Saturday, February 21, 2009

কপিরাইট, কপিলেফ্ট এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কিছু মেধাস্বত্ব চৌর্যবৃত্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্লগারদের আশংকার কারনে কপিরাইট সংক্রান্ত আলোচনা জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।

ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইন প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপটি ছিল ১২২ বছর আগে (১৮৮৬ সালে) সুইজারল্যান্ডের বের্নে ফরাসী কথাসাহিত্যিক ভিক্টর হুগোর প্ররোচনায় প্রটেকশন অফ লিটেরারী এন্ড আর্টিস্টিক ওয়ার্কস ট্রিটির মাধ্যমে। এর পরে আরও এমন কপিরাইট ট্রিটি হয়েছে যেমন ইউসিসি (ইউনিভার্সাল কপিরাইট কনভেনশন) জেনেভা -১৯৫২ সালে এবং প্যারিস - ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশ এই তিনটি ট্রিটিতেই সই করেছে। এই ট্রিটিতে সই করার মাহাত্ম্য হচ্ছে যেসব দেশ এর আওতায় আছে তাদের জনগণের কপিরাইট আপনা-আপনি বলবৎ হবে। কোন সরকারী অফিসে গিয়ে তার নিবন্ধন করা লাগবে না।

কিন্তু সেটা গেল কপিরাইট নির্ধারন। কিন্তু যে বিধিবিধানের মাধ্যমে কপিরাইট লঙ্ঘনের প্রতিকার হবে সেটি কিন্তু সংস্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব আইন মোতাবেক হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে বলবৎ আছে কপিরাইট আইন ২০০০ (২০০৫ সালে সংশোধিত) । এই আইন অনুযায়ী ব্লগের কন্টেন্ট "কপিরাইট" এর আওতায় পরে:

(১) কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যতীত, সাহিত্য, নাট্য বা সংগীত কর্মের ক্ষেত্রে,-
(ক) যে কোন উপায়ে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কর্মটি সংরক্ষণ করাসহ যে কোন বস্তুগত আংগিকে কর্মটির পুনরুৎপাদন করা;
(খ) সার্কুলেশনে রহিয়াছে এমন অনুলিপি ব্যতিরেকে, কর্মটির অনুলিপি জনগণের জন্য ইস্যু করা;
(গ) জনসমক্ষে কর্মটি সম্পাদন করা অথবা উহা জনগণের মধ্যে প্রচার করা;
(ঘ) কর্মটির কোন অনুবাদ উৎপাদন, পুনরুৎপাদন, সম্পাদন বা প্রকাশ করা;
এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কোন কর্ম বা কর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশের বিষয়ে নিম্নবর্ণিত কোন কিছু করা বা করার ক্ষমতা অর্পণ, যথা:-
১৫। (১) এই ধারার বিধান এবং এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, নিম্নলিখিত শ্রেণীর কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান, যথা:- (ক) সাহিত্য, নাট্য, সংগীত ও শিল্পসুলভ আদি কর্ম;
২৩। (১) কোন চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য বা রেখাচিত্রের মূল কপির বা কোন সাহিত্য কর্মের মূল ৩৫[ পাণ্ডুলিপি] বা কোন নাট্য বা সংগীত কর্মের মূল অনুলিপির পুনঃবিক্রয়ের ক্ষেত্রে, অনুরূপ কর্মের প্রণেতা যদি ধারা ১৭ এর অধীন প্রথম অধিকারের মালিক বা তাহার বৈধ উত্তরাধিকারী হন, তাহা হইলে, উক্ত কর্মের কপিরাইটের স্বত্বনিয়োগ সত্ত্বেও, এই ধারার বিধান অনুসারে অনুরূপ মূল অনুলিপি বা ৩৬[ পাণ্ডুলিপির] পুনঃবিক্রয় মূল্যের অংশ পাইবার অধিকারী হইবেন:
৮২। (১) যে ব্যক্তি, চলচ্চিত্র ব্যতিরেকে, কোন কর্মের কপিরাইট বা এই আইনের ধারা ২৩ এর অধীন অর্পিত অধিকার ব্যতীত অন্য কোন অধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তিনি অনুর্ধ্ব চার বৎসর কিন্তু অন্যুন ছয়মাস মেয়াদের কারাদণ্ড এবং অনুর্ধ্ব দুই লক্ষ টাকা কিন্তু অন্যুন পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন:
কপিরাইটের মেয়াদ হচ্ছে ৬০ বছর এবং বেনামী বা ছদ্মনামে লেখার কপিরাইটও করা যায়। আইন বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন এটিতে কতটুকু নিরাপত্তা পাওয়া যায় মেধাসত্ব সংরক্ষণে। কারন আপাতদৃষ্টিতে এটি বেশ পোক্ত মনে হলেও আইনের ফাঁক ফোকর সবসময়ই থাকে।

বাংলাদেশের আইনে ব্লগের কন্টেন্ট এর জন্যে কপিরাইট নিবন্ধন করতে হবে কিনা সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আমি পাইনি। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত জরুরী।

আমাদের একটি শংকার বিষয় যে ১৯৯৬ সালে ঘোষিত দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (উইপো) কপিরাইট ট্রিটি, যাতে ইন্টারনেট এবং আইটি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশ এখনও সই করেনি। উইপোর সাইটে কপিরাইট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানুন

ইন্টারনেট এবং অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি জনপ্রিয় হবার সাথে সাথে ওপেন সোর্স নামক একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। এই আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় কারন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নতুন শৈল্পিক উদ্ভাবনের জন্যে বিভিন্ন মৌলিক কপিরাইট করা প্রযুক্তি বা কন্টেন্টের প্রয়োজন হয় এবং অনুমতি সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতা পার করে সেগুলো হস্তগত করা (যদিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেগুলো সহজলভ্য) কঠিন হয়ে যায়।

এই আন্দোলন জন্ম দেয় কপিলেফ্ট লাইসেন্সের। কপিলেফ্ট লাইসেন্সের বৈশিষ্ট হচ্ছে এতে লাইসেন্সের মালিক তার কিছু রাইট বা অধিকার উন্মুক্ত করে দেয়। তাদের কাজগুলো তারা পাবলিক ডোমেইনে (কপিরাইটবিহীন) না দিয়ে একে সীমিত ব্যবহারের অধিকার দেয়। উদাহরণস্বরুপ স্রষ্টার নাম উল্লেখপূর্বক একে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা যাবে এবং অবাণিজ্যিক বা গবেষণামূলক ব্যবহার করা যাবে। যে কোন শিল্পই যেহেতু অটোমেটিক কপিরাইটেড হয় তাই কপিলেফ্ট লাইসেন্স তাদেরকে বেশী ব্যবহারউপযোগী করে এবং প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করে। উন্নীত ও জনপ্রিয় শিল্পগুলি কোন প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে অবশ্যই মূল স্রষ্টারা তাদের মূল্য পায়।

কপিলেফ্ট লাইসেন্সের কিছু জনপ্রিয় রুপ হচ্ছে সফ্টওয়্যারের ক্ষেত্রে জিএনইউ জেনারেল পাবলিক লাইসেন্স (জিপিএল) এবং ছবি এবং ওয়েবসাইট কন্টেন্ট (ও ব্লগ) এর ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ কমন্স (এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব পরে)।

এই লাইসেন্সগুলোর সুবিধা হচ্ছে আপনিই নির্ধারণ করতে পারবেন যে কতটুকু ছাড় দেয়া হচ্ছে। যেমন ক্রিয়েটিভ কমন্সে আপনি আপনার নিজস্ব লাইসেন্স তৈরি করতে পারবেন যেখানে বলা থাকবে অবাণিজ্যিক ব্যবহার, মডিফিকেশন ইত্যাদি করা যাবে কি না এবং কিভাবে শিল্পীর নাম উল্লেখিত থাকতে হবে।

অনেকে মনে করেন যে অধিকার ছেড়ে দেয়া মানে হচ্ছে চুরি হয়ে যাবার ভয়। আসলে মূল ব্যাপারটিই কিন্তু এই নীতির উপর তৈরি "It is always important to give credit where credit is due" (নুন খান যার গুণ গাইতেই হবে)। যতভাবেই এই কপিরাইট লাইসেন্সগুলো বিবর্তিত হোক না কেন মূল স্রষ্টা তার ক্রেডিট ঠিকই পান।

বুদাপেস্টে ক্রিয়েটিভ কমন্সের সিইও নামকরা ব্লগার জোই ইতোর একটি ছোট ওয়ার্কশপ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তিনি বোঝালেন মানুষ কেন ইন্টারনেট কন্টেন্ট চুরি করে। ধরুন একটি ছবি ফ্লিকারে দেখে খুব পছন্দ হলো। সেটি তার ব্লগে চাই। কিন্তু ছবি তো অল রাইটস রিজার্ভ লাইসেন্সে প্রকাশ করা। সেটার সূত্র প্রকাশ করলে তাই মামলার ভয় আছে। তাই ক্রপ করে কপি-পেস্ট করে সে ব্যবহার করল। কিন্তু যদি ছবিটি ক্রিয়েটিভ কমন্স নো কমার্শিয়াল -এট্রিবিউশন এই ক্যাটেগরীতে প্রকাশিত থাকত তাহলে সহজেই সেটি ব্লগে দেয়া যেত লিন্কটি উল্লেখ করে। কারন তার ব্লগটি অবাণিজ্যিক। এতে ছবিটির প্রচার হলো ও ব্লগে ব্লগে জনপ্রিয় হল এবং পরবর্তীতে একটি পত্রিকা সেই ছবিটি প্রকাশ করল মূল ফটোগ্রাফারকে সম্মানী দিয়ে। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের ফলেই তার ছবিটি জনপ্রিয় হল ও মূল্য পেল। ফলে তার মূল অধিকার কিন্তু হারালো না।

কপিরাইট বিষয়ে সুনর্দিষ্ট ব্যখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ক্রিয়েটিভ কমন্সের লাইসেন্স আমাদের ব্লগে যোগ করতে পারি। কারন এই লাইসেন্সে শর্তগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যায়। উদাহরণস্বরুপ ভারতের একটি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের স্বরুপ দেখুন। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে ক্রিয়েটিভ কমন্স আন্তর্জাতিকভাবে আইনি লড়াইয়ের ব্যাপারে সাহায্য করে (বিশ্বব্যাপী ওদের অনেক স্বেচ্ছাসেবী আইনজীবি আছে)।

এখন কিছু গতানুগতিক ভ্রান্তধারণাকে খন্ডানো জরুরী হয়ে পরেছে। আমার কাছে অবাক লেগেছে যে সাংবাদিক পলাশ উল্লেখ করেছে যে সরকার যেহেতু মুজিব-রোকেয়ার প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে তাই সেই কর্মের মালিক এবং যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। কিন্তু শিল্পকর্মের স্রষ্টা ও স্বত্ব দুটি ভিন্ন জিনিষ। আপনি ভ্যানগগের শিল্পকর্ম কোটি টাকা দিয়ে কিনে মালিক হয়ে ড্রয়িংরুমে টাঙ্গালেন। সেটি কিন্তু আপনি কখনও আপনার নামে চালাবেন না কারন ওটি ভ্যানগগেরই। কাজেই মুজিব-রোকেয়ার কাজ সরকার আবার প্রকাশ করতে পারে, ধরে নিচ্ছি বিক্রিলদ্ধ টাকাও হয়ত পুরোটাই নিতে পারে (যদিও কপিরাইট আইন অন্যরকম বলে) কিন্তু লেখক হিসেবে নাম মুজিব-রোকেয়ারই থাকতে হবে। এটিই হচ্ছে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টী নীতির মৌলিক ব্যাপার।

আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলো ইন্টারনেট থেকে পাওয়া কন্টেন্ট এর সূত্র প্রকাশ করতে চায়না কারন একটাই, আইন অনুযায়ী তাদের বাণিজ্যিক ব্যবহার করতে স্রষ্টার সম্মতি কিনতে হবে। অন্যদিকে সচলায়তনের মত ব্লগে লিন্ক উল্লেখ করে কন্টেন্ট ব্যবহার করা সহজ, কারন এটি অবাণিজ্যিক। কাজেই ব্লগের লেখকরা অনেক বেশী স্বাধীন। আপনি ব্লগে কন্টেন্ট ব্যবহারের জন্যে কিভাবে ঋণ স্বীকার করতে পারেন তা এখানে পাবেন

ইমরুল কায়েসের এই লেখার মন্তব্য অংশে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমার মনে হয় এখন আইন বিশেষজ্ঞের কিছু মতামত প্রয়োজনীয় হয়ে পরেছে। বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ কমন্স এখনও চালু হয়নি (তবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রযোজ্য)। ভারতে এটি এসেছে ২০০৭ সালে। এই লাইসেন্সকে এদেশের সরকার কর্তৃক অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Monday, February 16, 2009

ফায়ারফক্সেই পড়ুন বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা

ফায়ারফক্স ব্রাউজারে বাংলা (নন ইউনিকোড) পত্রিকা সঠিক ভাবে ডিসপ্লের জন্যে পদ্মা ( padma.mozdev.org ) নামের একটি এক্সটেনশন ছিল। এটির একটি আপডেট বেরিয়েছে (৪.১৪ সংস্করণ) যাতে আরও অনেক কটি সংবাদপত্র এখন পড়া যায়।

আনঅফিসিয়াল পদ্মা এক্সপি-আই ফাইলটি পাবেন এখানে:

Click This Link

ইন্সটল করতে প্রথমে ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন। তার পর মেনু থেকে ফাইল-->ওপেন ফাইল সিলেক্ট করে ডাউনলোড করা ফাইলটি সিলেক্ট করে ক্লিক করুন। এরপর ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করলেই এক্সটেনশনটি ইন্সটল হয়ে যাবে এবং পত্রিকাগুলো কোন ফন্ট ডাউনলোড ছাড়াই পড়তে পাবেন।

নীচে এর অন্তর্ভুক্ত পত্রিকাগুলোর তালিকা দেয়া হলো:

বাংলাদেশী পত্রিকা:

* প্রথম আলো ( http://www.prothom-alo.com )
* আমার দেশ ( http://www.amardeshbd.com )
* দৈনিক দেশ বাংলা ( http://www.dailydeshbangla.com )
* আমাদের সময় ( http://www.amadershomoy.com )
* ভোরের কাগজ ( http://www.bhorerkagoj.net )
* দৈনিক ইত্তেফাক ( http://www.ittefaq.com )
* যায় যায় দিন ( http://www.jaijaidin.com )
* নয়া দিগন্ত ( http://www.dailynayadiganta.com )
* যুগান্তর ( http://www.jugantor.com )
* মানব জমিন ( http://www.manabzamin.net )
* দৈনিক দিনকাল ( http://www.daily-dinkal.com )
* দৈনিক ডেস্টিনি (http://www.dainikdestiny.com )
* সমকাল ( http://www.shamokal.com )
* দৈনিক সংবাদ ( http://www.thedailysangbad.com )
* দৈনিক সংগ্রাম ( http://www.dailysangram.com )

ভারতীয় পত্রিকা:

* আনন্দবাজার ( http://www.anandabazar.com )
* বর্তমান ( http://www.bartamanpatrika.com )
* আজকাল ( http://www.aajkaal.net )
* উত্তরবঙ্গ সংবাদ ( http://www.uttarbangasambad.com )

আরও কিছু প্রয়োজনীয় লিন্ক:

* ফায়ারফক্সে বাংলা কনফিগারেশন

* সম্পূর্ণ বাংলায় ফায়ারফক্স

***Note: If you have Padma already installed, you might need to clean up your old preferences for auto transform to work for new websites. Try "about:config" in Firefox location bar then remove the old line "Padma.autoTransformWhiteList".

গোলাম মুর্তজা হোসেইনের সৌজন্যে প্রাপ্ত

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Saturday, February 14, 2009

ভালোবাসা দিবসে আপনার ভালবাসার ব্যাক্তিটিকে ব্লগিং শেখান



ভ্যালেন্টাইনস দিবস (১৪ই ফেব্রুয়ারি) ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও যোগাযোগের দিবস। এই দিবস পালনের একটি ভাল উপায় হতে পারে আপনার ভালবাসার ব্যাক্তিটিকে ব্লগিং (অথবা মাইক্রোব্লগিং ) শেখানো।

আপনারা জানেন যে ব্লগিং আনন্দ, সুখ এবং নতুন এনে দিতে পারে লাখো কোটি মানুষকে। আমাদের ব্লগারদের কমিউনিটির অনেকে ইতিমধ্যেই পণ করেছে যে তারা তাদের বন্ধু এবং কাছের মানুষদেরকে ব্লগিং শেখাবে এবং ভ্যালেন্টাইন্স দিবসে তাদের নিজস্ব ব্লগে এ নিয়ে লিখবে। আপনারাও যোগ দিতে পারেন।

আপনারাও এই ইন্টারনেট মীমে যোগদান করুন।

যোগাযোগই ভালবাসা:

এখানে চারটি পদক্ষেপের কথা বলা আছে যার মাধ্যমে ভ্যালেন্টাইনস দিবসে আমাদের সাথে যোগদান করতে পারবেন:

প্রথমত: আপনি ব্লগের মাধ্যমে কখনই একলা নয়। আপনার পাঠকদের জানান যে আপনি তাদের ভালবাসেন এবং তারাও আপনাকে কেন ভালবাসবে।
দ্বিতীয়ত: আপনার ভালবাসার ব্যাক্তিটিকে ব্লগিং (অথবা মাইক্রোব্লগিং) শেখান।
তৃতীয়ত: তাদের প্রথম ব্লগ পোস্টটিতে লিন্ক করুন। আপনাদের পাঠককে অনুরোধ করুন এই সব নতুন ব্লগ পড়ে দেখতে। এই ট্যাগ ব্যবহার করতে পারেন #SMK [social media kisses]
চতুর্থত: আপনার ব্লগবন্ধুদেরও এই মীমে অংশগ্রহণ করতে বলুন।

আপনার পোস্টটিকে সাজানোর জন্যে এখানে কিছু চিত্র রয়েছে: ছোট | মাঝারি | বড়

আপনার ভালবাসা প্রকাশ করুন:

আমরা আপনাদেরকে ভালবাসা প্রকাশে আন্তরিক। গ্লোবাল ভয়েসেসে আমরা বিশ্বের চারকোন থেকে বিভিন্ন ব্লগারদের কন্ঠকে তুলে ধরি। আপনি শুধু এই সাইটের পাতাগুলোতে চোখ বোলান, দেখবেন সাধারণ মানুষ কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন (গুরুত্বপূর্ণ বা স্বল্প পরিচিত) ঘটনা সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করছে তাদের ব্লগে লেখার মাধ্যমে অথবা অন্য ভাষার মতামতগুলোকে অনুবাদ করে প্রকাশ করছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আমরা বেশ কিছু নতুন ব্লগিং ওয়ার্কশপে অর্থ সাহায্য দিয়েছি আমাদের রাইজিং ভয়েসেস প্রকল্পের মাধ্যমে। আমরা অচিরেই আরও কিছু প্রকল্পের নাম ঘোষণা করব বিশেষ করে যারা এইচআইভি/এইডস নিয়ে ব্লগিং করে। গ্লোবাল ভয়েসেস অ্যাডভোকেসী প্রকল্পে আমরা সেই সমস্ত ব্লগারদের নিয়ে কাজ করি যারা সেন্সরশীপ এড়াতে কাজ করে। এছাড়াও তারা অন্যান্য অঞ্চলের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে মিলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে।

আমরা সবাই এক সাথে কাজ করতে পারি প্রযুক্তিগত বাধাগুলো দুর করে আরও অনেক মানুষকে অনলাইন মিডিয়ার (ব্লগিং) এই বিপ্লবে সামিল করতে। আপনারা আপনাদের সমাজ বা কাছের লোকদের মাঝে ডিজিটাইল ডিভাইড কমাতে সচেষ্ট হতে পারেন।

ব্লগিং এবং মাইক্রো-ব্লগিং এর উপর গাইড:


আপনাদের যদি কাউকে ব্লগিং সম্পর্কে জানাতে সাহায্যের দরকার হয় তাহলে রাইজিং ভয়েসেস প্রকাশিত ‘সিটিজেন মিডিয়ার পরিচিতি গাইডটি' (ইংরেজী , বাংলা ) ডাউনলোড করে পড়তে পারেন।

আপনারা সেগুলো পড়ে কিছুটা ধারণা পাবার পর আমাদের গ্লোবাল ভয়েসেস অ্যাডভোকেসী গাইড ‘ব্লগ ফর এ কজ ‘ পড়তে পারেন। আপনারা কি এই সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সাহায্য করতে চান?

এই ভিডিওগুলো আপনাদেরকে জানাবে:

কিভাবে ব্লগিং করতে হয়: (লিংক )

কিভাবে টুইটার করতে হয়: (লিংক )

মূল: সোলানা লারসেন
অনুবাদ: গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা

Wednesday, January 28, 2009

বদলে গেছে ঢাকা

কুয়াশাচ্ছন্ন ঢাকা: ছবি: বসুন্ধরা শপিং মল থেকে তোলা। 
কুয়াশাচ্ছন্ন ঢাকা: ছবি: বসুন্ধরা শপিং মল থেকে তোলা।

দেশে এসেছি বেশ কদিন হল। দুই বছর পর আসছি বলে কেমন একটা হোম সিকনেস কাজ করছিল। বিমান বন্দর থেকে বের হয়েই কেমন একটি ঘোরের মধ্যে পড়ে গেছি। সেই চেনা ভীড়, সেই মানুষের ঢল। কিন্তু কোথাও যেন কিছু মিলছে না। প্রথমত: ট্রাফিক জ্যাম আগের মত থাকলেও বাতাস অনেক বিশুদ্ধ। কারন শহরের ৭০% গাড়ি এখন গ্যাসে চলে। পেট্রোল পাম্পগুলোর চেহারাই বদলে গেছে! অনেক চেনা স্থাপনাগুলোই এখন গ্যাস পাম্প।

তাই বলে খুশি হবার কিছু নেই। রাস্তার যানবাহন চলাচলে আগের যে কোন সময়ের থেকে বেশী অরাজকতা। কে কার আগে যাবে তার প্রতিযোগীতা চলছে। রাস্তায় নতুন ট্রাফিক লাইট দেখে ভাল লাগল কিন্তু খারাপ লাগল কেউ সেগুলো মানে না বলে। কিছু রাস্তায় রিক্সা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং সেখানে উল্টোপথে রিক্সাওয়ালারা দ্রুত চলে যায়। গলির মোড়ে সিকিউরিটি গার্ড (ট্রাফিক পুলিশ মনে হল না) তাদের থামানোর চেষ্টা করে কিন্তু তাদের দেখে মনে হলো যে তারা হাল ছেড়ে দিয়েছে। 'বাঁচলে গাজী' বলে রিক্সাওয়ালারা মোড়ে তেড়ে যায়। ক্রসিংয়ে একটা গাড়ী রিক্সার সাথে লাগতে লাগতেও অ্যাকশন মুভির মত কেমন পাশ কাটিয়ে চলে যায়। রিক্সাযাত্রীর কি অবস্থা হলো দেখার কারো সময় নেই।
আসলে এটিই ব্যাপার সবাই কেমন বেপরোয়া হয়ে গেছে। সবাই বিপদজনকভাবেই বাঁচার চেষ্টা করছে।

এর কারনটি কি মুদ্রাস্ফীতি? দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি? আনুপাতিক হারে আয় না বাড়া? অথবা আমাদের সামাজিক জীবনেও কি পরিবর্তন আসছে? আমরাও কি খুবই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি?

বাড়ীর পাশের সেই চেনা গলিগুলোকে মেলাতে পারছি না। ছোট দোতলা বাড়ীগুলো হয় ছয়তলা এপার্টমেন্টে রুপান্তরিত হয়ে গেছে নাহলে নির্মীয়মান কংক্রীটের স্তুপ বিশ্রীভাবে মুখ ভেংচে রয়েছে। নি:শ্বাস ফেলার অভাব বড়। পাড়ার কাঠাল গাছ, বড়ই গাছগুলো সব অদৃশ্য। চারিদিকে সব নতুন মুখের ভীড়ে নিজেকেই খুব উড়ে এসে জুড়ে বসা মনে হলো।
যে বন্ধুটির সাথে দিনে একবার দেখা না হলে থাকা যেত না তার সাথে দেখা হল আসার বেশ কয়েকদিন পরে। সবাই ব্যস্ত; জীবিকা, পরিবার, ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে। এমন ঢাকাকে আমি আর চিনতে পারিনা। ঢাকা বদলে গেছে।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Saturday, January 10, 2009

আমার এক জোড়া জুতা দরকার

শেয়ার করুন:                   Facebook


এই সেই জগৎ বিখ্যাত মডেলের জুতা যার নতুন নাম দেয়া হয়েছে "বাই বাই বুশ"। জিন্জিরা পার্টি কেউ আছেন? তাড়াতাড়ি এই মডেল দেশে বাইর করেন। দেশী পণ্য হলে (সবধরনের) ব্যবহার করে শান্তি।

সূত্র: (ডেয়ার স্পিগেল )

এইবার কোকোকে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস বাংলাদেশের কয়েক রাজনীতিবিদ ও সরকারী আমলাকে দেয়া ৩ মিলিয়ন ডলার ঘুষের টাকা বাজেয়াপ্ত করার জন্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমেরিকান সরকারের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী জার্মান সিমেন্স আক্টিয়েন গেজেলশাফ্ট এবং চীনের হারবার ইন্জিনীয়ারিং কোম্পানীকে কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেয়ার জন্যে এই টাকার অধিকাংশ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র কোকোকে দেয়া হয়। এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ব্রান্চ এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পায়।

"Siemens Aktiengesellschaft (Siemens AG), a German corporation, and three of its subsidiaries pleaded guilty on Dec. 15, 2008, to violations of and charges related to the Foreign Corrupt Practices Act (FCPA). Specifically, Siemens Bangladesh admitted that from May 2001 to August 2006, it caused corrupt payments of at least $5,319,839 to be made through purported business consultants to various Bangladeshi officials in exchange for favorable treatment during the bidding process on a mobile telephone project. At least one payment to each of these purported consultants was paid from a U.S. bank account. "

দেখা যাক এখন আর বাকী ২.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলারের হদিশ মেলে কি না এবং সেগুলো কার পেটে গিয়েছে।

বিস্তারিত ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস ওয়েবসাইট

এ নিয়ে আরও সংবাদ:

* US Seeks $3 Million In Accounts Used To Bribe Bangladesh Officials

* US moves to seize Singapore funds linked to bribery scandal

প্রথম প্রকাশ: আমার ব্লগ

Monday, January 05, 2009

ভোটের সময় নিয়ে রঙ্গ

বিএনপি সম্প্রতি অভিযোগ করেছে যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশী ভোট পড়েছে তাহলে প্রতি ভোটারের মাত্র ৫৫ সেকেন্ড হাতে থাকে ভোট দেয়ার জন্যে। তাই ভোটে কারচুপি হয়েছে।

ব্লগার সাদা কালো হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছেন:

১) ৩৫,০০০ পোলিং স্টেশন আছে বাংলাদেশে
২) ৮.১ কোটি ভোটার, যার ৮৭% মানে প্রায় ৭ কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন
৩) পোলিং স্টেশন ৮ ঘণ্টা মানে ৪৮০ মিনিট খোলা ছিল
৪) নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১৭৭, ৭০৭টি পোলিং বুথ ছিল
৫) প্রতি পোলিং বুথে গড়পরতা ভোট পড়েছে ৭ কোটি/১৭৭১০১ = ৩৯৫ ভোট। কাজেই প্রতিটি ভোটে সময় লেগেছে (৪৮০/৬০)/৩৯৫ = ৭২ সেকেন্ড
উনি হিসেব করে দেখিয়েছেন যে ২০০১ সালে গড়পড়তা প্রতিটি ভোটে সময় লেগেছে ৭৬ সেকেন্ড। গতবারের চেয়ে এবারে চার সেকেন্ড কম লেগেছে। এর কারণ হচ্ছে ছবি সহ ইউনিক নম্বর যুক্ত ন্যাশনাল আইডি যার মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণে কম সময় লেগেছে (বাবার নাম ঠিকানা ইত্যাদি জিজ্ঞেস না করে)।

কাজেই বিএনপির যুক্তি ধোপে টিকছে না কারণ এই সময়কে প্রশ্নবিদ্ধ করলে ২০০১ সালের ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়। যেমন তাদের নির্বাচনে কারচুপী হয়েছে এই মন্তব্য প্রায় সব আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাই নাকচ করে দিয়েছেন। দেলোয়ার হোসেনকে দেখলাম বলতে যে এটি বিএনপিকে হটানোর মহা ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর সাথে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউএন ইত্যাদি সবাই যুক্ত আছে। কোন প্রমাণ ছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি তার এরকম ঢালাও অভিযোগে অবাক হলাম।

রাজনীতিবিদের মুখের কোন ট্যাক্স লাগে না। যা ইচ্ছা তাই বলে দিলেই হয়। এই সংস্কৃতি কবে বদলাবে? কবে জনগণ জবাবদিহীতা চাইবে প্রতিটি কর্মকান্ডের?

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন