Wednesday, March 12, 2008

গীতিকবিতায় প্রতিবাদ

গীতিকবিতার আভিধানিক অর্থ গীতধর্মী আত্মনিষ্ঠ কবিতা। এই মাধ্যমটি ঐতিহ্যগত ভাবে আমাদের সংস্কৃতিতে বিচরণ করেছে। মহাকাব্য সৃষ্টির পরবর্তী সময় হতেই এটি লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন কাহিনী নিরক্ষর লোকদের মুখে মুখে যুগের পর যুগ উচ্চারিত হয়ে জীবন্ত থাকত।
এমনি ভাবে ইংরেজী সাহিত্যেও রয়েছে ব্যালাডস বা স্প্যানিশ ভাষায় রোমান্সেস।

তবে এসবের অবতারণা জামাইকান গীতিকবিতা বা ডাব পোয়েট্রি সম্পর্কে বলার জন্যেই।

এই নবীন মাধ্যমটির উৎপত্তি ১৯৭০ সালে। এটি আসলে আফ্রিকান বাচিক ঐতিহ্যেরই সম্প্রসারণ এবং রেগ্গি সংস্কৃতির ফিউশন। কবিতা উচ্চারনের সাথে সাথে ড্রাম বা অন্যান্য বাদ্য ব্যবহার করে ছন্দের গতিময়তা রাখা হয়। সঙীতের রিদমকে কবিতার মধ্যে ডাব করা হয় বলেই এর নাম ডাব পোয়েট্রী।

এর সাথে শ্রোতার সম্পর্ক সরাসরি। কারন তারাও গায়ক বা পাঠকের সাথে গলা মেলায় বা প্রশ্নের উত্তর দেয়।

ডাব পোয়েট্রির বৈশিষ্ট হচ্ছে এর বিষয়বস্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক বিচার ব্যবস্থা নিয়ে এবং এটি কোটি কৃষ্ঞ্চাঙের প্রতিবাদের একটি কণ্ঠ হয়ে দাড়িয়েছে। এবং প্রখ্যাত জামাইকান রেগ্গি গায়ক বব মার্লির সঙীতের প্রভাব খুব রয়েছে। বব মার্লির গানের মতই ডাব পোয়েট্রিতে গীত হয় সাদাদের অধীনত্ব, পশ্চিমাদের দমন, বস্তিবাসীদের জীবন, সমতা, ন্যায় বিচার ইত্যাদি সামাজিক বিষয়গুলো।


আজকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি অন্যতম জামাইকান মহিলা গীতিকবি জ্যঁ বিনতা ব্রিজ এর সাথে। ১৯৫৬ সালে জামাইকার একটি গ্রামে জন্ম তার এবং পরবর্তীতে কিংস্টনে জামাইকান স্কুল অফ ড্রামায় পড়েছেন। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি বছরের বেশীরভাগ সময়ই লন্ডনে থাকেন। তিনি একাধারে নাট্যপরিচালক, অভিনেত্রী, শিক্ষক এবং কোরিওগ্রাফার। বর্তমানে স্কিজোফ্রনিয়াতে ভুগলেও তার পারফর্মেনস চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সাক্ষাৎকারে তার পাগলামো নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন।

তার কবিতা তৃতীয় বিশ্বের কথা বলে, নারীর কথা বলে। তার মতে শিল্পীদের বিবেক জাগ্রত করে বাস্তবতাকে তুলে ধরা উচিৎ। ইউরোপ, আমেরিকাকে প্রায়ই অভিযুক্ত করেন আফ্রিকায় অস্ত্র সরবরাহের জন্যে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সামরিক অভ্যুত্থানের জন্যেও তাদেরই দায়ী করেন। তার জনপ্রিয় কবিতাগুলোর একটি: 'Aid' এর কিয়দংশ:

Four hundred years from the plantation whip
To the IMF grip
Aid travels with a bomb
watch out
Aid travels with a bomb
They rob and exploit you of your own
then send it back as a foreign loan
Interest is on it, regulations too
They will also
decide your policy
for you.

ডাব পোয়েট্রীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিপীড়িত অসহায়দের তুলে না ধরে "শত্রুদের" দিকে কথ্য আক্রমণ শানিত করা। এই জন্যেই ডাব পোয়েট্রী এখন প্রতিবাদের ভাষা, কোটি লোককে জাগানোর একটি শিল্প।

ইউটিউবে জঁ বিন্তা ব্রীজের একটি ডাব পোয়েট্রী পারফর্মেন্স:

না দেখা গেলে এখানে ক্লিক করুন।

এই পাতায় তার কিছু অডিও রেকর্ডিং রয়েছে।



প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

বাংলা ব্লগ পরিক্রমা -১

বিশেষ একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় গত কয়েক মাস লিখতে পারিনি। তবে দেরীতে হলেও বিবিধ ব্লগের লেখা পড়ার সময় করে নিয়েছি এবং দেখলাম যে অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভাল লেখাগুলো খুঁজে বের করা বেশ সময় ও কষ্টসাধ্য। তাই হঠাৎ করেই মাথায় আইডিয়াটি এল যে একটি ব্লগ পরিক্রমা করলে কেমন হয়! এর সাহায্যে যাদের সময় কম তারা শত শত লেখার ভীড়ে উল্লেখযোগ্য লেখাগুলো পড়ে নিতে পারে।

এখানে আমি শুধু লেখাগুলোর কিয়দংশ তুলে দিচ্ছি, লিন্ক ধরে উল্লেখিত ব্লগ গুলোতে গিয়ে পছন্দ মতন সম্পূর্ণ লেখা পড়ে নিবেন আশা করি।

সাংবাদিক আক্কাস বাংলা ভাষা ও ভাষা বিষয়ক চিন্তাভাবনা তার ব্লগে তুলে ধরেন। তার সাম্প্রতিক লেখা বাংলা "হরফের রেখা আর চতুষ্কোণ" এ বাংলা হরফের অদৃশ্য নকশা সম্পর্কে আলোকপাত করছেন।

'আমার কিছু বক্কা' ব্লগের 'দ্যা হিডেন গড' পশ্চিম বঙের বাংলাভাষীদেরকে বাংলা উইকিপিডিয়াতে অংশগ্রহণ করার জন্যে আহ্বান জানিয়েছেন:

"বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকেরা যদি বাংলা উইকিপিডিয়ার উন্নতিতে এগিয়ে আসতে পারেন তাহলে আমরাই বা কেন পিছিয়ে থাকব?"

বাংলাদেশের আইটি জগতের এক তারকা অমি আজাদ তার ব্লগে জানাচ্ছেন যে ওয়েবে নতুন ভোটার তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে:

"একজন ভোটার এখন www.voterlist.gov.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে ঢুকে তাঁকে দেওয়া পিন বা ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর, জন্ন তারিখ এবং ওয়েব পাতায় থাকা নিরীক্ষা সংকেত লিখে তার নিজের ভোটারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখতে পারবেন। আর তথ্য-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই অনুরোধ করতে পারবেন।"

দৃষ্টিপাতের নতুন বাংলা ব্লগ 'না বলা কথা'য় জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক তার সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনার পর ভক্তদের জানান দিচ্ছেন "আমি বেঁচে আছি":

"শত্রুর মুখে দিয়ে ছাই, আমার প্রাণহানির কোনো আশংকাই আপাতত নাই।"

তার সরেস লেখাটি পুরো পড়তে ভুলবেন না।

ভদ্র তার এক আক্ষেপের কথা জানাচ্ছেন। নিশ্চয়ই এই আক্ষেপ আরও অনেক বাংলাভাষীরই:

"অপ্রতিদ্বন্দী দেশ এবার এগিয়ে যাচ্ছ শতবর্ষের দিকে। দেশ পত্রিকাকে আমার অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

আর আমার বিনীত প্রশ্ন - “দেশ পত্রিকা কবে অনলাইন হবে?”

হলের খাওয়া সম্পর্কে আমাদের সবারই বিভিন্ন গল্প জানা আছে। হিডেন হার্ট এর কাছ থেকে শোনেন পান্তার নতুন কাহিনী:

"মাছের সাইজ অনুমান করতে করতে তিন চার চামচ ঠান্ডা ভাত উঠিয়ে ফেলেছি প্লেটে। এর পর প্লেটে হাত দিয়েই দেখি হাত ভেজা ভেজা লাগে!! ভাতের মধ্যে পুরা আঙ্গুলের দুই কর পানি! পানি হয়েছে তাই কি! কোন ব্যপার না। ঠান্ডা ভাতে পানি পড়াতে কেমন পান্তা পান্তা ভাব হয়েছে। সাথে আছে শুকনা মরিচের আলুভর্তা আর ইলিশ(আসলে ইলিশ ফ্লেভারের পুটি)। ভাবলাম- ভালইতো , আজ পান্তা ভাত দিয়েই ইলিশ মাছ খাব!"

পান্তাটি আসলে কিভাবে তৈরি তা জানতে পারবেন পুরো লেখাটি পড়লে।

ইশতিয়াক জিকোর ব্লগ 'জিকোবাজিতে' প্রকাশিত ১১ কিস্তির ইউনিকোড পাঠ অনেকেরই রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।

আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আরও বাংলা ব্লগকে তুলে ধরার আশা রাখি।

(ছবির জন্যে কৃতজ্ঞতা)

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Friday, January 18, 2008

বাংলায় সিটিজেন মিডিয়ার গাইড

মাত্র তিন বছর আগেও সিটিজেন জার্নালিস্ট (নাগরিক সাংবাদিকতা), সিটিজেন মিডিয়া (নাগরিক মাধ্যম), ব্লগ ইত্যাদি শব্দগুলো বিশ্বের ৯৯% লোকের কাছেই অজানা ছিল। আজকে উন্নত বিশ্বে এটি খুবই আলোচিত বিষয়। এ নিয়ে নিত্য নতুন নানা ধরনের রিসার্চ ও উদ্যোগ দেখা যায়।

আমাদের অনেকের কাছেই এখনও এ বিষয়গুলি পরিষ্কার নয় কারন অনেকেরই ভীতি আছে যে জটিল কারিগরী বিষয় এগুলো। আসলে সাধারণ কম্পিউটার পরিচালনা জ্ঞান দিয়েই নাগরিক মাধ্যমের টুলগুলো (ব্লগ, পডকাস্ট, ভিডিও ইত্যাদি) ব্যবহার সম্ভব।

গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন হচ্ছে হার্ভার্ড ল স্কুলের বার্কম্যান সেন্টার ফর ইন্টারনেট এন্ড সোসাইটিতে (সমাজে ইন্টারনেটের প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক নাগরিক মাধ্যম (সিটিজেন মিডিয়া) প্রকল্প। এর ব্লগ প্রসার শাখা রাইজিং ভয়েসেস সবার জন্যে সহজ করে একটি সিটিজেন মিডিয়া গাইড প্রকাশ করেছে। এটি বর্তমানে বাংলা, ইংরেজী ও স্প্যানিশ ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। অচিরেই অন্যান্য ভাষায়ও এটি অনূদিত হবে।

ইংরেজী থেকে এর প্রাথমিক বাংলা অনুবাদ করেছিল রাইজিং ভয়েসেস এর ক্ষুদ্র সহায়তা লাভকারী প্রকল্প নারী জীবন। এরপর আমি এটির সম্পাদনা, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও পেজমেকিং করেছি। এতে বাধঁ ভাঙ্গার আওয়াজের লিন্কও দেয়া আছে। আশা করছি এটি আপনাদের কাজে আসবে।

এটি পিডিএফ ফরম্যাটে ক্রিয়েটিভ কমন্সের আওতায় প্রকাশিত। এর সূত্র উল্লেখ করে এটিকে বানিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে। কাজেই ছড়িয়ে দিন এটিকে আপনাদের পরিচিতজনের মাঝে। নাগরিক সাংবাদিকরা বিকশিত হোক দেশ দেশান্তরে।

বাংলায় ডাউনলোড করুন।

ইংরেজীতে ডাউনলোড করুন।

Tuesday, January 08, 2008

বিদেশী খেদাও

মিউনিখের ট্রেন স্টেশনে সংঘটিত সাম্প্রতিক এক ঘটনা জার্মানীতে বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক গ্রীক এবং এক তুর্কী যুবক স্টেশনে এক পেনশন ভোগী বৃদ্ধকে লাথি মেরে আহত করে যা সিসিটিভির ভিডিওতে ধারন করা হয় এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখানো হয়। এই চিত্র সারা ক্রিসমাস জুড়ে টিভি চ্যানেলগুলোতে বার বার প্রচারিত হতে আমি দেখেছি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে কারাগারে থাকা এই বিদেশীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হোক এবং সব বিদেশী অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হোক।

ব্যাপারটি এখানেই শেষ নয়। পশ্চিমের হেসে স্টেটের গভর্নর রোলান্ড কখ সম্প্রতি বলেছেন যে জার্মানীতে বিদেশী অপরাধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে। তার মতে জার্মানীতে বসবাসকারী বিদেশীদের ভদ্র আচরণ করা উচিৎ এবং মারামারির সংস্কৃতি পালন করা উচিৎ নয়। এভাবেই একটি সভ্য দেশের লোকেরা আচরণ করে।

তবে উনি হয়ত ভুলে গিয়েছেন যে গত আগষ্টে জার্মানীর পূবের মুগেলন গ্রামে আট ভারতীয়কে ৫০ জন জার্মানের একদল হাঙামাকারী নির্মমভাবে পিটিয়েছিল। তারা কিন্তু কোন নিও নাৎসী দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, গ্রামের সাধারণ মানুষ ছিল, যারা এই বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছিল।

যারা বিদেশী অপরাধীদের তাড়ানোর ব্যাপারে সোচ্চার তারা কিন্তু কখনও এ ব্যাপারে মুখ খুলবেন না যে ঐ ৫০ জন লোক কিভাবে বিনা বিচারে পার পেয়ে গিয়েছিল। তাদের গ্রেফতার করার পর তাদের নেতা বাদে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয় এক ঘন্টার মধ্যে। এই নেতাকে পরে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৬০০ ইউরো ফাইন করা হয়। যেহেতু সেই নেতা সোশ্যাল সিকিউরিটির ছাতায় আছে সে ঘোষণা করল এই ফাইন দিতে সে অক্ষম এবং ফলে স্টেট এক বছর ধরে তার ফাইন পরিশোধ করবে।

দক্ষিনপন্থী সাইট স্টোর্টেবেকার নেটজ এই আট ভারতীয় দের দেখে নেয়ার ব্যাপারটিকে একটি ছোটখাট বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে মুগেলনের মত গ্রাম মাল্টিকালচারিজম থেকে অনেকাংশে মুক্ত তাই এই উপযুক্ত কাজ করতে পেরেছে (উৎস)

তবে সব চেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে কট্টর দক্ষীণপন্থী রাজনৈতিক দল এনপিডি যাদের মতে "আফ্রিকান, এশিয়ান ও ওরিয়েন্টাল" কেউই কখনো জার্মান হতে পারবে না ঘোষনা দিয়েছে:

উদ্ধৃতি
"জার্মানী জার্মানদেরই থাকা উচিৎ যাতে আমাদের সন্তানদের আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের মত ভাগ্য বরন করা উচিৎ নয় যারা অভিবাসীদের ব্যপক অনুপ্রবেশের ফলে সংখ্যালঘু হয়ে যায়।"

মোটামুটি এই হচ্ছে জার্মানীতে বিদেশীদের প্রতি সাধারণ জনমত। এখন সমস্যা হচ্ছে বিদেশীদের গায়ে তো লেখা থাকে না কে এখানে পর্যটক, বা ক্ষন সময়ের জন্যে এসেছে বা অভিবাসী। ফলে টুরিস্ট এলাকার বাইরে গেলেই আসল পরিস্থিতি বোঝা যায়। যারা পশ্চিমের দিকে থাকেন তাদের খবর জানি না কিন্তু পূবের দিকে অনেক বিদেশী কেই অদৃশ্য বর্ণবাদের ব্যাপারে কথা বলতে দেখা গেছে। আমি নিজেও বার কয়েক খারাপ ব্যবহার পেয়েছি মাল্টিকালচারাল বার্লিনে যার কোন ব্যাখ্যা সহজে পাই নি। তবে অবশ্যই এটি কিছু সংখ্যক লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ - এর সরলীকরন উচিৎ হবে না।

বার্লিনের প্রান্তে অবস্থিত একটি মিউজিয়ামে (House of the Wannsee Conference) গিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিলাম। ইহুদিদের গণ হারে দেশ থেকে উৎখাত করা এবং পরবর্তীতে মারার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ১৯৪১ সালে অনুষ্ঠিত এখানকারই এক কনফারেন্সে।

এই মিউজিয়ামে রয়েছে জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের সেই ইতিহাস। নাৎসিজম বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষকে জাতিগত কিছু হায়ারার্কীতে ফেলে দেয়। যার উপরের দিকে রয়েছে জার্মানিক/নর্ডিক এবং আর্যরা (কোন কোন ক্ষেত্র সমার্থক) এবং নীচের দিকে ছিল পরজীবি জাতিরা (Untermenschen)

জার্মানরা খুবই গর্বিত জাতি। তারা তাদের পার্ফেকশন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। এই ধারনাকেই পুঁজি করে কখের মত লোক নতুন করে বিদেশীদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছেন। ইতিহাস থেকে লোকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এটি সবাই বলে। ফলে ভবিষ্যতে নাৎসীজমের পূনরাবির্ভাব (যদিও এটিকে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা আছে) হতেও পারে।

জার্মানীর প্রায় ১৮% জনসংখ্যা বিদেশী (দেড় কোটি) যার অধিকাংশই তুর্কী বংশোদ্ভূত। জার্মান নাগরিক হওয়া খুবই দুরুহ ব্যাপার এবং এজন্য তাদের অনেকেরই ভোটিং রাইট নেই (যদিও স্থায়ী বসবাস যোগ্যতা আছে)। তারা এই দক্ষিনপন্থীদের জাগরণকে কিভাবে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করবেন এটাই দেখার বিষয়।

বাংলায় অনলাইন লিন্কসমুহ: একটি আপডেট

বাংলা ব্লগ সমাহার

ব্লগিং প্লাটফর্ম, ডাইরেক্টরী এবং এগ্রেগেটর

* বাঁধ ভাঙার আওয়াজ- হাজারেরও বেশী বাংলা ব্লগ নিয়ে সর্ববৃহত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* সচলায়তন - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* আমার ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* এভারগ্রীন বাংলা ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* প্যাঁচালী - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* বাংলা ব্লগস্ - বাংলা ব্লগ ডাইরেক্টরী
* বাংলা ইউনিকোড ব্লগ - বাংলা ব্লগ এগ্রেগেটর

বাংলাদেশী:

* না বলা কথা
* আমাদের কথা
* উত্স সন্ধানে
* …করি বাংলায় চিত্কার…
* ছেঁড়া পাতায় কথামালা
* আসিফ আহমেদ অনীকের বাংলা ব্লগ
* অমি আজাদ
* সসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস
* আমি এবং আমার পৃথিবী
* পুড়ে ছাই ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে উঠি পুর্ণবার
* রয়েসয়ে
* নিরিখ বান্ধিলাম দুই নয়নে……
* বিবর্ণ আকাশ এবং আমি….
* ভয়েস অফ বাংলাদেশী ব্লগারস
* এইটা তোমার গান
* প্রাত্যহিক ভ্যাজর ভ্যাজর
* কবিয়াল
* অজ্ঞাতবাস
* ধৃসর গোধুলী
* সাধক শন্কু
* বলো গো
* মোকাবেলা
* খিচুড়ী ব্লগ
* আড্ডা
* ভালবাসা
* হাজার বর্ষা রাত………
* কাকশ্য পরিবেদনা!
* আধুলি জমানোর ম্যাচবক্স
* কীন ব্রীজে গোধুলি এল অন্তরালে কালান্তর ভোর
* দিল কা লাড্ডু
* অনন্ত ন্বপ্ন
* ..খেরোখাতা..
* যাপিত জীবন
* বাংলা ভাষী
* বাংলা ভাষা
* সুহ্রদ সরকার
* সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটুক … নতুন সম্ভাবনার তাগিদে
* সীমাহীন সংলাপ
* যূথচারী
* আলী মাহমেদের ব্লগিং
* মাহবুব সুমন ও তার অগাবগা বচন
* শুভ্র প্রকাশ পালের ব্লগ
* অলস বিকেলের শেষ রোদ
* শেঁকড়ের সন্ধানে
* টকিজ
* খসড়া কবির খসড়া কবিতা
* আমার ভাঙা পথের রাঙা ধূলা
* স্বপ্নলোক
* হিডেন হার্ট
* ত্রসরেণু অরণ্যে
* গ্লোবাল মিডিয়া
* আমাদের কথা -নারী জীবন বাংলা ব্লগ

ভারতীয়:

* স্লোগান দিতে গিয়ে
* আমার কিছু বক্কা
* খোলা জানালা
* মনের পাতা
* ট্রিভিয়াল বাইটস
* ধূসর ফিনিক্স …এবং কোমল গান্ধার
* বিবর্ণ কবিতা
* জীবনানন্দ দাশের কবিতা

বাংলায় বিবিধ টুলস

বাংলায় সংবাদ ও বিষয়ভিত্তিক সাইট

Wednesday, January 02, 2008

নতুন বছর আশা নিয়ে শুরু হোক (আরিফের মুক্তি সংবাদ)

মওসুমের প্রথম ভারী তুষারপাত 
মওসুমের প্রথম ভারী তুষারপাত

অনেকদিন বাংলা ব্লগে লিখিনা। কারন এপাড়া ওপাড়ায় এত ব্লগ এখন পড়তে পড়তেই সময় চলে যায়। প্রতিক্রিয়াগুলো মন্তব্যের খাতাই সীমাবদ্ধ। দিনপন্জী, ভ্রমনকাহিনীর আইডিয়া প্রচুর জমা পড়ে আছে। হয়ত কোনদিন লেখা হবে অথবা হয়তো হবে না।

এমনি করেই চলে গেল আরেকটি বছর। ঠিক এক বছর আগে নতুন বর্ষ উদযাপন করতে বার্লিনের প্রানকেন্দ্র ব্রান্ডেনবুর্গার গেটে গিয়েছিলাম মধ্য রাতে। সেবার কয়েক মাইল হাটা এবং লোকের ভীড়ে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে মুল আয়োজনটুকু মোটেই ভাল লাগেনি। এর থেকে লন্ডন, সিডনি বা মস্কোর আয়োজনগুলো তো খুব আকর্ষনীয় হয়। এবার জ্বলন্ত তারাবাতিতে হাত দিয়ে আমার মেয়ের ফোস্কা পড়ে যাওয়ায় আমরা ঠিক করলাম বাসায়ই থাকব ও টিভিতে দেখব।

মস্কোর রেড স্কোয়ারের রুপকথার মত বাড়ীগুলো কি অপূর্ব লাগছিল রাতের সেই আলোকমন্জুরীর মাঝে। টিভিতে এটা ওটা দেখতে দেখতে সময়ের খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। হঠাৎ ব্যাপক পটকার আওয়াজে খেয়াল হলো এবং ব্যালকনীতে ছুটে আসলাম। দেখলাম আমাদের অদৃশ্য পড়শীরা (কোনদিন দেখা বা কথা হয়না) অনেকেই তাদের বাড়ীর সামনে উপস্থিত। তারা তারাবাতি জ্বালাচ্ছে, রকেট ছুড়ছে। বাইরে তখন মাত্র এক ডিগ্রি এবং আমি বাসার পোশাকে। বেশীক্ষন থাকতে পারলাম না- ঘরে ফিরতে হলো। এমনই আকর্ষনহীন জীবন যাপন করছি ইদানীং।
আজ নতুন বছরের প্রথম দিনটি ভালই কাটল। কারন দুটি। প্রথমত: খবর পেলাম আরিফকে (বিড়াল কার্টুন) নি:শব্দে মুক্তি দেয়া হয়েছে মাস দুই আগে। দেশের সংবাদপত্রগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে তার সম্পর্কে কোন রিপোর্ট না করতে। হয়ত তাকে শাষানো হয়েছে এ সম্পর্কে কিছু না বলতে। অনুমান করা যায় সে হয়ত পালিয়েই আছে তবে মুক্ত।

গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে তথ্য প্রবাহে বাধা দেয়া। তথ্য প্রবাহ যত নিয়ন্ত্রনে থাকবে তত বিশেষ মহলের প্রপাগান্ডা সহায়তা পাবে। তত কন্সপিরেসী থিওরি হবে। এবং লোকজন কোনটি গুজব কোনটি আসল এটি সম্পর্কে দ্বিধায় থাকবে। এই নিয়ন্ত্রনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে এখনও একমাত্র ইন্টারনেট। পৃথিবী জুড়েই এর পেছনেও স্বৈরাচারীরা লেগেছে এবং প্রতিবারই নতুন নতুন টুল আবিস্কার (যেমন এনোনিমাস প্রক্সি) হয়েছে তা পাশ কাটানোর। নতুন বছরে আমাদের রেজল্যুশন হোক তথ্যের এই অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা বিশেষ করে বাংলাদেশে যখন গুরুত্বপূর্ন একটি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কানেকশন হাতের কাছে থাকলে প্রত্যেকেই একজন নাগরিক সাংবাদিক। প্রত্যেকেরই মত/তথ্য সহজে বিশ্ববাসীর কাছে পৌছানো সম্ভব।
দ্বিতীয় কারনটি হচ্ছে গত ডিসেম্বর মাসে বার্লিন যখন প্রায় তুষারপাতবিহীন ছিল কেউ কেউ বলছিল এ গ্লোবাল ওয়ার্মিং এরই ফল। আজ বেশ অনেকটা তুষারপাত হলো। অনেক আগে সেইল এর সময় কিনে রাখা স্নোবুট পড়ে বার্লিনে বেশ ঘুরলাম।

সবার জন্যে নতুন বছরটি শুভ ও সৃষ্টিশীল হোক।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Monday, December 17, 2007

এই হচ্ছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বক্তব্য:

২০০৭
"বিজয় দিবস হচ্ছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার দিন। এ দিবস শুধু দলে দলে ঐক্য করে না, ধর্মে ধর্মে বিশ্বাসে বিশ্বাসেও ঐক্য করে। তাই এই দিনের চেতনায় সবাই মিলে ভেদাভেদ ভুলে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"

"বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের, আমরা একে চালাবো। সব ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। আমাদের এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।" (সুত্র)

১৯৭১

"বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ইসলামী ছাত্র সংস্থার বদর দিবসে রেলীতে পাকিস্তানের একাত্বতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবী জানানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের বক্তারা ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে অনুপ্রানিত হয়ে ইসলামের জন্যে যুদ্ধ করার জন্যে আহ্বান জানানো হয় এবং ভারতের ষড়যন্ত্রকে রুখার আহ্বান জানানো হয়।

উক্ত সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আলী আহসান মুজাহিদ বলেছেন যে এটি শুধু পাকিস্তানের মুসলমানদের জন্যেই যুদ্ধ নয় সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যেও যুদ্ধ। তিনি বলেছেন বায়তুল মুকাদাদস (?) বিজিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।

জনাব মুজাহিদ বলেন আজ থেকে কোন লাইব্রেরী হিন্দু লেখক বা হিন্দুদের সপক্ষে মুসলিম লেখকদের বই রাখতে পারবে না। তিনি বলেছেন বদর বাহিনীর লোকেরা এই সব বই পুড়িয়ে ফেলবে যাতে মুসলমানরা অমুসলিম ধারনা দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়।"

কাজেই একদিকে তিনি সব হিন্দু লেখকদের লেখা বই পূড়িয়ে ফেলতে বলেছেন আর এখন বলছেন সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির কথা। তিনি ইসলাম ধর্ম গেল বলে ধুয়া তুলেছেন অথচ যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে এটি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোন ব্যাপার ছিল না।
একদিকে পাকিস্তান ও ইসলাম অক্ষুন্ন রাখার জন্যে বদরের যুদ্ধের কথা তিনি একাত্তুরে বলেছেন অপর দিকে এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বলছেন বিষয়টি সবার গুরুত্বপূর্ন সহকারে ভেবে দেখাই উচিৎ।

আরও কিছু তথ্য: -  http://www.nybangla.com/Muktijoddho/Muzahid/Ali

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন