Monday, December 17, 2007

এই হচ্ছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বক্তব্য:

২০০৭
"বিজয় দিবস হচ্ছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার দিন। এ দিবস শুধু দলে দলে ঐক্য করে না, ধর্মে ধর্মে বিশ্বাসে বিশ্বাসেও ঐক্য করে। তাই এই দিনের চেতনায় সবাই মিলে ভেদাভেদ ভুলে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"

"বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের, আমরা একে চালাবো। সব ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। আমাদের এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।" (সুত্র)

১৯৭১

"বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের ইসলামী ছাত্র সংস্থার বদর দিবসে রেলীতে পাকিস্তানের একাত্বতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবী জানানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের বক্তারা ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে অনুপ্রানিত হয়ে ইসলামের জন্যে যুদ্ধ করার জন্যে আহ্বান জানানো হয় এবং ভারতের ষড়যন্ত্রকে রুখার আহ্বান জানানো হয়।

উক্ত সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আলী আহসান মুজাহিদ বলেছেন যে এটি শুধু পাকিস্তানের মুসলমানদের জন্যেই যুদ্ধ নয় সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যেও যুদ্ধ। তিনি বলেছেন বায়তুল মুকাদাদস (?) বিজিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।

জনাব মুজাহিদ বলেন আজ থেকে কোন লাইব্রেরী হিন্দু লেখক বা হিন্দুদের সপক্ষে মুসলিম লেখকদের বই রাখতে পারবে না। তিনি বলেছেন বদর বাহিনীর লোকেরা এই সব বই পুড়িয়ে ফেলবে যাতে মুসলমানরা অমুসলিম ধারনা দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়।"

কাজেই একদিকে তিনি সব হিন্দু লেখকদের লেখা বই পূড়িয়ে ফেলতে বলেছেন আর এখন বলছেন সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির কথা। তিনি ইসলাম ধর্ম গেল বলে ধুয়া তুলেছেন অথচ যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে এটি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোন ব্যাপার ছিল না।
একদিকে পাকিস্তান ও ইসলাম অক্ষুন্ন রাখার জন্যে বদরের যুদ্ধের কথা তিনি একাত্তুরে বলেছেন অপর দিকে এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বলছেন বিষয়টি সবার গুরুত্বপূর্ন সহকারে ভেবে দেখাই উচিৎ।

আরও কিছু তথ্য: -  http://www.nybangla.com/Muktijoddho/Muzahid/Ali

প্রথম প্রকাশ: সামহোয়্যার ইন

Friday, December 14, 2007

তাহাদের কথা

সে বছর দুই আগের কথা। কামা'র ব্লগ পড়ে আৎকে উঠেছিলাম। কামা হচ্ছে একটি বাঙালী হিন্দু মেয়ে যার বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম ও কলকাতা উভয় পরিমন্ডলে

কামা বিলেতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন স্বঘোষিত দেবদাসী। তার মতে পুরুষের সাথে যৌনসংসর্গ হচ্ছে স্বর্গীয় এবং তাকে তার দেবতার কাছে নিয়ে যায়।

দেবদাসী একটি বহুকালের হিন্দু সামাজিক রীতি যেখানে কিশোরীদের দেবতার সাথে বিয়ে দেয়া হয়। ঐতিহাসিকভাবে দেবদাসীরা ব্রম্হচারী হলেও অনেক স্থানেই তাদের পুস্পিত আচার অনুষ্ঠানের পর একজনের কাছে তুলে দেয়া হয় যে প্রথম রাতের জন্যে তাকে কিছু দক্ষিনাও দিয়ে থাকে। এদের অনেকে পরবর্তীতে মন্দিরে বা আশ্রমেই থাকে এবং পুজারী বা অন্যান্যদের ভোগের সামগ্রী হয় বলে কথিত আছে। ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক সংখক দেবদাসীই পরবর্তীতে দেহব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরে।

কামার গল্প কিছুটা ভিন্ন। ছোটকালে দেবদাসী হিসেবে তার অভিষেক হবার পরে সে সাধারন সমাজেই বসবাস করেছে। পরবর্তীতে সে বিলেতে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করছে এবং সাথে সাথে দেহব্যবসাও শুরু করেছে। তার ওয়েবসাইটটি দেখলেই বুঝবেন কতটা গোছানো তার ব্যবসা। ফি থেকে শুরু করে লোকজনের তার সম্পর্কে অভিমত, ছবি ইত্যাদি বিবিধ কিছু রয়েছে।

ইগো ম্যাগাজিনে এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন:

উদ্ধৃতি
ব্রিটিশদের অত্যাচারে ভারতের দেবদাসীরা আরাধনার স্থান (মন্দির) থেকে সাধারনের সমাজে চলে এসেছে এবং বিয়েসাদী করে সাধারন জীবনযাপন করছেন। তাদের বেশ্যা হিসেবে অপবাদ দেয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে দাবিয়ে রাখার জন্যে। আমি দেবদাসী জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি অর্থনৈতিক ও যৌন স্বাধীনতা পাবার জন্যে যাতে আমি দক্ষিন এশিয়ার পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বলয় থেকে বের হতে পারি।

এখন বিতর্ক হকেই পারে যে সে কোন কারনে এটি করছে এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যাগুলো যুক্তিযুক্ত কিনা। হয়ত তার কথা লোকমুখে শুনে তার সম্পর্কে আমাদের ঋণাত্ক ধারনাই হতো শুধু। তবে ব্লগ এবং নিউ মিডিয়া সম্ভব করেছে তার কথা/চিন্তাধারা সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিবহাল করতে। ব্লগের মাধ্যমে এটাও সম্ভব তাকে কোন প্রশ্ন করা এবং তার কাছ থেকে উত্তর পাওয়া।

পরিশেষে আপনাদের আরেকটি প্রকল্পের কথা জানাচ্ছি। 'কলম' হচ্ছে কলকাতার প্রান্তিক যুবাদের নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান যা তাদের সাহিত্য প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেয় ও তাদের লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইন এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাইজিং ভয়েসেস এর ক্ষুদ্রঋণ সহায়তায় তারা 'নেইবারহুড ডায়রীজ' নামে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার মাধ্যমে কলকাতার বউ বাজার এলাকার রেডলাইট এরিয়ার যুবাদের নাগরিক সাংবাদিক (সিটিজেন জার্নালিস্ট) হিসেবে গড়ে তুলবে যাতে তারা তাদের পরিবেশ/ধারনা সম্পর্কে পৃথিবীকে অবহিত করতে পারে। তাদেরও সৃজনশীরতা রয়েছে সাহিত্য সৃষ্টি করার। এখানে এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে ।

হয়ত একদিন নিউ মিডিয়ার কল্যানে আমরা এইসব দুরে সরিয়ে রাখা মানুষদের আরও ভালভাবে বুঝতে পারব এবং আমাদের মাঝে আপন করে নেব।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Sunday, November 25, 2007

এই অক্ষমতাকে কোথায় রাখি

হারিকেন সিডরের দেশ জুড়ে তান্ডবের চিত্র ইথারের মাঝ দিয়ে ভেসে আসে। কম্পিউটারের স্ক্রীনে ভয়ন্কর সব সংখ্যা, তথ্য, পরিসংখ্যান দেখি, ব্লগে লিখি, মতামত দেই বা ত্রান যোগাড়ের চেষ্টা করি। তার মাঝেও দৈনন্দিন গতানুগতিক সিডিউলের কোন পরিবর্তন হয়না। প্রবাস জীবন-ঘড়ি এভাবেই চলে।

আজ কয়েকদিন পর দেশে ফোন করলাম। বাবা জানালেন বরিশাল ও ভোলা যাচ্ছেন। পুরনো কাপড় কিছু জড়ো করেছেন এবং কিছু নগদ সাহায্য দেবেন দুর্গতদের খুঁজে বের করে। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে থাকলাম তার কথা যে দুর্গত লোকজন তো কাজ করতে চায়না না খালি সাহায্যের জন্যে বসে থাকে। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে ওদের দিয়ে বিধ্বস্ত বাড়ীর জন্য উপকরন কিনে দিয়ে তাদের দিয়ে মেরামতের কাজ করাবেন এবং দিনের কাজ শেষে টাকা দান করবেন। আমার দেহঘড়ি রিফ্লেক্সবশত: ৭১ বছর বয়সী পিতার শারীরিক সামর্থ ও নানা রোগের কথা চিন্তা করে তাকে থামাতে চায়; বলতে চায় "তুমি কেন যাবা, কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দাও না। এতদিন থাকার দরকার কি?"

কিন্তু আমার তখন কন্ঠরোধ হয়ে আসে। আমি তাকে আশাহত করার মতো বেয়াদবী করতে গিয়েও করি না। আমার কিছু টাকা দান করার মত ভন্ডামিও করতে বলিনা। আমি স্পষ্ট আমার অক্ষমতাটুকু দেখতে পাই।

এই বিপুল ঘুর্ণিঝড় পীড়িত লোকদের জন্যে দরকার কিছু সাহায্যের হাত যা শুধু কিছু টাকা সদকা দিয়েই দায়িত্ব এড়াবে না, নিজের পরিশ্রম দিয়ে (যে কোন প্রকারেরই হোক) সাহায্য পৌছে দেবার কাজটি করবে ও তাদের পূনর্বাসনে সাহায্য করবে।

সেরকমটি আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকলেও না করাটা লজ্জারই বটে। সেই লজ্জাই আমাকে আজ আমার পিতা দিয়েছেন এবং অপরাধী করেছেন।

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Saturday, November 10, 2007

হেমন্ত পার হয়ে মৌসুমের প্রথম তুষারপাত

আমরা জানি যে বাংলাদেশ সবুজের প্রতীক। কিন্তু জার্মানীতে আসার পর গ্রীস্মকালে এত সবুজ দেখেছি যে দেশে না থাকার কষ্ট কিছুটা হলেও ভূলে থাকা গেছে।

ইউরোপের হেমন্ত বেশ রঙ্গীন। অক্টোবর মাস জুড়ে গাছের সবুজ পাতাগুলো দ্রুত রং বদলিয়ে লাল আর হলুদের বিচিত্র দ্যোতনা সৃষ্টি করে। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। এরপর শুরু হয় পাতা ঝরা। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। ঝড়ো হাওয়ার পর ঝির ঝির শব্দে পাতা পড়তে থাকে। পাতাগুলো বোটার দিকে কেন্দ্র করে কেমন ঘুরতে ঘুরতে নামে থেমে দাড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়।

এইসময়ে সাহেব-সুবোদের কাজ বেড়ে যায়। গাছ যতই ন্যাড়া হয় রাস্তায়, ফুটপাতে, গাড়ীতে, লনে সর্বত্র পাতার আচ্ছাদন বাড়ে। নিয়মিত পরিস্কার না করলে বৃষ্টির পানিতে পচে গন্ধ হবে। কিন্তু আমাদের অব্যর্থ অস্ত্র ঝাড়ুর কন্সেপ্টটি এদের নেই। ব্লোয়ার এবং অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা কাজে নামে। প্রচুর ইলেক্ট্রিসিটি বা তেল পুড়িয়ে বহু সময় ধরে তারা এইসব ঝরাপাতা রাস্তায় কিছু পর পর জড়ো করে এবং পরে একটি ক্রেনওয়ালা ট্রাক এসে এগুলো নানা কসরতে তুলে সৎকারের জন্যে নিয়ে যায়। মিথ্যে বলছি না এটি পড়ে দেখুন

এরপর তাদের প্রতীক্ষা কখন বরফ পড়বে। ঠিকমত বরফ না পড়লে ইকলজিকাল ভারসাম্য রক্ষা হয়না। গতবারের খুবই সামান্য তুষারপাতের জন্যে এবার গ্রীষ্মে মশা ও অন্যান্য পোকা মাকড়ের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। এক বাংলাদেশী গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বললেন তাদের শীত বস্ত্রের চালানের অর্ডার এবার তারা জার্মানী থেকে কম পাচ্ছেন কারন গতবারের অনেক পোষাক অবিক্রিত রয়েছে।

জার্মান আবহাওয়ার পূর্বাভাষ সাধারনত: অব্যর্থ হয়। তাই যখন শুনলাম শনিবার দিন বরফ পড়বে আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

কিন্তু সকাল থেকেই আবহাওয়া দেখলাম গত দিনগুলির বিষন্নভাবের চেয়ে ভাল। রৌদ্রের দেখা পাওয়া গেল কিছু সময়। সকালে ৫ ডিগ্রি দিয়ে শুরু হলেও রৌদ্রের দরুন ৮-৯তে পারদ উঠে গেল আর আমিও নিশ্চিন্তে ২০ কিমি দুরের তুর্কী হাটে সাপ্তাহিক বাজারে গেলাম। সাথে নেয়া মান্কী ক্যাপটি কাজে লাগলো না কারন বাতাসে চিল ফ্যাক্টর কম। ভাবলাম আবহাওয়া পূর্বাভাষ তাহলে ভুল।

দুপুর বেলায় বাসায় ফিরে খেয়ে দেয়ে কম্পিউটারে বসেছি। হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হলো। একটু পরেই দেখি চিৎকার "আসো আসো বরফ দেখে যাও"। জানালার বাইরে তাকালাম - খুবই ক্ষুদ্র আকারে সাদা সাদা কি যেন পড়ছে বৃষ্টির সাথে; থার্মোমিটারে তখন ৫ ডিগ্রি। দৌড়ে ব্যালকনিতে গেলাম। আস্তে আস্তে সাদার পরিমান বাড়ল এবং কিছুক্ষন পর বরফের একটি হালকা আস্তরন পড়ল সমস্ত খোলা যায়গায়। ফিরে এসে থার্মোমিটারে দেখলাম ২ ডিগ্রি।
কিছুক্ষন পরে বরফ পরা থামলো এবং আস্তে আস্তে বরফের আস্তরনগুলো গলতে শুরু করলো। এমনই মজার ছিল এই মৌসুমের প্রথম তুষারপাত।

পাতার বিবর্তন পাতার বিবর্তন      প্রথম তুষারপাত  প্রথম তুষারপাত

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন

Thursday, November 08, 2007

রাইজিং ভয়েসেস এর দ্বিতীয় কিস্তির অনুদানের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বান করা হচ্ছে

গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইন (একটি অলাভজনক সিটিজেন মিডিয়া প্রজেক্ট) বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সিটিজেন মিডিয়া টুলগুলো প্রসারের জন্যে ‘রাইজিং ভয়েসেস’ নামক প্রকল্প গঠন করেছে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে ইন্টারনেট ক্রমান্বয়ে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু অনেকেই ব্লগিং, ভিডিও ব্লগিং এবং পডকাস্টিং জাতীয় টুলগুলোর সুবিধা বা এগুলো কিভাবে সহজে ব্যবহার করা যায় সে সম্পর্কে জানেননা। বর্তমানে বেশীরভাগ ব্লগ, পডকাস্ট এবং ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছে বিশ্বের বড় শহরগুলো থেকে মধ্যবিত্ত নাগরিকদের কমিউনিটি।

‘রাইজিং ভয়েসেস’ এর লক্ষ্য হচ্ছে নতুন নতুন কমিউনিটি থেকে নতুন কন্ঠগুলোকে ওয়েবের আলাপে (conversational web) নিয়ে আসা।

গত জুলাইতে মাসে প্রথম রাউন্ডে ৬০টা দেশ থেকে যে ১৪২টি দরখাস্ত এসেছিল তার থেকে ৫টি প্রকল্পকে অনুদান দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাংলাদেশ, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, ভারত আর সিয়েরা লিওনের।

বাংলাদেশের নারী জীবন প্রকল্প রাইজিং ভয়েসেস ক্ষুদ্র অনুদানের সহায়তায় বাংলা, ইংলিশ এবং কম্পিউটার ক্লাসের মাধ্যমে বাংলাদেশী নারীদের ব্লগিং, ফটোগ্রাফী এবং ভিডিওব্লগিং করতে শেখাচ্ছেন। আপনারা ‘বাংলাদেশ ফ্রম আওয়ার ভিউ’ এই ইংরেজী ব্লগে এবং 'আমাদের কথা' নামক বাংলা ব্লগে এইসব নারীদের লেখা দেখতে পারবেন। আমি এদের নিয়ে আগেও লিখেছি।

রাইজিং ভয়েসেস তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডের ৫০০০ ইউএস ডলার পর্যন্ত মাইক্রোগ্রান্ট (ক্ষুদ্র অনুদান) সহায়তার জন্যে প্রকল্প প্রস্তাব জমা নিচ্ছে। এই অনুদান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূলত: নাগরিক মিডিয়া প্রসারের প্রকল্পগুলোর জন্য। আদর্শ প্রার্থীরা বিস্তারিত আর উদ্ভাবনমূলক প্রস্তাব দেবেন যেখানে তারা সুবিধাবন্চিত জনগনকে নাগরিক মিডিয়ার কলাকৌশল আর ব্লগিং, ভিডিও ব্লগিং পডকাস্টিং ইত্যাদি নতুন মিডিয়া টুল সম্পর্কে জানাবে ও শিক্ষা দেবে এবং তাদের কাছে এই প্রযুক্তিগুলো সহজলভ্য করবে যাতে তারা অন্য সবার মত নিজেদের প্রকাশ করতে পারে বিশ্বের কাছে।

বিস্তারিত গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলায়

দরখাস্ত জমা দেয়ার শেষ তারিখঃ নভেম্বর ৩০, ২০০৭

Friday, October 26, 2007

অস্বীকার



জামাত বলছে যে এদেশে কোন যুদ্ধোপরাধী নেই। বিস্তারিত এখানে

Sunday, October 21, 2007

অন্য নারীদের কথা

জার্মান ব্লগগুলোতে যারা লেখালেখি করেন তাদের অনেকেরই খুব নাক উঁচু। এক শ্রেনীর ব্লগাররাতো তাদের লেখার সাহিত্যমান নিয়ে খুবই সচেতন। কারো কারো ব্লগে লেখা নিয়ে রীতিমত রিডিং সেশন হয়। একবার একজন রাস্তায় খাবার বিক্রেতা একটি ব্লগে লেখা শুরু করল এবং তা খুব জনপ্রিয় হলো। সেই ব্লগে একদিন একজন মন্তব্য করল যে এরপরে আমরা দেখব যে একজন ক্লোফ্রাউ (টয়লেট পরিস্কারকারী নারী) ব্লগিং শুরু করেছে। এই মন্তব্য জার্মান ব্লগোস্ফিয়ারকে দুভাগ করে দিল। একদল বলল আরে ভারী মজা হবে তো -শুরু হোকনা। আরেকদল নাক সিটকালো। বলল সাহিত্যমান ছাড়া আবার ব্লগ হয় নাকি? সব আনকালচারড, অশিক্ষিতের ভিড়ে ব্লগের বারোটা বাঁজতে দেরী নেই। বিতর্কটি এখনও হয়তো চলছে সেখানে। কিন্তু সেদিন টিভিতে ডকুমেন্টারী দেখলাম এক ঘানার মহিলা ক্লোফ্রাউ জার্মান একটি শহরের টয়লেটে কাজ করে তার আয় থেকে জমিয়ে তার দেশে একটি এতিমখানা চালাচ্ছে। কি উজ্জ্বল এবং অনন্য সে এসব অনেক কালচার্ড এর মাঝে থেকেও।

বাংলাদেশে ব্লগিংয়ের চিত্রটি পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় সাধারনত: মধ্যবিত্ত -উচ্চ মধ্যবিত্তরাই ব্লগায়। কারন একটাই- ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও মুল্য। উচ্চবিত্তদের বিনোদনের অন্যান্য উপায় রয়েছে। নিন্মবিত্তদের নেই কোন উপায়।

সাহিত্য চর্চা ও বইপ্রকাশনার দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানে উচ্চ এবং উচ্চ মধ্যবিত্তের দাপট। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে বই প্রকাশ করে বন্ধুদের মাঝে বিলোতে হয়। অথচ মধ্যবিত্ত অথবা নিন্ম মধ্যবিত্ত অনেক লেখক বছরের পর বছর অপেক্ষা করে একটি বই ছাপানোর সুযোগের জন্যে। ইন্টারনেট তাদের জন্যে হতে পারে একটি অপুর্ব সুযোগ। উদাহরনস্বরুপ আমি সচলায়তনের ই-বুকের কথা বলব

কিন্তু আমাদের দেশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেনী রয়েছেন। তারা হচ্ছেন প্রান্তীক ও কর্মজীবি নারীরা। এদের মধ্যে কাউকে আপনারা দেখেন সকালে টিফিন ক্যারিয়ার হাতে মিছিল করে চলতে। তাদের গতিতেই দেশের গতি, বৈদেশিক মুদ্রা, অথবা মালিকের মার্সিডিজ অফরোড ভেহিকেল।

তাদের কন্ঠ কি আমরা কখনও কেউ শুনতে চেয়েছি? জানতে চেয়েছি তাদের প্রিয় চলচিত্র কি? তাদের মা কি কষ্ট করে তাদের এত বড় করেছেন? তাদের সুখদু:খ, দেশভাবনা, আশা বেদনার কথা?

ইন্টারনেট একটি খুবই উর্বর মাধ্যম। গ্লোবাল ভয়েস অনলাইন হার্ভার্ড ল স্কুলের বার্কম্যান সেন্টার ফর ইন্টারনেট এন্ড সোসাইটিতে (সমাজে ইন্টারনেটের প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক নাগরিক মাধ্যম (সিটিজেন মিডিয়া) প্রকল্প। তাদের আরেকটি নুতন প্রকল্প হচ্ছে রাইজিং ভয়েসেস। এটির উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ওয়েবে আন্ডার রিপ্রেজেন্টেড কমিউনিটির কন্ঠগুলোকে তুলে ধরা। তাদের ৫০০০ ডলার মূল্যের মাইক্রোগ্র্যান্ট পেয়েছেন পাঁচটি সংগঠন যার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশের নারী জীবন প্রকল্প

কাজী রফিক ইসলাম এবং ক্যাথি ওয়ার্ড হচ্ছেন ঢাকার নারী জীবন প্রকল্পের যথাক্রমে সমন্বয়কারী এবং নির্বাহী পরিচালক। এদের ওয়েবসাইট থেকে আপনি জানতে পারবেন তারা ঢাকার যুবনারীদের নিয়ে চোখে পড়ার মত কাজ করছেন। রাইজিং ভয়েসেস ক্ষুদ্র অনুদানের সহায়তায় তাদের বর্তমানে সেবাদানরত বাংলা, ইংলিশ এবং কম্পিউটার ক্লাসের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশী নারীদের ব্লগিং, ফটোগ্রাফী এবং ভিডিওব্লগিং করতে শেখাচ্ছেন। আপনারা ‘বাংলাদেশ ফ্রম আওয়ার ভিউ’ এই ইংরেজী ব্লগে এবং 'আমাদের কথা' নামক বাংলা ব্লগে এইসব নারীদের লেখা দেখতে পারবেন। এইখানে প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে।

ওদের বাংলা ব্লগটি আমার মনযোগ আকর্ষন করেছে। যদিও লেখাগুলো কিছুটা সম্পাদন করা হয়েছে, তবুও এইসব নারীদের গ্রামের বধুর সৌন্দর্য নিয়ে পদ্য, মায়ের মৃত্যু, বা কর্মজীবি মহিলার সংগ্রামের কথা ওগুলো মৌলিক এবং সবই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আমরা হয়ত এরকম কিছু কখনও পত্রিকায় দেখেছি রিপোর্টারের চোখে। কিন্তু এখানে তাদের নিজস্ব কথা তারা নিজেরাই টাইপ করেছে তাদের কম্পিউটার শিক্ষার অংশ হিসেবে। এরকম আরও কত গল্প রয়েছে আপনারা নিজেরা পড়ে দেখুননা।

আমি চিন্তা করছি কোনদিন কি ইন্টারনেট আমাদের সমাজে শ্রেনীভেদ ঘুঁচিয়ে নিজেকে প্রকাশ করার সমান অধিকার দেবে? কোন দিন কি এদের মাঝ থেকে কোন লেখকের বই আমাদের শেল্ফে শোভা পাবে?

প্রথম প্রকাশ: সচলায়তন