাত্র ইন্টারনেট। পৃথিবী জুড়েই এর পেছনেও স্বৈরাচারীরা লেগেছে এবং প্রতিবারই নতুন নতুন টুল আবিস্কার (যেমন এনোনিমাস প্রক্সি) হয়েছে তা পাশ কাটানোর। নতুন বছরে আমাদের রেজল্যুশন হোক তথ্যের এই অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা বিশেষ করে বাংলাদেশে যখন গুরুত্বপূর্ন একটি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কানেকশন হাতের কাছে থাকলে প্রত্যেকেই একজন নাগরিক সাংবাদিক। প্রত্যেকেরই মত/তথ্য সহজে বিশ্ববাসীর কাছে পৌছানো সম্ভব।
দ্বিতীয় কারনটি হচ্ছে গত ডিসেম্বর মাসে বার্লিন যখন প্রায় তুষারপাতবিহীন ছিল কেউ কেউ বলছিল এ গ্লোবাল ওয়ার্মিং এরই ফল। আজ বেশ অনেকটা তুষারপাত হলো। অনেক আগে সেইল এর সময় কিনে রাখা স্নোবুট পড়ে বার্লিনে বেশ ঘুরলাম।

সবার জন্যে নতুন বছরটি শুভ ও সৃষ্টিশীল হোক।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Sunday, November 25, 2007

এই অক্ষমতাকে কোথায় রাখি

হারিকেন সিডরের দেশ জুড়ে তান্ডবের চিত্র ইথারের মাঝ দিয়ে ভেসে আসে। কম্পিউটারের স্ক্রীনে ভয়ন্কর সব সংখ্যা, তথ্য, পরিসংখ্যান দেখি, ব্লগে লিখি, মতামত দেই বা ত্রান যোগাড়ের চেষ্টা করি। তার মাঝেও দৈনন্দিন গতানুগতিক সিডিউলের কোন পরিবর্তন হয়না। প্রবাস জীবন-ঘড়ি এভাবেই চলে।

আজ কয়েকদিন পর দেশে ফোন করলাম। বাবা জানালেন বরিশাল ও ভোলা যাচ্ছেন। পুরনো কাপড় কিছু জড়ো করেছেন এবং কিছু নগদ সাহায্য দেবেন দুর্গতদের খুঁজে বের করে। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে থাকলাম তার কথা যে দুর্গত লোকজন তো কাজ করতে চায়না না খালি সাহায্যের জন্যে বসে থাকে। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে ওদের দিয়ে বিধ্বস্ত বাড়ীর জন্য উপকরন কিনে দিয়ে তাদের দিয়ে মেরামতের কাজ করাবেন এবং দিনের কাজ শেষে টাকা দান করবেন। আমার দেহঘড়ি রিফ্লেক্সবশত: ৭১ বছর বয়সী পিতার শারীরিক সামর্থ ও নানা রোগের কথা চিন্তা করে তাকে থামাতে চায়; বলতে চায় "তুমি কেন যাবা, কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দাও না। এতদিন থাকার দরকার কি?"

কিন্তু আমার তখন কন্ঠরোধ হয়ে আসে। আমি তাকে আশাহত করার মতো বেয়াদবী করতে গিয়েও করি না। আমার কিছু টাকা দান করার মত ভন্ডামিও করতে বলিনা। আমি স্পষ্ট আমার অক্ষমতাটুকু দেখতে পাই।

এই বিপুল ঘুর্ণিঝড় পীড়িত লোকদের জন্যে দরকার কিছু সাহায্যের হাত যা শুধু কিছু টাকা সদকা দিয়েই দায়িত্ব এড়াবে না, নিজের পরিশ্রম দিয়ে (যে কোন প্রকারেরই হোক) সাহায্য পৌছে দেবার কাজটি করবে ও তাদের পূনর্বাসনে সাহায্য করবে।

সেরকমটি আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকলেও না করাটা লজ্জারই বটে। সেই লজ্জাই আমাকে আজ আমার পিতা দিয়েছেন এবং অপরাধী করেছেন।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Wednesday, March 14, 2007

উত্তীর্ন তিরিশ

শয্যাত্যাগ, প্রাত্যরাশ, বাস, ছ'ঘন্টার কাজ, আড্ডা,
খাদ্য, প্রেম, ঘুম, জাগরণ; সোমবার এবং মঙলবার
বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি আর রবিবার একই
বৃত্তে আবর্তিত আর আকাশ তো মস্ত একটা গর্ত
সেখানে ঢুকবো নেংটি ইঁদুরের মতো। থরথর
হৃদয়ে প্রতিক্ষা করি, স্বপ্ন দেখি আগামী কালের
সারাক্ষন, আনেক আগামীকল্য উজিয়ে দেখেছি
তবু থাকে আরেক আগামী কাল। সহসা আয়নায়
নিজের ছায়াকে দেখি একদিন - উত্তীর্ন তিরিশ।

(শামসুর রাহমান)

Monday, October 09, 2006

নিজেকে হারিয়ে খুঁজি

রুপকথা ও গল্পে পড়েছি যে অতীতকালে সংসারের প্রতি বিরাগভাজন হলে বনবাসে চলে যাবার একটি চল ছিল। সাধু সন্তেরা লোকালয় ছেড়ে দীর্ঘমেয়াদী ধ্যান করে উচ্চমার্গে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। এই একাকিত্বের সাধনা কিন্তু সামাজিক জীবনের জটিলতা পরিহার করে নিজেকে খোঁজার জন্যেই।বর্তমান যুগের ঘন সামাজিক জীবনে এমন সুযোগ কমই দেখা যায়। রাগ করে যে দিকে দু'চোখ যায় সেদিকে চলে যাওয়ার অদম্য উদ্দেশ্য থাকলেও দৃষ্টি কিন্তু মোড়ের উচু বিলডিংটাতেই বাঁধা পায়। পালানোর উপায় নেই!

এই সমাজে আমরা একে অপরের সাথে সম্পর্ককেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দেই। কিন্তু আমরা কিন্তু একটি সম্পর্ককে সব সময়ই এড়িয়ে চলি,তা হলো নিজের সাথে নিজের সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে খুজে পেতেই দরকার ক্ষনিকের ধ্যান বা একাকিত্ব । কিন্তু এটি কেন দরকার?

জীবনানন্দ বলেছেন: "অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়-আরো এক বিপন্ন বিষ্ময়আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;আমাদের ক্লান্ত করে, ক্লান্ত - ক্লান্ত করে । "একাকিত্ব অনেক ক্ষেত্রেই জীবনের সেই বিপন্নতাকে খুজে পেতে সাহায্য করে। সামাজিক রীতিনীতি, কর্তব্যবোধ, ভাল সাজার ভন্ডামি ইত্যাদি থেকে নিজেকে কিছু সময় আড়ালে রাখে। জীবনের কিছু গোপনীয় বিষয় আমরা আমাদের অতি নিকটজনকেও জানাতে পারিনা। এমনকি সেটা নিয়ে চিন্তা করতেও ভয় লাগে। মনে হয় এই গুপ্তকথার অস্তিত্ব না থাকলেই ভাল হত। এগুলো আমাদের মনকে কুড়ে কুড়ে খায়। একাকিত্ব ছাড়া এগুলোর মুখোমুখি হবার সুযোগ কোথায়?

এই একাকিত্ব শুধু একা থাকা নয়। একা থাকা হচ্ছে ঋণাত্বক অবস্থা, অপরের সানি্নধ্যের আশায় বিপন্ন থাকা। কিন্তু আমি যেই একাকিত্বের (solitude) কথা বলছি সেটি হচ্ছে ধনাত্বক উদ্দেশ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া বিশেষ করে অপছন্দের কোন পরিবেশ থেকে। এটি মনের একটি অবস্থা এবং এই স্বল্প সময়ের ধ্যানে চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়না। নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া করা যায়। এর সুবিধা হচ্ছে লোকজন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে নয়, লোকজনের মাঝে থেকেও একাকিত্বের স্বাদ আস্বাদন করা যায়।

একাকিত্বের শক্তি অনেক। এই সময়টুকুতে গভীরভাবে চিন্তা করুন, নতুন কোন আইডিয়া পেয়ে যাবেন সহজেই। অথবা নিজের সমালোচনা করুন এবং সীমাবদ্ধতাগুলোকে দুর করার চেষ্টা করুন।একাকিত্বকে লালন করা সহজ। একটু একটু করে এর চর্চা করুন দেখবেন এটি আস্তে আস্তে আপনার চিন্তশক্তিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। হয়ত কবির ভাবালুতার বদনাম জুটবে আপনার কপালে। কিন্তু আপনিতো পাচ্ছেন সামজিক সম্পর্কের থেকেও বড় - আপনার নিজের সানি্নধ্য। জীবনের সবচেয়ে ভাল সময়টুকু পাবেন একাকিত্বে ভাল একটি স্বপ্নের ভেলা চড়িয়ে। এই প্রাগৈতিহাসিক শিল্প থেকে জীবনকে বন্চিত করবেন না।

Thursday, July 20, 2006

সুখী হওয়ার উপায়

পাচটি বিষয় স্মরন রাখলেই আমরা সুখী হতে পারি:

1) হৃদয় থেকে ঘৃনাগুলো মুছে ফেলুন ।
2) মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো ঝেড়ে ফেলুন ।
3) লোক দেখানো মনোভাব বাদ দিয়ে সহজ জীবন যাপন করুন ।
4) বেশী দেয়ার চেষ্টা করূন ।
5) কম আশা করুন তাহলে প্রতিটি ছোট খাট প্রাপ্তি আপনার জীবনে অনেক আনন্দ নিয়ে আসবে ।