Saturday, January 10, 2009

এইবার কোকোকে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস বাংলাদেশের কয়েক রাজনীতিবিদ ও সরকারী আমলাকে দেয়া ৩ মিলিয়ন ডলার ঘুষের টাকা বাজেয়াপ্ত করার জন্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমেরিকান সরকারের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী জার্মান সিমেন্স আক্টিয়েন গেজেলশাফ্ট এবং চীনের হারবার ইন্জিনীয়ারিং কোম্পানীকে কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেয়ার জন্যে এই টাকার অধিকাংশ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র কোকোকে দেয়া হয়। এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ব্রান্চ এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পায়।

"Siemens Aktiengesellschaft (Siemens AG), a German corporation, and three of its subsidiaries pleaded guilty on Dec. 15, 2008, to violations of and charges related to the Foreign Corrupt Practices Act (FCPA). Specifically, Siemens Bangladesh admitted that from May 2001 to August 2006, it caused corrupt payments of at least $5,319,839 to be made through purported business consultants to various Bangladeshi officials in exchange for favorable treatment during the bidding process on a mobile telephone project. At least one payment to each of these purported consultants was paid from a U.S. bank account. "

দেখা যাক এখন আর বাকী ২.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলারের হদিশ মেলে কি না এবং সেগুলো কার পেটে গিয়েছে।

বিস্তারিত ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস ওয়েবসাইট

এ নিয়ে আরও সংবাদ:

* US Seeks $3 Million In Accounts Used To Bribe Bangladesh Officials

* US moves to seize Singapore funds linked to bribery scandal

প্রথম প্রকাশ: আমার ব্লগ

Monday, January 05, 2009

ভোটের সময় নিয়ে রঙ্গ

বিএনপি সম্প্রতি অভিযোগ করেছে যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশী ভোট পড়েছে তাহলে প্রতি ভোটারের মাত্র ৫৫ সেকেন্ড হাতে থাকে ভোট দেয়ার জন্যে। তাই ভোটে কারচুপি হয়েছে।

ব্লগার সাদা কালো হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছেন:

১) ৩৫,০০০ পোলিং স্টেশন আছে বাংলাদেশে
২) ৮.১ কোটি ভোটার, যার ৮৭% মানে প্রায় ৭ কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন
৩) পোলিং স্টেশন ৮ ঘণ্টা মানে ৪৮০ মিনিট খোলা ছিল
৪) নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১৭৭, ৭০৭টি পোলিং বুথ ছিল
৫) প্রতি পোলিং বুথে গড়পরতা ভোট পড়েছে ৭ কোটি/১৭৭১০১ = ৩৯৫ ভোট। কাজেই প্রতিটি ভোটে সময় লেগেছে (৪৮০/৬০)/৩৯৫ = ৭২ সেকেন্ড
উনি হিসেব করে দেখিয়েছেন যে ২০০১ সালে গড়পড়তা প্রতিটি ভোটে সময় লেগেছে ৭৬ সেকেন্ড। গতবারের চেয়ে এবারে চার সেকেন্ড কম লেগেছে। এর কারণ হচ্ছে ছবি সহ ইউনিক নম্বর যুক্ত ন্যাশনাল আইডি যার মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণে কম সময় লেগেছে (বাবার নাম ঠিকানা ইত্যাদি জিজ্ঞেস না করে)।

কাজেই বিএনপির যুক্তি ধোপে টিকছে না কারণ এই সময়কে প্রশ্নবিদ্ধ করলে ২০০১ সালের ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়। যেমন তাদের নির্বাচনে কারচুপী হয়েছে এই মন্তব্য প্রায় সব আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাই নাকচ করে দিয়েছেন। দেলোয়ার হোসেনকে দেখলাম বলতে যে এটি বিএনপিকে হটানোর মহা ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর সাথে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউএন ইত্যাদি সবাই যুক্ত আছে। কোন প্রমাণ ছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি তার এরকম ঢালাও অভিযোগে অবাক হলাম।

রাজনীতিবিদের মুখের কোন ট্যাক্স লাগে না। যা ইচ্ছা তাই বলে দিলেই হয়। এই সংস্কৃতি কবে বদলাবে? কবে জনগণ জবাবদিহীতা চাইবে প্রতিটি কর্মকান্ডের?

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Saturday, January 03, 2009

গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, আমরা কি চুপ করে থাকব?

গত ডিসেম্বরে সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সাথে ইজরায়েলের ৬ মাস ব্যাপী যুদ্ধ বিরতি শেষ হবার পরে গত ২৭শে ডিসেম্বর থেকে ইজরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স গাজা স্ট্রীপে হামাস অধিকৃত স্থান গুলোতে বোমা ফেলে যাচ্ছে। এতে হামাসের সন্ত্রাসীরা নিহত হবার পাশাপাশি প্রায় ৪০০ লোকের বেশী মারা গেছেন যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফিলিস্তিনি শিশু। এদের দুর্দশা অবর্ণনীয়। ইজরায়েলের অবরোধের ফলে এমনিতেই এখানকার জনগণ খুব কষ্টে ছিল। তারপর মৃত্যুদুতের মত ইজরায়েলের এই বোমা আক্রমণ। এই দিনটিকে ১৯৬৭ সালের আরব-ইজরায়েল যুদ্ধের পর সবচেয়ে রক্তাক্ত মনে করা হয় । বোমা হামলা এখনও চলছে।

তবে এই অবস্থার পেছনে হামাস সংগঠনের কার্যকলাপও অনেকাংশে দায়ী। গত আট বছরে তারা ৪ হাজারেরও বেশী করে রকেট আর মর্টার ইজরায়েলের বেসামরিক এলাকায় ফেলেছে।



তাদের এইসব কর্মকান্ডের ফলে ইজরায়েল এখন বোঝাতে চাইছে যে তাদের জনগণ বিপন্ন তাই হামাসকে থামানোই তাদের লক্ষ্য। প্যালেস্টাইনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস এবং তার দল ফাতাহর সাথে হামাসের দ্বন্দ্ব থাকায় তারাও এখন নিশ্চুপ রয়েছে। গত বছর আব্বাস হামাসের সশস্ত্র শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওদিকে মিশরও এবারে চুপ কারন হামাসের সাথে তাদেরও হয়ত কোন বনিবনা হচ্ছে না। অধিকাংশ আরব মোড়ল দেশ (যেমন সৌদি আরব) এবং পশ্চিমা দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র্র, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি চুপ এইসব নির্বিচারে হত্যার ব্যাপারে।

তবে এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী জনমনে খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজ দেখলাম বৃটেনের বাংলা টিভিতে ফান্ড রেইজিং চলছে, লোকজন দেদারসে সাহায্য করে যাচ্ছে। পপ গায়িকা এনি লেনক্স প্যালেস্টাইনীদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে দিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা কমবে কি?

ইজরায়েলের বোমা হামলার প্রতিবাদে বেসামরিক লোকের উপর পাল্টা বোমা হামলার স্ট্রাটেজী কোনক্রমেই ধোপে টিকে না তাই এ নিয়ে প্রচার মাধ্যমে নানা রকম গল্প ফাঁদা হচ্ছে। তারা বলছে যে প্যালেস্টাইনিরা বাড়িয়ে বলছে। আর এদিকে আরব প্রচার মাধ্যমগুলোও ইজরায়েলের লোকদের শয়তানের প্রতিমুর্তি বানাতে ব্যস্ত। আরব অঞ্চলের কজন হামাসের বোমা হামলার প্রতিবাদ করেছে? এছাড়া ইজরায়েলে সামনে নির্বাচন। সরকার এই স্টান্ট দেখিয়ে ভোট জয়ের চেষ্টা করছে এবং সাধারণ ইজরায়েলীদের বোকা বানাচ্ছে। সবখানেই প্রপাগান্ডা, পক্ষপাতিত্ব ছাড়া কোন রিপোর্টই পাবেন না।

আপনাদের তাই অনুরোধ করব গ্লোবাল ভয়েসেসের বিশেষ কাভারেজ পাতার পোস্টগুলো পড়তে যেখানে ফিলিস্তিনি ও ইজরায়েলী ব্লগাররা এ নিয়ে তাদের প্রত্যক্ষ্যদর্শী রিপোর্ট ও দৃষ্টিভঙ্গী জানাচ্ছেন। গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলায় বেশ কিছু আর্টিকেল বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে -সেগুলোও পড়তে পারেন।

এই ইজরায়েলী যুবকের কথাই ধরুন যে তার সরকারের অভিযানের সমালোচনা করে বলছে আমি যদি আজ একজন ফিলিস্তিনি হতাম তাহলে আমি ইজরায়েলীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম, এমন কি সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েও। কাজেই ইজরায়েলের বর্তমান অভিযান আরও কিছু সুইসাইড বোম্বার আর সন্ত্রাসীদের সৃষ্টি করবে।

আমাদের সত্যগুলো জানা দরকার এবং চিহ্নিত করা দরকার কারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঐ অঞ্চলে শান্তির বিপক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। একে অপরের প্রতি ঢালাও বিষোদগার না ছড়িয়ে আমাদের সত্যকে তুলে ধরে এই রকমের ঘটনা প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া উচিৎ।

আরও কিছু ব্লগের লিন্ক রইল এখানে:
এন্থনী লোয়েনস্টাইন
ফিলিস্তিনি ব্লগার হাইতাম সাব্বাহ
দ্যা অবজার্ভার্স

[উপরের গ্রাফ এই রিপোর্ট] থেকে গৃহীত

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Wednesday, December 24, 2008

উর্দুতে বন্দনা করা এটি কার বাংলাদেশ?


ইসলামিক টিভিতে এবারের বিজয় দিবস উদযাপন করা হয় বাংলা, উর্দু ও ইংরেজী মেশানো একটি অদ্ভুত গান দিয়ে। এও দেখার দিন আসল উর্দুতে আমাদের একাত্তরের কথা শুনতে হয়!

আমার এটিই জানার ইচ্ছা আমাদের দেশে উর্দু ভাষাকে কেন এখনও আমল দেয়া হচ্ছে? কেন মাদ্রাসায় এখনও উর্দু শেখানো হয়? ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করতে উর্দু জানা লাগে? আমাদের দেশে উর্দু শিখে কার কি লাভ হবে?

(সূত্র: আনহার্ড ভয়েসেস )

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

বাংলাদেশের নির্বাচন ২০০৮ এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার

আগামী ২৯শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বাংলাদেশ একটি বহুল প্রতিক্ষিত সংসদ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত নভেম্বরে সমাপ্ত বহুল প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল যে প্রার্থীরা সিটিজেন মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা এমনকি নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। তবে বাংলদেশের নির্বাচনের প্রেক্ষিত ভিন্ন কারন সাড়ে চোদ্দ কোটি লোকের শতকরা ১ ভাগেরও কম ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পান। যদিও নতুন প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে অনেকেই ব্লগ এবং ফেসবুক ব্যবহার করে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সচেষ্ট রয়েছেন। সামহোয়্যার ইন , সচলায়তন , আমার ব্লগ , মুক্তাঙ্গন, প্রথম আলো ব্লগ ইত্যাদি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্মে নির্বাচন সংক্রান্ত পোস্টে ভরে গেছে যেখানে যুক্তিপূর্ণ বিতর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্লগাররা একে অপরের মতাদর্শের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায়ও লিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এসব বিতর্ক আর মতামত কি করে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে যেখানে নীতিনির্ধারকরা, যেমন রাজনৈতিক নেতারা এবং সরকারী আমলারা ডিজিটাল মিডিয়া এবং এইসব কথোপকথন থেকে আপাত:দৃষ্টিতে দূরে থাকেন। বাংলাদেশে এখনও ঐতিহ্যবাহী মূলধারার প্রচার মাধ্যমেরই প্রভাব বেশী তবে সাম্প্রতিক কালে তাদের কারও কারও একপেশে রিপোর্টিং এর কারনে তাদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ওয়েবসাইট ইন্টারঅ্যাক্টিভ নয় ফলে জনগণের মতামতকে তারা আমল দিচ্ছেন কিনা তা বোঝার উপায় নেই। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী হাজারো প্রার্থীর মাত্র কয়েকজনকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রচারণায় নামতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি বক্তৃতাসর্বস্ব এবং প্রচারণামূলক, খুবই কম সুযোগ আছে মূল নেতাদের সাথে কথোপকথনের এবং তাদের কাছে জবাবদিহীতা চাওয়ার। তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষদের কিছুই বলার থাকেনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। তবে জাগরী নামে বাংলাদেশের যুবাদের একটি নির্দলীয় সংগঠন ফেইসবুক এবং ব্লগ ব্যবহার করছে যুবাদের জ্ঞাত এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে যাতে তারা রাজনৈতিক এবং নীতি নির্ধারনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশী করে অবদান রাখতে পারে।


আমরা কি? ছবি: জাগরীর সৌজন্যে

জাগরী বর্তমানে একটি প্রচারণা চালাচ্ছে ‘আমাদের ভোট, আমাদের কথা নামে'। তাদের ফেইসবুক পাতা থেকে এই ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানুন।



জাগরীর পরিকল্পনা ও সঞ্চালনা সংক্রান্ত মিটিং। ছবি জাগরীর সৌজন্যে

সাম্প্রতিক কালে জাগরীর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে একটি ডকুমেন্টারী তৈরি করে বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্যে ইউটিউবে তা প্রকাশ করা।




৫ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের এই ডকুমেন্টারীর লক্ষ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশীরা যাতে প্রার্থী সম্পর্কে জেনেশুনে ভোট দেন। এতে স্বাক্ষাৎকার দেয়া যুবারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। তবে এই ডকুমেন্টারী যুবাদের সেই আশাকেও তুলে ধরেছে যে একটি পরিবর্তন আসবে অচিরেই।

এ বারে নির্বাচন এবং অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের উপর অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। এখন প্রয়োজন বাংলাদেশীদের এইসব তথ্য সম্পর্কে জানা যাতে তারা সঠিক ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেন।

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যরত বেসরকারী সংস্থা সুজন একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাইট পরিচালনা করছে যাতে নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পর্কে বিপুল পরিমান তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই সাইটের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন সম্পর্কে বিভিন্ন সাধারণ তথ্য , নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী প্রার্থীদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং আরও অনেক কিছু। সুজনের আরও একটি বিশেষ পরিবেশনা রয়েছে। তাদের কাছে বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রায় ৪০০০ সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আর্কাইভ রয়েছে । নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের দুর্নীতির রেকর্ড কি রকম তা নাম অনুযায়ী খোঁজা যাবে ওই আর্কাইভ থেকে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সাইটেও নির্বাচন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, যেমন ভোটার লিস্ট , পিডিএফ ফরম্যাটে প্রার্থীদের প্রোফাইল এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রতি নির্দেশিকা

ই-বাংলাদেশ বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের লিন্ক প্রতিদিন প্রকাশ করছে এবং বিভিন্ন পর্যালোচনা ও তাজা খবর পরিবেশন করছে নাগরিক সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাদের বিশেষ নির্বাচন কাভারেজে (ইংরেজী ভাষায়)। এই সাইটে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন প্রার্থীদের তালিকা এবং বিভিন্ন দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের লিন্ক রয়েছে। এর আরেকটি সহপরিবেশনা, বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম আমার ব্লগ ও তাদের নির্বাচনী বিশেষ পরিবেশনা শুরু করেছে বাংলা ভাষায়। এই সাইটে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ও নাগরিক সাংবাদিকদের মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় ইংরেজী ভাষার গ্রপ ব্লগ আনহার্ড ভয়েসও নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে যাচ্ছে।

সর্বাধিক বৃহৎ বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম সামহোয়ার ইন “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” ইংরেজী দৈনিক দ্যা নিউ এইজ এর সাথে যৌথভাবে নির্বাচনের উপর একটি গ্রুপ ব্লগ শুরু করেছে। নিউ এইজ সংবাদপত্রও সম্প্রতি একটি নির্বাচন পোর্টাল চালু করেছে যাতে এই গ্রুপ ব্লগ থেকে নির্বাচিত লেখা এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও তাজা খবর প্রকাশ করছে। এটিই এ দেশে প্রথম এমন উদ্যোগ, যেখানে একটি মূলধারার প্রচার মাধ্যম তাদের হাউজের বাইরে কোন ব্লগের সাথে মিলে কিছু করছে। এই সাইটটিতে একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ ম্যাপ রয়েছে যেখানে পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে দেখানো হয়েছে।

নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারনায় প্রযুক্তির কম ব্যবহারের এই ধারার বিপরীতে আছেন ব্লগার এবং সাংবাদিক মাসকাওয়াথ আহসান , যিনি রাজশাহী -৬ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হয়েছেন এবং ফেসবুক ব্যবহার করে তার নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। চট্রগ্রাম ৬ আসনের ড: হাসান মাহমুদ একটি ইলেকশন ব্লগ খুলেছেন । চট্টগ্রাম-৮ (কোতয়ালী, বাকলিয়া ও ডবলমুরিং-আংশিক) আসনে জনাব আলহ্বাজ নুরুল ইসলাম ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে একটি ক্যাম্পেইন সাইট খুলেছেন। সেই সাইটে ইউটিউব ব্যবহার করে বেশ কিছু ক্যাম্পেইন করেছেন যা অবশ্যই অনুকরনযোগ্য।

সবাই এটি এখন দেখার অপেক্ষায় যে বাংলাদেশীরা নির্বাচনের সময় ব্লগ, ভিডিও (যেমন ইউটিউব), ফটোগ্রাফ (যেমন ফ্লিকার), টুইটার ইত্যাদি বিভিন্ন নাগরিক মিডিয়া টুল কিভাবে ব্যবহার করে তাদের মতামত জানায়।

মূল: গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইনে ইংরেজীতে প্রকাশিত ও বাংলা লিঙ্গুয়ায় অনুবাদ হিসেবে প্রকাশিত।

Tuesday, December 16, 2008

আমাদের সংবাদপত্রের বর্তমান হাল ও আশার আলো হিসেবে ব্লগ

বিজয় দিবস এসে গেছে। পত্র পত্রিকায় বেশুমার পাতা ভরানো আর্টিকেল পাবেন দিনটিকে উপলক্ষ্য করে। কিন্তু সেগুলোতে খুব কমই দেখা যায় নতুনত্ব, গভীরতা ও সত্যের ছায়া।

একটি জনপ্রিয় পত্রিকায় অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে একটি রিপোর্ট হয়েছে যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নানা সাইট সম্পর্কে বলা হয়েছে। খুবই মহৎ উদ্যোগ। এতদিনে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে বলে অভিনন্দন।

কিন্তু খটকা লাগল সাইটগুলোর বর্ণনা পড়ে:

"ইউ টিউব (http://www.youtube.com) সহ বিভিন্ন সাইট মুক্তিযুদ্ধের তথ্য, ঘটনাপ্রবাহ আর মতামতে ভর্তি৷ জেনোসাইড বাংলাদেশ (http://www.genocidebangladesh.org) নামের সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে জর্জ হ্যারিসনের বাংলাদেশ গানটি৷"

জেনোসাইড বাংলাদেশ সাইটে জর্জ হ্যারিসনের গান ডাউনলোড করার কোন অপশন নেই। ইউটিউবে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের ভিডিও সার্চ করা যায় সেটার ব্যখ্যা প্রয়োজন ছিল। লেখাটা পড়ে মনে হয়েছে যে লেখক সাইটগুলোর ভেতরে গিয়ে কিছু পড়েন নি। তাহলে হয়ত বলতেন না:

"ইন্টারনেটে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার কোনো কাজ এখনো শুরু হয় নি"

আশা করব উনি এই ত্রিশটি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইটগুলোর প্রতিটি পড়বেন এবং তার পর আবার মন্তব্য করবেন।



আজকাল প্রচার মাধ্যমের সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মানুষের মনে। এই তো সাম্প্রতিক 'বাংলার তাজমহল' সংক্রান্ত বিতর্কে দেখা গেছে দেশী বিদেশী প্রচার মাধ্যমগুলো লোকমুখে শুনে সরেজমিনে তদন্ত না করেই অতিরন্জিত রিপোর্ট করেছে আর সামহোয়ার ইনের ব্লগাররা এই কেলেন্কারী উদঘাটন করেছে

আমাদের দেশের পেশাদারী সাংবাদিকদের অভিযোগ করতে শোনা যায় যে ব্লগে গভীর কিছু নেই, গালাগালিতে ভর্তি। যেন ব্লগে খালি গুজব ছড়ানো হয় আর প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমে সত্য রিপোর্টের ছড়াছড়ি। অথচ উপরের ঘটনাগুলো এর বিপরীত কিছুই প্রমাণ করে।

ব্লগের সুবিধা হলো এখানে কেউ পয়সার বিনিময়ে ফরমায়েসী লেখা লেখে না, মনের তাগিদেই লেখে। আর অসত্য ও মিথ্যা বলে এখানে কেউ পার পায় না। কারন কমিউনিটিই বিচার করে, যাচাই বাছাই করে সত্যতা। সাথে সাথেই কমেন্ট পড়ে। অযৌক্তিক, সূত্র ছাড়া কিছু বলে পালাবার উপায় নেই। সংবাদপত্রগুলোকে বলছি সাহস থাকলে অনলাইন সংস্করণগুলোতে কমেন্ট চালু করুন। প্রতিটি সংবাদেরই যৌক্তিকতা প্রমান হয়ে যাবে।

মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Monday, December 15, 2008

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে


"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।"

আল বাঘদাদিয়া চ্যানেলের ইরাকী সাংবাদিক মুন্তাজের আল জাঈদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বুশের দিকে জুতো ছুড়ে প্রতিবাদ জানানোর সাহস করল এই বলে "ইরাকী জনগণের কাছ থেকে উপহার নাও"।

আপনাদের আশে পাশে রাজনৈতিক সমাবেশে যখনই কোন যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযোদ্ধাদের হজ্জ্ব ডেলিগেশনে নিয়ে যাবার মূলো ঝুলাবে তখনই জানিয়ে দেয়া উচিৎ যে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সাথে হজ্জ্বে যেতে রাজী নয় এমনকি তাদের সাথে বেহেস্তেও যাবে না । সেটা না পারলেও কি নিদেন পক্ষে কেউ কি মুন্তাজের আল জাঈদির মত সাহস দেখিয়ে পায়ের জুতোর সদ্ব্যবহার করতে পারবে?

আপনাদের আশে পাশে যখন বিশ্ব বেহায়া সমাবেশে নাটকীয় সুরে বলবে আমি শেখ হাসিনার বড় ভাই তখন ও কি কারও জাঈদির মত সাহস হবে প্রতিবাদ করার?

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন