Friday, January 18, 2008

বাংলায় সিটিজেন মিডিয়ার গাইড

মাত্র তিন বছর আগেও সিটিজেন জার্নালিস্ট (নাগরিক সাংবাদিকতা), সিটিজেন মিডিয়া (নাগরিক মাধ্যম), ব্লগ ইত্যাদি শব্দগুলো বিশ্বের ৯৯% লোকের কাছেই অজানা ছিল। আজকে উন্নত বিশ্বে এটি খুবই আলোচিত বিষয়। এ নিয়ে নিত্য নতুন নানা ধরনের রিসার্চ ও উদ্যোগ দেখা যায়।

আমাদের অনেকের কাছেই এখনও এ বিষয়গুলি পরিষ্কার নয় কারন অনেকেরই ভীতি আছে যে জটিল কারিগরী বিষয় এগুলো। আসলে সাধারণ কম্পিউটার পরিচালনা জ্ঞান দিয়েই নাগরিক মাধ্যমের টুলগুলো (ব্লগ, পডকাস্ট, ভিডিও ইত্যাদি) ব্যবহার সম্ভব।

গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন হচ্ছে হার্ভার্ড ল স্কুলের বার্কম্যান সেন্টার ফর ইন্টারনেট এন্ড সোসাইটিতে (সমাজে ইন্টারনেটের প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক নাগরিক মাধ্যম (সিটিজেন মিডিয়া) প্রকল্প। এর ব্লগ প্রসার শাখা রাইজিং ভয়েসেস সবার জন্যে সহজ করে একটি সিটিজেন মিডিয়া গাইড প্রকাশ করেছে। এটি বর্তমানে বাংলা, ইংরেজী ও স্প্যানিশ ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। অচিরেই অন্যান্য ভাষায়ও এটি অনূদিত হবে।

ইংরেজী থেকে এর প্রাথমিক বাংলা অনুবাদ করেছিল রাইজিং ভয়েসেস এর ক্ষুদ্র সহায়তা লাভকারী প্রকল্প নারী জীবন। এরপর আমি এটির সম্পাদনা, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও পেজমেকিং করেছি। এতে বাধঁ ভাঙ্গার আওয়াজের লিন্কও দেয়া আছে। আশা করছি এটি আপনাদের কাজে আসবে।

এটি পিডিএফ ফরম্যাটে ক্রিয়েটিভ কমন্সের আওতায় প্রকাশিত। এর সূত্র উল্লেখ করে এটিকে বানিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে। কাজেই ছড়িয়ে দিন এটিকে আপনাদের পরিচিতজনের মাঝে। নাগরিক সাংবাদিকরা বিকশিত হোক দেশ দেশান্তরে।

বাংলায় ডাউনলোড করুন।

ইংরেজীতে ডাউনলোড করুন।

Tuesday, January 08, 2008

বিদেশী খেদাও

মিউনিখের ট্রেন স্টেশনে সংঘটিত সাম্প্রতিক এক ঘটনা জার্মানীতে বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক গ্রীক এবং এক তুর্কী যুবক স্টেশনে এক পেনশন ভোগী বৃদ্ধকে লাথি মেরে আহত করে যা সিসিটিভির ভিডিওতে ধারন করা হয় এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখানো হয়। এই চিত্র সারা ক্রিসমাস জুড়ে টিভি চ্যানেলগুলোতে বার বার প্রচারিত হতে আমি দেখেছি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে কারাগারে থাকা এই বিদেশীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হোক এবং সব বিদেশী অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হোক।

ব্যাপারটি এখানেই শেষ নয়। পশ্চিমের হেসে স্টেটের গভর্নর রোলান্ড কখ সম্প্রতি বলেছেন যে জার্মানীতে বিদেশী অপরাধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে। তার মতে জার্মানীতে বসবাসকারী বিদেশীদের ভদ্র আচরণ করা উচিৎ এবং মারামারির সংস্কৃতি পালন করা উচিৎ নয়। এভাবেই একটি সভ্য দেশের লোকেরা আচরণ করে।

তবে উনি হয়ত ভুলে গিয়েছেন যে গত আগষ্টে জার্মানীর পূবের মুগেলন গ্রামে আট ভারতীয়কে ৫০ জন জার্মানের একদল হাঙামাকারী নির্মমভাবে পিটিয়েছিল। তারা কিন্তু কোন নিও নাৎসী দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, গ্রামের সাধারণ মানুষ ছিল, যারা এই বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছিল।

যারা বিদেশী অপরাধীদের তাড়ানোর ব্যাপারে সোচ্চার তারা কিন্তু কখনও এ ব্যাপারে মুখ খুলবেন না যে ঐ ৫০ জন লোক কিভাবে বিনা বিচারে পার পেয়ে গিয়েছিল। তাদের গ্রেফতার করার পর তাদের নেতা বাদে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয় এক ঘন্টার মধ্যে। এই নেতাকে পরে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৬০০ ইউরো ফাইন করা হয়। যেহেতু সেই নেতা সোশ্যাল সিকিউরিটির ছাতায় আছে সে ঘোষণা করল এই ফাইন দিতে সে অক্ষম এবং ফলে স্টেট এক বছর ধরে তার ফাইন পরিশোধ করবে।

দক্ষিনপন্থী সাইট স্টোর্টেবেকার নেটজ এই আট ভারতীয় দের দেখে নেয়ার ব্যাপারটিকে একটি ছোটখাট বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে মুগেলনের মত গ্রাম মাল্টিকালচারিজম থেকে অনেকাংশে মুক্ত তাই এই উপযুক্ত কাজ করতে পেরেছে (উৎস)

তবে সব চেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে কট্টর দক্ষীণপন্থী রাজনৈতিক দল এনপিডি যাদের মতে "আফ্রিকান, এশিয়ান ও ওরিয়েন্টাল" কেউই কখনো জার্মান হতে পারবে না ঘোষনা দিয়েছে:

উদ্ধৃতি
"জার্মানী জার্মানদেরই থাকা উচিৎ যাতে আমাদের সন্তানদের আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের মত ভাগ্য বরন করা উচিৎ নয় যারা অভিবাসীদের ব্যপক অনুপ্রবেশের ফলে সংখ্যালঘু হয়ে যায়।"

মোটামুটি এই হচ্ছে জার্মানীতে বিদেশীদের প্রতি সাধারণ জনমত। এখন সমস্যা হচ্ছে বিদেশীদের গায়ে তো লেখা থাকে না কে এখানে পর্যটক, বা ক্ষন সময়ের জন্যে এসেছে বা অভিবাসী। ফলে টুরিস্ট এলাকার বাইরে গেলেই আসল পরিস্থিতি বোঝা যায়। যারা পশ্চিমের দিকে থাকেন তাদের খবর জানি না কিন্তু পূবের দিকে অনেক বিদেশী কেই অদৃশ্য বর্ণবাদের ব্যাপারে কথা বলতে দেখা গেছে। আমি নিজেও বার কয়েক খারাপ ব্যবহার পেয়েছি মাল্টিকালচারাল বার্লিনে যার কোন ব্যাখ্যা সহজে পাই নি। তবে অবশ্যই এটি কিছু সংখ্যক লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ - এর সরলীকরন উচিৎ হবে না।

বার্লিনের প্রান্তে অবস্থিত একটি মিউজিয়ামে (House of the Wannsee Conference) গিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিলাম। ইহুদিদের গণ হারে দেশ থেকে উৎখাত করা এবং পরবর্তীতে মারার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ১৯৪১ সালে অনুষ্ঠিত এখানকারই এক কনফারেন্সে

এই মিউজিয়ামে রয়েছে জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের সেই ইতিহাস। নাৎসিজম বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষকে জাতিগত কিছু হায়ারার্কীতে ফেলে দেয়। যার উপরের দিকে রয়েছে জার্মানিক/নর্ডিক এবং আর্যরা (কোন কোন ক্ষেত্র সমার্থক) এবং নীচের দিকে ছিল পরজীবি জাতিরা (Untermenschen)

জার্মানরা খুবই গর্বিত জাতি। তারা তাদের পার্ফেকশন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। এই ধারনাকেই পুঁজি করে কখের মত লোক নতুন করে বিদেশীদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছেন। ইতিহাস থেকে লোকে শিক্ষা গ্রহণ করে না এটি সবাই বলে। ফলে ভবিষ্যতে নাৎসীজমের পূনরাবির্ভাব (যদিও এটিকে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা আছে) হতেও পারে।

জার্মানীর প্রায় ১৮% জনসংখ্যা বিদেশী (দেড় কোটি) যার অধিকাংশই তুর্কী বংশোদ্ভূত। জার্মান নাগরিক হওয়া খুবই দুরুহ ব্যাপার এবং এজন্য তাদের অনেকেরই ভোটিং রাইট নেই (যদিও স্থায়ী বসবাস যোগ্যতা আছে)। তারা এই দক্ষিনপন্থীদের জাগরণকে কিভাবে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করবেন এটাই দেখার বিষয়।

বাংলায় অনলাইন লিন্কসমুহ: একটি আপডেট

বাংলা ব্লগ সমাহার

ব্লগিং প্লাটফর্ম, ডাইরেক্টরী এবং এগ্রেগেটর

* বাঁধ ভাঙার আওয়াজ- হাজারেরও বেশী বাংলা ব্লগ নিয়ে সর্ববৃহত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* সচলায়তন - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* আমার ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* এভারগ্রীন বাংলা ব্লগ - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* প্যাঁচালী - বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম
* বাংলা ব্লগস্ - বাংলা ব্লগ ডাইরেক্টরী
* বাংলা ইউনিকোড ব্লগ - বাংলা ব্লগ এগ্রেগেটর

বাংলাদেশী:

* না বলা কথা
* আমাদের কথা
* উত্স সন্ধানে
* …করি বাংলায় চিত্কার…
* ছেঁড়া পাতায় কথামালা
* আসিফ আহমেদ অনীকের বাংলা ব্লগ
* অমি আজাদ
* সসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস
* আমি এবং আমার পৃথিবী
* পুড়ে ছাই ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে উঠি পুর্ণবার
* রয়েসয়ে
* নিরিখ বান্ধিলাম দুই নয়নে……
* বিবর্ণ আকাশ এবং আমি….
* ভয়েস অফ বাংলাদেশী ব্লগারস
* এইটা তোমার গান
* প্রাত্যহিক ভ্যাজর ভ্যাজর
* কবিয়াল
* অজ্ঞাতবাস
* ধৃসর গোধুলী
* সাধক শন্কু
* বলো গো
* মোকাবেলা
* খিচুড়ী ব্লগ
* আড্ডা
* ভালবাসা
* হাজার বর্ষা রাত………
* কাকশ্য পরিবেদনা!
* আধুলি জমানোর ম্যাচবক্স
* কীন ব্রীজে গোধুলি এল অন্তরালে কালান্তর ভোর
* দিল কা লাড্ডু
* অনন্ত ন্বপ্ন
* ..খেরোখাতা..
* যাপিত জীবন
* বাংলা ভাষী
* বাংলা ভাষা
* সুহ্রদ সরকার
* সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটুক … নতুন সম্ভাবনার তাগিদে
* সীমাহীন সংলাপ
* যূথচারী
* আলী মাহমেদের ব্লগিং
* মাহবুব সুমন ও তার অগাবগা বচন
* শুভ্র প্রকাশ পালের ব্লগ
* অলস বিকেলের শেষ রোদ
* শেঁকড়ের সন্ধানে
* টকিজ
* খসড়া কবির খসড়া কবিতা
* আমার ভাঙা পথের রাঙা ধূলা
* স্বপ্নলোক
* হিডেন হার্ট
* ত্রসরেণু অরণ্যে
* গ্লোবাল মিডিয়া
* আমাদের কথা -নারী জীবন বাংলা ব্লগ

ভারতীয়:

* স্লোগান দিতে গিয়ে
* আমার কিছু বক্কা
* খোলা জানালা
* মনের পাতা
* ট্রিভিয়াল বাইটস
* ধূসর ফিনিক্স …এবং কোমল গান্ধার
* বিবর্ণ কবিতা
* জীবনানন্দ দাশের কবিতা

বাংলায় বিবিধ টুলস

বাংলায় সংবাদ ও বিষয়ভিত্তিক সাইট

Wednesday, January 02, 2008

নতুন বছর আশা নিয়ে শুরু হোক (আরিফের মুক্তি সংবাদ)

মওসুমের প্রথম ভারী তুষারপাত 
মওসুমের প্রথম ভারী তুষারপাত

অনেকদিন বাংলা ব্লগে লিখিনা। কারন এপাড়া ওপাড়ায় এত ব্লগ এখন পড়তে পড়তেই সময় চলে যায়। প্রতিক্রিয়াগুলো মন্তব্যের খাতাই সীমাবদ্ধ। দিনপন্জী, ভ্রমনকাহিনীর আইডিয়া প্রচুর জমা পড়ে আছে। হয়ত কোনদিন লেখা হবে অথবা হয়তো হবে না।

এমনি করেই চলে গেল আরেকটি বছর। ঠিক এক বছর আগে নতুন বর্ষ উদযাপন করতে বার্লিনের প্রানকেন্দ্র ব্রান্ডেনবুর্গার গেটে গিয়েছিলাম মধ্য রাতে। সেবার কয়েক মাইল হাটা এবং লোকের ভীড়ে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে মুল আয়োজনটুকু মোটেই ভাল লাগেনি। এর থেকে লন্ডন, সিডনি বা মস্কোর আয়োজনগুলো তো খুব আকর্ষনীয় হয়। এবার জ্বলন্ত তারাবাতিতে হাত দিয়ে আমার মেয়ের ফোস্কা পড়ে যাওয়ায় আমরা ঠিক করলাম বাসায়ই থাকব ও টিভিতে দেখব।

মস্কোর রেড স্কোয়ারের রুপকথার মত বাড়ীগুলো কি অপূর্ব লাগছিল রাতের সেই আলোকমন্জুরীর মাঝে। টিভিতে এটা ওটা দেখতে দেখতে সময়ের খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। হঠাৎ ব্যাপক পটকার আওয়াজে খেয়াল হলো এবং ব্যালকনীতে ছুটে আসলাম। দেখলাম আমাদের অদৃশ্য পড়শীরা (কোনদিন দেখা বা কথা হয়না) অনেকেই তাদের বাড়ীর সামনে উপস্থিত। তারা তারাবাতি জ্বালাচ্ছে, রকেট ছুড়ছে। বাইরে তখন মাত্র এক ডিগ্রি এবং আমি বাসার পোশাকে। বেশীক্ষন থাকতে পারলাম না- ঘরে ফিরতে হলো। এমনই আকর্ষনহীন জীবন যাপন করছি ইদানীং।
আজ নতুন বছরের প্রথম দিনটি ভালই কাটল। কারন দুটি। প্রথমত: খবর পেলাম আরিফকে (বিড়াল কার্টুন) নি:শব্দে মুক্তি দেয়া হয়েছে মাস দুই আগে। দেশের সংবাদপত্রগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে তার সম্পর্কে কোন রিপোর্ট না করতে। হয়ত তাকে শাষানো হয়েছে এ সম্পর্কে কিছু না বলতে। অনুমান করা যায় সে হয়ত পালিয়েই আছে তবে মুক্ত।

গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে তথ্য প্রবাহে বাধা দেয়া। তথ্য প্রবাহ যত নিয়ন্ত্রনে থাকবে তত বিশেষ মহলের প্রপাগান্ডা সহায়তা পাবে। তত কন্সপিরেসী থিওরি হবে। এবং লোকজন কোনটি গুজব কোনটি আসল এটি সম্পর্কে দ্বিধায় থাকবে। এই নিয়ন্ত্রনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে এখনও একমাত্র ইন্টারনেট। পৃথিবী জুড়েই এর পেছনেও স্বৈরাচারীরা লেগেছে এবং প্রতিবারই নতুন নতুন টুল আবিস্কার (যেমন এনোনিমাস প্রক্সি) হয়েছে তা পাশ কাটানোর। নতুন বছরে আমাদের রেজল্যুশন হোক তথ্যের এই অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা বিশেষ করে বাংলাদেশে যখন গুরুত্বপূর্ন একটি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কানেকশন হাতের কাছে থাকলে প্রত্যেকেই একজন নাগরিক সাংবাদিক। প্রত্যেকেরই মত/তথ্য সহজে বিশ্ববাসীর কাছে পৌছানো সম্ভব।
দ্বিতীয় কারনটি হচ্ছে গত ডিসেম্বর মাসে বার্লিন যখন প্রায় তুষারপাতবিহীন ছিল কেউ কেউ বলছিল এ গ্লোবাল ওয়ার্মিং এরই ফল। আজ বেশ অনেকটা তুষারপাত হলো। অনেক আগে সেইল এর সময় কিনে রাখা স্নোবুট পড়ে বার্লিনে বেশ ঘুরলাম।

সবার জন্যে নতুন বছরটি শুভ ও সৃষ্টিশীল হোক।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Monday, December 17, 2007

এই হচ্ছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বক্তব্য:

২০০৭
"বিজয় দিবস হচ্ছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার দিন। এ দিবস শুধু দলে দলে ঐক্য করে না, ধর্মে ধর্মে বিশ্বাসে বিশ্বাসেও ঐক্য করে। তাই এই দিনের চেতনায় সবাই মিলে ভেদাভেদ ভুলে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"

"বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের, আমরা একে চালাবো। সব ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। আমাদের এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।" (সুত্র)

১৯৭১

"বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ইসলামী ছাত্র সংস্থার বদর দিবসে রেলীতে পাকিস্তানের একাত্বতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবী জানানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের বক্তারা ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে অনুপ্রানিত হয়ে ইসলামের জন্যে যুদ্ধ করার জন্যে আহ্বান জানানো হয় এবং ভারতের ষড়যন্ত্রকে রুখার আহ্বান জানানো হয়।

উক্ত সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আলী আহসান মুজাহিদ বলেছেন যে এটি শুধু পাকিস্তানের মুসলমানদের জন্যেই যুদ্ধ নয় সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যেও যুদ্ধ। তিনি বলেছেন বায়তুল মুকাদাদস (?) বিজিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।

জনাব মুজাহিদ বলেন আজ থেকে কোন লাইব্রেরী হিন্দু লেখক বা হিন্দুদের সপক্ষে মুসলিম লেখকদের বই রাখতে পারবে না। তিনি বলেছেন বদর বাহিনীর লোকেরা এই সব বই পুড়িয়ে ফেলবে যাতে মুসলমানরা অমুসলিম ধারনা দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়।"

কাজেই একদিকে তিনি সব হিন্দু লেখকদের লেখা বই পূড়িয়ে ফেলতে বলেছেন আর এখন বলছেন সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির কথা। তিনি ইসলাম ধর্ম গেল বলে ধুয়া তুলেছেন অথচ যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে এটি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোন ব্যাপার ছিল না।
একদিকে পাকিস্তান ও ইসলাম অক্ষুন্ন রাখার জন্যে বদরের যুদ্ধের কথা তিনি একাত্তুরে বলেছেন অপর দিকে এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বলছেন বিষয়টি সবার গুরুত্বপূর্ন সহকারে ভেবে দেখাই উচিৎ।

আরও কিছু তথ্য: -  http://www.nybangla.com/Muktijoddho/Muzahid/Ali

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Friday, December 14, 2007

তাহাদের কথা

সে বছর দুই আগের কথা। কামা'র ব্লগ পড়ে আৎকে উঠেছিলাম। কামা হচ্ছে একটি বাঙালী হিন্দু মেয়ে যার বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম ও কলকাতা উভয় পরিমন্ডলে

কামা বিলেতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন স্বঘোষিত দেবদাসী। তার মতে পুরুষের সাথে যৌনসংসর্গ হচ্ছে স্বর্গীয় এবং তাকে তার দেবতার কাছে নিয়ে যায়।

দেবদাসী একটি বহুকালের হিন্দু সামাজিক রীতি যেখানে কিশোরীদের দেবতার সাথে বিয়ে দেয়া হয়। ঐতিহাসিকভাবে দেবদাসীরা ব্রম্হচারী হলেও অনেক স্থানেই তাদের পুস্পিত আচার অনুষ্ঠানের পর একজনের কাছে তুলে দেয়া হয় যে প্রথম রাতের জন্যে তাকে কিছু দক্ষিনাও দিয়ে থাকে। এদের অনেকে পরবর্তীতে মন্দিরে বা আশ্রমেই থাকে এবং পুজারী বা অন্যান্যদের ভোগের সামগ্রী হয় বলে কথিত আছে। ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক সংখক দেবদাসীই পরবর্তীতে দেহব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরে।

কামার গল্প কিছুটা ভিন্ন। ছোটকালে দেবদাসী হিসেবে তার অভিষেক হবার পরে সে সাধারন সমাজেই বসবাস করেছে। পরবর্তীতে সে বিলেতে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করছে এবং সাথে সাথে দেহব্যবসাও শুরু করেছে। তার ওয়েবসাইটটি দেখলেই বুঝবেন কতটা গোছানো তার ব্যবসা। ফি থেকে শুরু করে লোকজনের তার সম্পর্কে অভিমত, ছবি ইত্যাদি বিবিধ কিছু রয়েছে।

ইগো ম্যাগাজিনে এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন:

উদ্ধৃতি
ব্রিটিশদের অত্যাচারে ভারতের দেবদাসীরা আরাধনার স্থান (মন্দির) থেকে সাধারনের সমাজে চলে এসেছে এবং বিয়েসাদী করে সাধারন জীবনযাপন করছেন। তাদের বেশ্যা হিসেবে অপবাদ দেয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে দাবিয়ে রাখার জন্যে। আমি দেবদাসী জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি অর্থনৈতিক ও যৌন স্বাধীনতা পাবার জন্যে যাতে আমি দক্ষিন এশিয়ার পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বলয় থেকে বের হতে পারি।

এখন বিতর্ক হকেই পারে যে সে কোন কারনে এটি করছে এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যাগুলো যুক্তিযুক্ত কিনা। হয়ত তার কথা লোকমুখে শুনে তার সম্পর্কে আমাদের ঋণাত্ক ধারনাই হতো শুধু। তবে ব্লগ এবং নিউ মিডিয়া সম্ভব করেছে তার কথা/চিন্তাধারা সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিবহাল করতে। ব্লগের মাধ্যমে এটাও সম্ভব তাকে কোন প্রশ্ন করা এবং তার কাছ থেকে উত্তর পাওয়া।

পরিশেষে আপনাদের আরেকটি প্রকল্পের কথা জানাচ্ছি। 'কলম' হচ্ছে কলকাতার প্রান্তিক যুবাদের নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান যা তাদের সাহিত্য প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেয় ও তাদের লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইন এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাইজিং ভয়েসেস এর ক্ষুদ্রঋণ সহায়তায় তারা 'নেইবারহুড ডায়রীজ' নামে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার মাধ্যমে কলকাতার বউ বাজার এলাকার রেডলাইট এরিয়ার যুবাদের নাগরিক সাংবাদিক (সিটিজেন জার্নালিস্ট) হিসেবে গড়ে তুলবে যাতে তারা তাদের পরিবেশ/ধারনা সম্পর্কে পৃথিবীকে অবহিত করতে পারে। তাদেরও সৃজনশীরতা রয়েছে সাহিত্য সৃষ্টি করার। এখানে এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে ।

হয়ত একদিন নিউ মিডিয়ার কল্যানে আমরা এইসব দুরে সরিয়ে রাখা মানুষদের আরও ভালভাবে বুঝতে পারব এবং আমাদের মাঝে আপন করে নেব।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Sunday, November 25, 2007

এই অক্ষমতাকে কোথায় রাখি

হারিকেন সিডরের দেশ জুড়ে তান্ডবের চিত্র ইথারের মাঝ দিয়ে ভেসে আসে। কম্পিউটারের স্ক্রীনে ভয়ন্কর সব সংখ্যা, তথ্য, পরিসংখ্যান দেখি, ব্লগে লিখি, মতামত দেই বা ত্রান যোগাড়ের চেষ্টা করি। তার মাঝেও দৈনন্দিন গতানুগতিক সিডিউলের কোন পরিবর্তন হয়না। প্রবাস জীবন-ঘড়ি এভাবেই চলে।

আজ কয়েকদিন পর দেশে ফোন করলাম। বাবা জানালেন বরিশাল ও ভোলা যাচ্ছেন। পুরনো কাপড় কিছু জড়ো করেছেন এবং কিছু নগদ সাহায্য দেবেন দুর্গতদের খুঁজে বের করে। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে থাকলাম তার কথা যে দুর্গত লোকজন তো কাজ করতে চায়না না খালি সাহায্যের জন্যে বসে থাকে। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে ওদের দিয়ে বিধ্বস্ত বাড়ীর জন্য উপকরন কিনে দিয়ে তাদের দিয়ে মেরামতের কাজ করাবেন এবং দিনের কাজ শেষে টাকা দান করবেন। আমার দেহঘড়ি রিফ্লেক্সবশত: ৭১ বছর বয়সী পিতার শারীরিক সামর্থ ও নানা রোগের কথা চিন্তা করে তাকে থামাতে চায়; বলতে চায় "তুমি কেন যাবা, কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দাও না। এতদিন থাকার দরকার কি?"

কিন্তু আমার তখন কন্ঠরোধ হয়ে আসে। আমি তাকে আশাহত করার মতো বেয়াদবী করতে গিয়েও করি না। আমার কিছু টাকা দান করার মত ভন্ডামিও করতে বলিনা। আমি স্পষ্ট আমার অক্ষমতাটুকু দেখতে পাই।

এই বিপুল ঘুর্ণিঝড় পীড়িত লোকদের জন্যে দরকার কিছু সাহায্যের হাত যা শুধু কিছু টাকা সদকা দিয়েই দায়িত্ব এড়াবে না, নিজের পরিশ্রম দিয়ে (যে কোন প্রকারেরই হোক) সাহায্য পৌছে দেবার কাজটি করবে ও তাদের পূনর্বাসনে সাহায্য করবে।

সেরকমটি আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকলেও না করাটা লজ্জারই বটে। সেই লজ্জাই আমাকে আজ আমার পিতা দিয়েছেন এবং অপরাধী করেছেন।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন